বায়ুদূষণে আজ রোববার সকালে বিশ্বের ১১৯ নগরীর মধ্যে চতুর্থ ঢাকা। আজ এ নগরীর বায়ুর মান অস্বাস্থ্যকর। এপ্রিল মাসের অর্ধেকটা পার হয়ে গেছে। এ সময়টায় সাধারণত বায়ুর মান কিছুটা ভালো থাকে। কিন্তু চলতি মাসে প্রায় প্রতিদিন বায়ুর মান অস্বাস্থ্যকর থেকেছে। বায়ুর মান উন্নত করতে নতুন কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। সরকারি উদ্যোগগুলো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।
আজ সকাল নয়টার দিকে ঢাকার বায়ুর মান ১৫৭। বায়ুর এ মান মানুষের জন্য অস্বাস্থ্যকর। এ সময় আইকিউএয়ারে ৪০৮ মান নিয়ে শীর্ষে ছিল ভারতের দিল্লি।
বায়ুদূষণের এ পরিস্থিতি তুলে ধরেছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার। প্রতিষ্ঠানটি বায়ুদূষণের অবস্থা নিয়মিত তুলে ধরে। বাতাসের মান নিয়ে তৈরি করা এই লাইভ বা তাৎক্ষণিক সূচক একটি নির্দিষ্ট শহরের বাতাস কতটা নির্মল বা দূষিত, সে সম্পর্কে মানুষকে তথ্য দেয় ও সতর্ক করে।
রাজধানীসহ দেশের বায়ুদূষণ কমাতে একের পর প্রকল্প এবং নানা কথা বলা হলেও দূষণ কমছে না। এ নগরীর দূষণ কমানোর ‘প্রাকৃতিক উপায়’ হলো বৃষ্টি। সাধারণত এপ্রিল বা মে মাসে ঝড়বৃষ্টি বাড়ে, তাতে দূষণ কমে। কিন্তু এখন তা–ও কমছে না।
কেন এ পরিস্থিতি—তা জানতে চাইলে বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) চেয়ারম্যান আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার আজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘বায়ুদূষণ কমাতে গতানুগতিকতার বাইরে নতুন কোনো উদ্যোগ দেখছি না। তেমন কোনো তৎপরতাও নেই। বায়ুদূষণ কমাতে কোনো লক্ষ্য বা কর্মপরিকল্পনা আছে বলেও মনে হয় না।’
ঢাকার বায়ুদূষণের মূল উপাদান অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা বা পিএম ২.৫। এ ছাড়া আছে ব্ল্যাক কার্বনসহ আরও কিছু উপাদান।
অধ্যাপক কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, ‘অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা বৃষ্টির পরও বায়ুমণ্ডলে সপ্তাহখানেক ধরে থেকে যায়। তাই বৃষ্টির পর সাময়িকভাবে দূষণ কমে আসে। কিন্তু দ্রুতই তা আগের অবস্থায় ফিরে আসে। একে নিয়ন্ত্রণ করার কোনো উদ্যোগ আমি দেখছি না, কোনো পরিকল্পনাও নেই।’
আজ ঢাকার বেশি দূষিত এলাকাগুলো
আজ বায়ুদূষণে শীর্ষে আছে পুরান ঢাকার বেচারাম দেউড়ি। এ এলাকার বায়ুমান ১৬৬। এরপর যথাক্রমে আছে উত্তর বাড্ডার আবদুল্লাহবাগ (১৪৪), দক্ষিণ পল্লবী (১৩৯), বারিধারা পার্ক রোড (১৩৪)।
সুরক্ষায় নগরবাসী যা করবেন
আইকিউএয়ারের পরামর্শ অনুযায়ী, আজ ঢাকায় বায়ুর যে মান, তাতে বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। বাড়ির বাইরে গিয়ে ব্যায়াম না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আর ঘরের জানালাগুলো যতটা সম্ভব বন্ধ রাখতে হবে।