
রাজধানী ঢাকার লালবাগ ও কামরাঙ্গীরচর থানার ইসলামবাগ এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে থাকা প্লাস্টিকসহ অন্যান্য বর্জ্য ১৫ দিনের মধ্যে অপসারণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান, ঢাকার জেলা প্রশাসক, লালবাগ ও কামরাঙ্গীরচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার প্রতি এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইআরপিবি) করা সম্পূরক এক আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ বুধবার এ আদেশ দেন। আদেশ বাস্তবায়ন বিষয়ে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে বুড়িগঙ্গার পানিদূষণ বন্ধে এইআরপিবির করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১০ সালে হাইকোর্ট কয়েক দফা নির্দেশনাসহ রায় দেন। নির্দেশনা অনুসারে বুড়িগঙ্গার পানিদূষণ বন্ধে নদীর তীরে যেকোনো প্লাস্টিক বা অন্যান্য বর্জ্য ফেলে রাখতে নিষেধ করা হয়। অবশ্য ইসলামবাগে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে শত শত প্লাস্টিকসহ অন্যান্য বর্জ্য ফেলে রাখার বিষয়ে ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারে গত ১৯ আগস্ট ছবিসহ একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এটি যুক্ত করে ৩০ আগস্ট সম্পূরক আবেদনটি করে এইআরপিবি।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তাঁকে সহায়তা করেন আইনজীবী সঞ্জয় মন্ডল ও নাছরিন সুলতানা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খাঁন জিয়াউর রহমান।
পরে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ প্রথম আলোকে বলেন, বুড়িগঙ্গার পানিদূষণের কারণে ঢাকার পরিবেশ মারাত্মক দূষিত হচ্ছে। হাইকোর্ট ২০১০ সালে কয়েক দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দেন। এ সত্ত্বেও ঢাকার ইসলামবাগ এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে শত শত প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলে রাখা হয়েছে, যা বুড়িগঙ্গার পানিতে পড়ে দূষণ বাড়াবে। যে কারণে সম্পূরক আবেদনটি করা হয়। শুনানি নিয়ে আদালত ওই আদেশ দেন।