বায়ু, শব্দ, দৃষ্টিদূষণ ও প্লাস্টিক দূষণ কমাতে দেশে আইন ও নীতিমালা থাকলেও এর যথাযথ প্রয়োগ হচ্ছে না। দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারকে কঠোরভাবে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি বিকল্প ব্যবস্থা সহজলভ্য করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।
আজ মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সেমিনারে এসব দাবি তুলে ধরে বাপা। ‘বায়ু-শব্দ-দৃষ্টি-প্লাস্টিক দূষণ: প্রতিকার কত দূর?’ শীর্ষক এ সেমিনারে পরিবেশবিদ, শিক্ষক ও নগরবিদেরা বক্তব্য দেন।
সেমিনারে বাপা জানায়, দেশে প্রতিদিন প্রায় ২৫ হাজার টন কঠিন বর্জ্য তৈরি হয়। এর মধ্যে ঢাকায় উৎপন্ন হয় প্রায় ৭ হাজার ৫০০ টন। মোট বর্জ্যের ৫৫ শতাংশই অপরিকল্পিতভাবে খোলা জায়গায় ফেলা হয়। বছরে প্রায় ৮ লাখ টন প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হচ্ছে। এসব বর্জ্য নদী, জলাশয়, ভূগর্ভস্থ পানি ও পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি করছে।
বাপার গবেষণায় বলা হয়, ঢাকায় বায়ুদূষণের প্রধান উৎস নির্মাণকাজ ও রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি। এ খাত থেকে দূষণের ৩০ শতাংশ আসে। ইটভাটা ও শিল্পকারখানা থেকে ২৯ শতাংশ এবং যানবাহন থেকে ১৫ শতাংশ দূষণ হচ্ছে।
শব্দদূষণও নগরবাসীর জন্য বড় সংকট হয়ে উঠেছে। ঢাকার ৮২ শতাংশ এলাকায় শব্দের মাত্রা ৬০ ডেসিবেলের বেশি। ফার্মগেট, শাহবাগ ও গাবতলীর মতো এলাকায় তা ৮০ থেকে ১১০ ডেসিবেল পর্যন্ত ওঠে। এতে শ্রবণশক্তি ক্ষতি, ঘুমের ব্যাঘাত, মানসিক চাপ ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ছে।
দৃষ্টিদূষণের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। বাপার উপস্থাপনায় বলা হয়, ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ঢাকায় বিলবোর্ডের সংখ্যা ৫১ শতাংশ বেড়ে ১৩ হাজার ৯৯৭টিতে পৌঁছেছে। এতে নগরের সৌন্দর্য ও বসবাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সেমিনারে বাপার পক্ষ থেকে দূষণ নিয়ন্ত্রণে ১০ দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে ফিটনেসবিহীন ও কালো ধোঁয়া ছড়ানো যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, অবৈধ ইটভাটা বন্ধ, সরকারি কাজে ব্লক ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা এবং শিল্পকারখানায় অনলাইন বায়ুমান পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালুর দাবি রয়েছে।
এ ছাড়া শব্দদূষণের অভিযোগ জানাতে ৯৯৯ ও হটলাইনের প্রচার বাড়ানো, শব্দদূষণ বিধিমালা ২০২৫ কঠোরভাবে প্রয়োগ, যানবাহনের নিয়মিত শব্দ পরীক্ষা এবং রাত ১০টার পর LED আলোর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের সুপারিশ করা হয়।
বাপার সভাপতি অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ তারেকদার বলেন, পলিথিন ও প্লাস্টিক দূষণ কমাতে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব বিকল্প সহজলভ্য করতে হবে।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, রাত ১২টার পর দেশের সব বিলবোর্ড বন্ধ করলে দৃষ্টিদূষণ কমার পাশাপাশি বিদ্যুতের অপচয়ও কমবে। বর্ষার পর কাঠ পুড়িয়ে ইট তৈরি করা সব ইটভাটা বন্ধ করা হবে বলেও জানান তিনি।