স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত আজ  ‘কমিউনিটি মেন্টাল হেলথ: আ পাথওয়ে টু ইনক্লুসিভ সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য দেন
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত আজ  ‘কমিউনিটি মেন্টাল হেলথ: আ পাথওয়ে টু ইনক্লুসিভ সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য দেন

কমিউনিটিভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় নতুন প্রকল্প করছে সরকার: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

মানসিক স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কমিউনিটিভিত্তিক নতুন প্রকল্প প্রণয়নের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। প্রাথমিকভাবে ২০টি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জ পর্যালোচনা করে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে এ সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্য রয়েছে।

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার বাংলা একাডেমিতে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন। ‘কমিউনিটি মেন্টাল হেলথ: আ পাথওয়ে টু ইনক্লুসিভ সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে আঁচল ফাউন্ডেশনসহ চারটি বেসরকারি সংগঠন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা শুধু চিকিৎসার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। প্রতিরোধ, প্রাথমিক পর্যায়ে সমস্যা শনাক্তকরণ, চিকিৎসা, মনোসামাজিক সহায়তা ও পুনর্বাসনের সমন্বয়ে কার্যকর সেবাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সেবাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং প্রয়োজনে বিশেষায়িত কেন্দ্রে রোগী পাঠানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। স্বাস্থ্য, সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং আইন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সমন্বিত উদ্যোগও জরুরি।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য জরিপ ২০১৯ অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১৮ বছরের বেশি বয়স্ক ব্যক্তিদের ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ এবং ৭ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের ১৩ দশমিক ৬ শতাংশের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্যসমস্যা ছিল। তাঁদের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের ৯২ দশমিক ৩ শতাংশ এবং শিশু-কিশোরদের ৯৪ দশমিক ৫ শতাংশ কোনো চিকিৎসা নেয়নি।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের (এইচআরডিসি) পরিচালক ও মানসিক স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞ মো. জিয়ানুর কবির। তিনি বলেন, সামাজিক কুসংস্কার, ভয়, লজ্জা ও বৈষম্যের কারণে অনেকে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিতে চান না। এ অবস্থা পরিবর্তনে উপজেলা ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পর্যায়ে সেবা সম্প্রসারণ, দক্ষ জনবল তৈরি এবং প্রযুক্তিনির্ভর কাউন্সেলিং চালু করা প্রয়োজন।

জিয়ানুর কবির জেলা ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মনোবিজ্ঞানী নিয়োগ, স্বতন্ত্র মানসিক স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা এবং নির্যাতন ও সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের জন্য মনোসামাজিক সহায়তা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার সুপারিশ করেন। পাশাপাশি কমিউনিটিভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক কামাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী মানসিক স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বাড়ানো এবং প্রতিটি উপজেলায় অন্তত দুজন কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কার নিয়োগের সুপারিশ করেন। তিনি মা ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতিও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রীর যুব কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী মো. সাইয়েদ বিন আবদুল্লাহ বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা এবং কাউন্সেলিংয়ের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। সংসদ সদস্য শিরিন সুলতানা বলেন, শারীরিক অসুস্থতার মতো মানসিক কষ্ট, উদ্বেগ ও দীর্ঘস্থায়ী ঘুমের সমস্যার ক্ষেত্রেও পেশাদার সহায়তা নেওয়াকে স্বাভাবিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

আঁচল ফাউন্ডেশনের সভাপতি তানসেন রোজ স্বাগত বক্তব্যে বলেন, মানসিক স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞের অপর্যাপ্ততা রয়েছে। এ আমাদের কমিউনিটিভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্যের ইকোসিস্টেম তৈরি করতে হবে। সমাজের সম্মুখসারির মানুষদের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাঁদের সাইকোসোশ্যাল কাউন্সেলর হিসেবে তৈরি করতে হবে।

সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেন, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দা শাজিয়া শারমিন, লিডোর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ফরহাদ হোসেন এবং হিউম্যান রিলিফ ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. ওবায়দুর রহমান। বক্তারা মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে সহজলভ্য ও বৈষম্যহীন করতে প্রশিক্ষিত জনবল বাড়ানো এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন।