হাইকোর্ট ভবন
হাইকোর্ট ভবন

শাকসু নির্বাচনের কার্যক্রম চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের কার্যক্রম স্থগিত হয়েছে। এই নির্বাচন অনুষ্ঠানের অনুমতি দিয়ে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ১৫ জানুয়ারি জারি করা প্রজ্ঞাপনের সব ধরনের কার্যক্রম চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট।

এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ সোমবার রুলসহ এ আদেশ দেন।

দীর্ঘ ২৮ বছর পর আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টায় এই নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার কথা ছিল। এর এক দিন আগে এই নির্বাচনের কার্যক্রম চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত হলো। নির্বাচনের অনুমতি দিয়ে ১৫ জানুয়ারি ইসির জারি করা প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী মমিনুর রশীদসহ দুজন প্রার্থী ও একজন শিক্ষার্থী গতকাল রোববার রিটটি করেন। শুনানির জন্য আদালতের আজকের কার্যতালিকায় রিটটি ৩ নম্বর ক্রমিকে ওঠে। শুনানি নিয়ে মধ্যাহ্নবিরতির পর আদেশ দেন আদালত।

আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. রুহুল কুদ্দুস, মনিরুজ্জামান আসাদ ও রাশনা ইমাম শুনানিতে ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক, সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ শফিকুর রহমান ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মহিউদ্দিন মো. হানিফ।

শাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে বলে জানান রিট আবেদনকারীদের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনিরুজ্জামান আসাদ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, নির্বাচন অনুষ্ঠানের অনুমতি দিয়ে ইসির ১৫ জানুয়ারি জারি করা প্রজ্ঞাপনের সব কার্যক্রম চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। অনুমতিসংক্রান্ত ইসির ১৫ জানুয়ারির প্রজ্ঞাপন কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।

বিকেল সোয়া চারটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়েছে। এখন শুনানির অপেক্ষায়।

এর আগে গত বছরের ১৬ নভেম্বর শাকসু নির্বাচনের ঘোষিত তফসিল অনুসারে গত ১৭ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। এরপর নির্বাচনের তারিখ নিয়ে আন্দোলন, ছুটি নিয়ে বিতর্ক ও সর্বশেষ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। এরপর গত ২৩ নভেম্বর নির্বাচনের নতুন তারিখ জানায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ অনুসারে শাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন ১৭ ডিসেম্বরের পরিবর্তে ২০ জানুয়ারি ঠিক করা হয়।

পরবর্তী সময় ১২ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন এক বিজ্ঞপ্তিতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব ধরনের নির্বাচন অনুষ্ঠান বা আয়োজন না করার জন্য নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে পেশাজীবী সংগঠনসহ দেশব্যাপী সব সংগঠনের নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারির পর আয়োজনের কথা বলা হয় ওই বিজ্ঞপ্তিতে।

এ অবস্থায় নির্বাচন আয়োজনের জন্য অনুমতি দিতে ইসিতে ১৪ জানুয়ারি অনলাইনে চিঠি পাঠায় সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৫ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন শাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের অনুমতি দেয়।

ইসির এ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নির্ধারিত আচরণবিধি প্রতিপালন সাপেক্ষে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন ২০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। এ লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমতি প্রদান করেছে। এ বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে। ইসির অনুমতিসংক্রান্ত ১৫ জানুয়ারির সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিটটি করা হয়।