
কোনো আসনে আদালতের আদেশে ৮ ফেব্রুয়ারি বা এর পরে প্রার্থী তালিকায় পরিবর্তন হলে (প্রার্থিতা ফিরে পাওয়া বা বাতিল) ওই আসনের সব পোস্টাল ভোট বাতিল করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আজ বৃহস্পতিবার জারি করা পোস্টাল ব্যালট গণনাসংক্রান্ত হালনাগাদ বিশেষ পরিপত্রে এ কথা বলা হয়েছে।
পরিপত্রে ‘কতিপয় ক্ষেত্রে পোস্টাল ব্যালট গণনায় অন্তর্ভুক্ত না করা’ বিষয়ে বলা হয়েছে, কোনো আসনের পোস্টাল ব্যালট ভোট গণনা শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছে না পৌঁছালে এ পোস্টাল ব্যালট গণনার অন্তর্ভুক্ত হবে না।
এ ছাড়া গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের অনুচ্ছেদ ২৭–এর দফা (১০)(৩) অনুসারে প্রাসঙ্গিক সময়ে কোনো আদালতের আদেশে যদি কোনো নির্দিষ্ট নির্বাচনী আসনের প্রার্থী তালিকায় পরিবর্তন ঘটে, তাহলে এ আসনের সব পোস্টাল ব্যালট বাতিল হবে। ‘প্রাসঙ্গিক সময়’ বলতে মোট পাঁচ দিন তথা ভোট গ্রহণের দিনসহ পূর্ববর্তী চার দিন সময়কে বোঝাবে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, এই হিসাবে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রাসঙ্গিক সময় বলতে ৮ ফেব্রুয়ারি ও তৎপরবর্তী সময়কে বোঝাবে।
রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো পরিপত্রে বলা হয়, ‘৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পরবর্তী সময়ে আদালতের রায়ে প্রার্থী তালিকায় পরিবর্তন ঘটলে সংশ্লিষ্ট আসনের সকল পোস্টাল ব্যালট বাতিল মর্মে গণনার বাইরে থাকবে।’
নিজ নির্বাচনী এলাকার বাইরে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি এবং কারাবন্দীদের পাশাপাশি এবারই প্রথম প্রবাসে থাকা বাংলাদেশি ভোটাররা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, ৩০০ সংসদীয় আসনে আগামী নির্বাচনের জন্য মোট ১৫ লাখ ২৭ হাজার ১৫৫ জন ভোটারের পোস্টাল ভোট নিবন্ধন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রবাসী ৭ লাখ ৬০ হাজারের কিছু বেশি। অন্যরা দেশ থেকে নিবন্ধন করেছেন।
গতকাল বুধবার প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন–বিষয়ক ‘ওসিভি-এসডিআই’ প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান জানান, ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করা ৪ লাখ ৩২ হাজার ৯৮৯ জন প্রবাসী ভোটার ভোটদান সম্পন্ন করেছেন।
নির্বাচন কমিশন বলেছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটের মধ্যে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে ব্যালট পৌঁছাতে হবে। এই সময়ের পর কোনো ব্যালট পৌঁছালে, তা গণনা করা হবে না।