জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের নামে ছড়ানো ফটোকার্ডটি ভুয়া
জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের নামে ছড়ানো ফটোকার্ডটি ভুয়া

নির্বাচন ২০২৬: ফ্যাক্ট চেক

জামায়াত আমিরের নামে ভুয়া ফটোকার্ড

যে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে তথ্যটি ছড়ানো হয়েছে, সেখান থেকে নিয়মিত একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে বিভ্রান্তিকর ফটোকার্ড ছড়ানো হয়।

ভোটের মাঠে প্রচারের সঙ্গে অপপ্রচারও বেড়ে চলেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এই অপপ্রচারের লক্ষ্যবস্তু হচ্ছেন রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা। জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানও হয়েছেন তার শিকার।

শফিকুর রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়েছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে, তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘জাতির পিতা ঘোষণা করেছেন’। গত ২৭ জানুয়ারি গোপালগঞ্জ-১ আসনে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন জামায়াতের আমির। সেখানে বক্তব্যে তিনি এই ঘোষণা দেন বলে ফটোকার্ডটিতে দাবি করা হয়।

যাচাই করে শফিকুর রহমানের বক্তব্য শুনে এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তাঁর এমন কোনো বক্তব্য কোনো সংবাদমাধ্যমেও আসেনি। ফটোকার্ডটিতে স্বীকৃত কোনো গণমাধ্যমের লোগো বা প্রকাশের তারিখ পাওয়া যায়নি। এর ডান পাশে ওপরের দিকে ‘আহমেদ বাপ্পি’ নামে ইংরেজিতে একটি লোগো দেখা যায়। ওই সূত্র ধরে সংশ্লিষ্ট ফেসবুক অ্যাকাউন্টে অনুসন্ধান চালিয়ে মূল পোস্টটি পাওয়া যায়। দেখা যায়, সেখান থেকে নিয়মিত একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে এবং প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর ফটোকার্ড ছড়ানো হয়।

তারেক রহমানের মনোনয়ন বাতিলের খবরটি ভুয়া

‘দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে’—এমন দাবিসংবলিত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে। তবে যাচাই করে এর সত্যতা পাওয়া যায়নি।

ভিডিওটিতে দেখা যায়, একজন নারী উপস্থাপক জানাচ্ছেন যে দ্বৈত নাগরিকত্বের কারণে তারেক রহমানের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে এবং সাতটি আসনে যাচাই-বাছাইয়ে ১৬ জনের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। পরে আরেক প্রতিবেদকের কথোপকথন যুক্ত করে একই দাবি পুনরাবৃত্তি করা হয়। ভিডিওর পরবর্তী অংশে আরেক উপস্থাপককেও একই তথ্য দিতে শোনা যায়।

ভিডিওটির কি-ফ্রেম বিশ্লেষণে দেখা যায়, এটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল যমুনা টিভির একটি সংবাদ অনুষ্ঠানের ভিডিও ব্যবহার করে তৈরি। ভুয়া ভিডিওটিতে মূল ভিডিও রিভার্স করে তাতে ভিন্ন অডিও সংযোজন করা হয়েছে।

সংঘর্ষে ৩ জন নিহতের খবর ভিত্তিহীন

‘বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে ৩ জন নিহত হয়েছেন’ দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি খবর ছড়িয়েছে। যাচাইয়ে দেখা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে দুই দলের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও তিনজন নিহত হওয়ার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি কোনো সংবাদমাধ্যমে। আলোচিত দাবিতে প্রচারিত পোস্টগুলোতেও কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র উল্লেখ করা হয়নি। এমনকি ‘ভিডিও লিংক কমেন্টে’ থাকার দাবি করা হলেও কোনো ভিডিও সেখানে পাওয়া যায়নি।