
সরকারের একজন উপদেষ্টা, বিশেষ সহকারী ও নির্বাচন কমিশন সচিবকে হঠাৎ করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত করা হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের আর এক মাসও নেই; এমন একটা সময়ে এই তিনজনকে এমন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক নিয়োগ করা নিয়ে একাধারে বিস্ময় ও প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে।
বিশেষত এই তিনজনের কারও এভিয়েশন ব্যবসার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা বা অতীতে কোনো যুক্ততাও ছিল না। তার ওপর জাতীয় নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনের এই সময়ে নির্বাচন কমিশন সচিবের অন্যদিকে মনোযোগ দেওয়ার মতো সময়ও পাওয়ার কথা নয়। বাকি দুজনেরও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে।
গতকাল বুধবার জারি করা বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তন আনা হয়। পরিচালক পদে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং রোহিঙ্গাবিষয়ক হাই রিপ্রেজেনটেটিভ খলিলুর রহমান (উপদেষ্টা পদমর্যাদা), ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশ বিমান আইন, ২০২৩-এর ধারা ৩০ (বি)-এর আওতায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক পদে তাঁদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
আরেক প্রজ্ঞাপনে বিমানের পরিচালনা পর্ষদ থেকে দুজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তাঁরা হলেন সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার ইন চিফ এবং ইমার্জিং ক্রেডিট রেটিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নূর-ই খোদা আব্দুল মোবিন।
হঠাৎ তিনজনকে বিমানে পরিচালনা পর্ষদে আনা নিয়ে বিভিন্ন মহলে ও সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকে বলছেন, পরিচালনা পর্ষদে এমন তিনজনকে যুক্ত করা হয়েছে, যাঁদের একজন জাতীয় নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত, একজন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিভিন্ন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনায় ব্যস্ত। আরেকজন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দুটি মন্ত্রণালয় নিয়ে ব্যস্ত থাকেন।
এ বিষয়ে বিমানের পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সদস্য কাজী ওয়াহিদুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, এ সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হলো, তা বোঝা কঠিন। তিনি বলেন, এমন তিনজনকে পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত করা হয়েছে, তিনজনই এই মুহূর্তে রাষ্ট্রীয় কাজে সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত। তাঁরা নিজেদের কাজ করে কখন আবার বিমানে সময় দেবেন। তা ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারেরও মেয়াদ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। হয়তো বিমান নিয়ে সরকারের কোনো বড় ধরনের চিন্তা বা পরিকল্পনা থাকতে পারে। কিন্তু সেটা নির্বাচনের মাত্র এক মাস আগে কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকবেই।
বিমানকে সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পরিচালনার লক্ষ্যে এটিকে ২০০৭ সালে কোম্পানি করা হয়। শতভাগ সরকারি মালিকানাধীন এই কোম্পানিকে লাভজনক করার জন্য তখন বিভিন্ন উদ্যোগও নেওয়া হয়। কিন্তু বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে এটাকে ক্রমেই আবার আমলানির্ভর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হয়।
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এসে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন নিজেই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান। ১৩ সদস্যের এ পর্ষদের অন্য সদস্যরা হলেন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব, অর্থসচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সহকারী বিমানবাহিনীর প্রধান (পরিচালন), অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন, অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর ও চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট আলী আশফাক।