
বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) দুটি ক্যাটাগরিতে সেরা প্রতিবেদন পুরস্কার (বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড) পেয়েছেন প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক মাহমুদুল হাসান। অপরাধবিষয়ক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এবং সাইবার অপরাধবিষয়ক প্রতিবেদনের জন্য তিনি পুরস্কার দুটি পান।
আজ শনিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে মাহমুদুল হাসানের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এ বছর ‘এ-ফোর বসুন্ধরা পেপার ও ক্র্যাব বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড-২০২৫’ পেয়েছেন আরও পাঁচ সাংবাদিক। বিজয়ীদের হাতে ক্রেস্ট, সনদ ও চেক তুলে দেওয়া হয়।
অপরাধবিষয়ক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন (টিভি) ক্যাটাগরিতে যৌথভাবে পুরস্কার পেয়েছেন মো. শাহরিয়ার আরিফ (চ্যানেল টোয়েন্টিফোর) ও নাঈম আল জিকো (নিউজ টোয়েন্টিফোর)।
সাইবার অপরাধ, নারী ও শিশু এবং মানব পাচার (প্রিন্ট) ক্যাটাগরিতে মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে যৌথভাবে পুরস্কার পান আদনান রহমান (ঢাকা পোস্ট)। আর টিভি ক্যাটাগরিতে মো. রাশেদ নিজাম (যমুনা টিভি) পুরস্কার পান।
মাদকবিষয়ক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রিন্ট ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন মোহাম্মদ জামিল খান (দ্য ডেইলি স্টার)।
‘জমির বিরোধে খুন, দুর্ঘটনায় মৃত্যু, তবু তাঁরা জুলাই শহীদ’ শীর্ষক প্রতিবেদনের জন্য অপরাধবিষয়ক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন (প্রিন্ট ও অনলাইন) ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পান মাহমুদুল হাসান। আর সাইবার অপরাধ, নারী ও শিশু এবং মানব পাচার (প্রিন্ট ও অনলাইন) ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন ‘সরকারি তথ্য আবার ফাঁস’ শীর্ষক প্রতিবেদনের জন্য।
এর আগে গত বছরও ‘অপরাধবিষয়ক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন’ ক্যাটাগরিতে ক্র্যাবের বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড পান মাহমুদুল হাসান। একই বছর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ডে প্রথম পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি।
এ বছর ক্র্যাবের বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। ক্র্যাবের সভাপতি মির্জা মেহেদী তমালের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশা অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।
অনুষ্ঠানে শেখ মো. সাজ্জাত আলী সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘পুলিশ কমিশনার হিসেবে যতই চেষ্টা করি আপনাদের বন্ধু বানানোর, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় আপনারা আমাকে ছাড় দিয়েন না। আমার সহকর্মীদেরও আপনারা ছাড় দেন না, সেটা আমার জানা। আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি পুলিশের সঙ্গে, বিশেষ করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সঙ্গে যাতে আপনাদের একটা সেতুবন্ধ থাকে। আপনারা আপনাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করবেন।’
মির্জা মেহেদী তমাল বলেন, অপরাধ ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সত্য তুলে ধরে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে আসছে অপরাধবিষয়ক সাংবাদিকতা। ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জের মধ্যেও সাহসিকতার সঙ্গে তথ্যভিত্তিক ও দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন অপরাধবিষয়ক প্রতিবেদকেরা। দেশের এমন সাহসী ও মানসম্মত অপরাধবিষয়ক সাংবাদিকতাকে স্বীকৃতি ও উৎসাহ দিতেই ক্র্যাব প্রতিবছর বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড প্রদান করে।