সেলিনা হায়াৎ আইভী
সেলিনা হায়াৎ আইভী

চারটি হত্যা মামলাসহ পাঁচ মামলায় আইভীর জামিন বহাল থাকবে কি না, তা জানা যেতে পারে ৩ মে

হত্যার অভিযোগে চারটিসহ পৃথক পাঁচ মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল থাকবে কি না, তা আগামী ৩ মে জানা যেতে পারে।

ওই পাঁচ মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা পৃথক লিভ টু আপিলের (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) ওপর আদেশের জন্য আগামী ৩ মে দিন ধার্য করেছেন আপিল বিভাগ। শুনানি নিয়ে জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ আজ সোমবার আদেশের এ দিন ধার্য করেন।

ওই পাঁচ মামলার মধ্যে চারটি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় করা হত্যা মামলা এবং অপরটি হচ্ছে হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় করা মামলা। এই পাঁচ মামলায় গত ২৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট আইভীর জামিন প্রশ্নে রুল দিয়ে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন।

ওই জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে পৃথক আবেদন করে। শুনানি নিয়ে ৫ মার্চ আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত আইভীকে হাইকোর্টের দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন জামিন স্থগিত করেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনগুলো আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য নির্ধারণ করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের ওপর আজ শুনানি হয়।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফাতেমা আক্তার শুনানি করেন। আইভীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন, সঙ্গে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোতাহার হোসেন (সাজু) ও আইনজীবী এস এম হৃদয় রহমান।

গত বছরের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগের নিজ বাসা থেকে আইভীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র–জনতার আন্দোলনে দমন–পীড়নের ঘটনায় দায়ের হওয়া তিনটি হত্যা মামলা ও দুটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

প্রথম পাঁচ মামলায় হাইকোর্ট থেকে গত বছরের ৯ নভেম্বর জামিন পান কারাবন্দী সেলিনা হায়াৎ আইভী। এই জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে পৃথক পাঁচটি আবেদন করে। শুনানি নিয়ে চেম্বার আদালত গত বছরের ১২ নভেম্বর হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনগুলো আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান। আবেদনগুলো আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায়।

দ্বিতীয় দফায় পাঁচ মামলায় ২৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট থেকে জামিনের পর আইভীকে আরও দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর এবং ২০২৫ সালের ৩০ জুন করা দুটি (হত্যার অভিযোগ) মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। একটিতে ২ মার্চ ও অপর মামলায় ১২ এপ্রিল গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

উল্লেখ্য, ২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ছিলেন আইভী। পরে নবগঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের টানা তিনটি নির্বাচনে জয়ী হন তিনি।