এম. সাকিব
এম. সাকিব

নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের এক কর্মীকে টিএসসি থেকে আটক করে শাহবাগ থানায় সোপর্দ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকা থেকে এক শিক্ষার্থীকে ধরে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করেছেন জাতীয় ছাত্রশক্তির কয়েকজন নেতা। তাঁদের দাবি, এই শিক্ষার্থী নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর টিএসসি এলাকায় তাঁকে দেখতে পেয়ে ধরে নিয়ে যান এনসিপির সহযোগী সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতারা।

এই শিক্ষার্থীর নাম এম. সাকিব। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলের ২০২১-২২ সেশনের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী। জুলাই আন্দোলনে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনায় তাঁর নামে দুটি মামলা রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়।

২০২৪ সালের ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় অংশগ্রহণ করায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয় সাকিবকে।

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান প্রথম আলোকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমরা স্যারের সাথে কথা বলে ওর (সাকিব) নামে মামলা আছে কি না যাচাই করব। যদি মামলায় তাঁর (সাকিবের) নাম থাকে, তাহলে সেই মামলায় চালান দেব। আর না হলে আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।’

ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশফাক ফারহান হিমেল প্রথম আলোকে বলেন, ‘আজকে টিএসসিতে থাকাকালীন আমরা একটা ছেলেকে নোটিশ করি যে ১৫ জুলাইতে হামলাকারীদের মধ্যে একজন ছিল এবং সে পরবর্তী সময়ে ৩ আগস্ট পর্যন্ত অনেক সহিংসতামূলক পোস্ট দিয়েছে এবং সবাইকে হুমকির ওপর রেখেছে এবং তার ফেসবুক অ্যাক্টিভিটিও খুবই ন্যক্কারজনক।’

আশফাক আরও বলেন, ‘আমরা জিজ্ঞেস করেছি যে তুমি এখানে কেন এসেছ, তুমি তো বহিষ্কৃত। সে বলেছে, আমি আমার ভর্তিপ্রক্রিয়ার জন্য এসেছি। যার সাথে ওর (সাকিবের) ফেসবুক অ্যাড ছিল, তার ফোন দিয়ে আমরা চেক করলাম যে তার ফেসবুকে সহিংসতামূলক পোস্টগুলো অ্যাকটিভ দেখাচ্ছে এবং আমরা এই বিষয়টাকে একটা থ্রেট হিসেবে দেখছি যে সে তো কোনো খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে আসতে পারে। তাই আমরা প্রক্টরিয়াল টিমকে ডেকে তাদের গাড়িতে করেই শাহবাগ থানায় আসি এবং শাহবাগ থানায় দায়িত্বরত পুলিশের কাছে তাকে হস্তান্তর করি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, সে (সাকিব) আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়েরই ছাত্র। শাহবাগ থানায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের নামে দুটি মামলা রয়েছে। এসব মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই তাকে পুলিশের কাছে দেওয়া হয়েছে।