
ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (আইইউবিএটি) তাদের সব ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রামের জন্য ‘আন্তর্জাতিক অ্যাক্রেডিটেশন’ অর্জনের গৌরব উদ্যাপন করেছে।
গতকাল মঙ্গলবার আইইউবিএটি ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এ ঐতিহাসিক মাইলফলক উদ্যাপন করা হয়।
বিএইটিই অ্যাক্রেডিটেশন কী
অ্যাক্রেডিটেশন হলো একটি স্বাধীন বিশেষজ্ঞ সংস্থা কর্তৃক কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান ও গুণগত মানের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি। বাংলাদেশে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি শিক্ষার মান নিশ্চিত করার একমাত্র অনুমোদিত সংস্থা হলো ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের (আইইবি) অধীনস্থ ‘বোর্ড অব অ্যাক্রেডিটেশন ফর ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশন’ (বিএইটিই)।
আইইউবিএটির উপাচার্য অধ্যাপক আবদুর রব বলেন, এই সংস্থা যখন কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ, ল্যাবরেটরি ও কারিকুলাম পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই করে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ঠিক পায়, তখনই সে প্রোগ্রামকে অ্যাক্রেডিটেশন প্রদান করে। বিএইটিই যেহেতু আন্তর্জাতিক চুক্তি ‘ওয়াশিংটন অ্যাকর্ড’-এর পূর্ণ সদস্য, তাই তাদের দেওয়া এ স্বীকৃতির গুরুত্ব বিশ্বজুড়ে। ফলে এই আন্তর্জাতিক অ্যাক্রেডিটেশন অর্জন করা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিধারী শিক্ষার্থীরা বিশ্বের উন্নত দেশগুলোয় বাড়তি কোনো যোগ্যতা যাচাই ছাড়াই উচ্চশিক্ষা ও বহুজাতিক কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে সমমর্যাদা ও বিশেষ অগ্রাধিকার লাভ করতে পারেন।
স্বীকৃতি পেল যেসব প্রোগ্রাম
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আইইউবিএটির চারটি মূল ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রাম—ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই), কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই), সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (সিইএমই)—আইইবির অধীন বিএইটিই কর্তৃক ওয়াশিংটন অ্যাকর্ডের আওতায় ছয় বছরের জন্য আন্তর্জাতিক অ্যাক্রেডিটেশন লাভ করেছে। দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে চারটি প্রোগ্রামের একসঙ্গে এ স্বীকৃতি অর্জন একটি অনন্য সাফল্য।
উৎসবমুখর পরিবেশে বর্ণাঢ্য উদ্যাপন
এ অর্জনকে ঘিরে মঙ্গলবার আইইউবিএটি ক্যাম্পাস ছিল উৎসবমুখর। দিনব্যাপী আয়োজনটি শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুর রবের সভাপতিত্বে আলোচনা সভার মাধ্যমে। এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ট্রেজারার ও পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক সেলিনা নার্গিস, কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির ডিন অধ্যাপক দেওয়ান মুহাম্মদ নুরুজ্জামান, আইইউবিএটি স্কুল অব কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিন অধ্যাপক উৎপল কান্তি দাস, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. মনিরুল ইসলামসহ অন্যান্য শিক্ষক ও কর্মকর্তা।
অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অ্যালামনাইদের অংশগ্রহণে ক্যাম্পাসে আনন্দ শোভাযাত্রা হয়। দিনব্যাপী আয়োজনে আরও ছিল শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ছিল একুশে পদকপ্রাপ্ত জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘ওয়ারফেজ’-এর পরিবেশনা।
আইইউবিএটির শিক্ষার্থীরা যে সুবিধা পাবেন
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, এই স্বীকৃতির ফলে শিক্ষার্থীরা বিদেশে উচ্চশিক্ষা, স্কলারশিপ এবং বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ পাবেন। ওয়াশিংটন অ্যাকর্ডভুক্ত এই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক পেশাগত জীবনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং নিয়মিত মূল্যায়নের মাধ্যমে কারিকুলাম ও শিক্ষাদানের মান আরও উন্নত হবে।
১৯৯১ সালে প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ অধ্যাপক এম আলিমউল্লাহ মিয়ানের হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত আইইউবিএটি বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে একটি অগ্রণী প্রতিষ্ঠান। শুরু থেকেই একাডেমিক উৎকর্ষ, গবেষণা ও উদ্ভাবনে প্রতিষ্ঠানটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুনাম অর্জন করে আসছে। অ্যাক্রেডিটেশন অর্জন তারই ধারাবাহিকতা।