
রাজধানীর জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত ১১ জন দুই চোখের দৃষ্টি চিরতরে হারিয়েছেন। আর ৪৯৩ জন চিরতরে হারিয়েছেন এক চোখের দৃষ্টি।
আজ সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ দেওয়া জবানবন্দিতে এসব কথা বলেছেন হাসপাতালটির রেটিনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক যাকিয়া সুলতানা।
গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে করা মামলায় ২১তম সাক্ষী হিসেবে যাকিয়া সুলতানা ট্রাইব্যুনালে এই জবানবন্দি দেন। অপর দুই আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।
জবানবন্দিতে যাকিয়া সুলতানা বলেন, হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নেওয়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত ২৮ জন দুই চোখে গুরুতর দৃষ্টি স্বল্পতায় ভুগছেন। ৪৭ জন এক চোখে গুরুতর দৃষ্টি স্বল্পতায় ভুগছেন। আর ৪৩ জন এক চোখে সাধারণ দৃষ্টি স্বল্পতায় ভুগছেন।
জবানবন্দির সময় যাকিয়া সুলতানার পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনায় দেখা যায়, আন্দোলনে আহত ৮৬৪ জন হাসপাতালটিতে ভর্তি হয়েছিলেন।
যাকিয়া সুলতানা জবানবন্দিতে বলেন, হাসপাতালটিতে যেসব রোগী চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন, তাঁদের অধিকাংশই মেটালিক পেলেট, কেউ কেউ রিয়েল বুলেটে আহত ছিলেন। রোগীদের আহত হওয়ার ধরন ছিল চোখের কর্নিয়া ছিদ্র হয়ে যাওয়া, চোখের সাদা অংশ ছিদ্র হয়ে যাওয়া, চোখ ফেটে যাওয়া, চোখের রেটিনা আঘাতপ্রাপ্ত হওয়া ও চোখে রক্তক্ষরণ।