রায় ঘোষণার পর আজ বুধবার আসামিদের আদালত থেকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে
রায় ঘোষণার পর আজ বুধবার আসামিদের আদালত থেকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে

গোপালগঞ্জের শ্রমিকনেতা সাঈদুর হত্যায় ৫ আসামির মৃত্যুদণ্ড

১০ বছর আগে গোপালগঞ্জ জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি সাঈদুর রহমান হত্যার ঘটনায় করা মামলায় পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া ৪ আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড ও ১১ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১–এর বিচারক মো. রহিবুল ইসলাম এ রায় দেন। মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী এস এম শরীফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া পাঁচ আসামি হলেন বুলবুল শেখ, হেদায়েত শেখ, তফসির শেখ, কিবরিয়া আল কাজী ও ঝন্টু শেখ।

আমৃত্যু কারাদণ্ড পাওয়া চার আসামি হলেন মিন্টু শেখ, কেনাই মোল্লা, আলিমুজ্জামান বিটু ও প্রিন্স খাঁ।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া ১১ আসামি হলেন ইকবাল খাঁ, টুটুল শেখ, রনি শেখ, আক্রাম আলী, হাবিল কাজী, বুলবুল কাজী, সজীব শেখ, পনির শেখ, শিহাব শেখ, রাশেদ শেখ ও শওকত শেখ।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবদুর রশীদ মোল্লা বলেন, প্রত্যেক আসামিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।

রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ ও বাদীপক্ষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে।

সাঈদুরের স্ত্রী বিলকিস আক্তার ও মেয়ে জয়া বলেন, দীর্ঘ ১০ বছর পর রায় হলো। তাঁরা এ রায়ে সন্তুষ্ট। তবে তাঁরা চান, এ রায় যেন বহাল থাকে এবং কার্যকর হয়। এ রায় কার্যকর হলে ভবিষ্যতে কেউ আর এ রকম নৃশংস ঘটনা ঘটানোর সাহস করবে না।
আইনজীবী ও আদালত সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় গোপালগঞ্জ শহরের জেলা পরিষদ কার্যালয়ের সামনে সাঈদুরকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে আহত করে সন্ত্রাসীরা। তাঁকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়।

পরদিন সকালে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় একই বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি গোপালগঞ্জ সদর থানায় সাঈদুরের ছোট ভাই জাসু শেখ একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১৭ জনকে আসামি করা হয়।

২০১৬ সালের ১২ জুলাই ২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২০১৭ সালের ২৯ আগস্ট গোপালগঞ্জের দায়রা জজ আদালত অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন। ২০১৮ সালের ১৬ আগস্ট মামলাটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এ পাঠানো হয়। আজ মামলার রায় হলো।