বিমানবন্দরের বাইরে মুঠোফোন হাতে বসে আছেন নরসিংদীর রফিকুল ইসলাম। তাঁর ফ্লাইট বাতিল হয়েছে
বিমানবন্দরের বাইরে মুঠোফোন হাতে বসে আছেন নরসিংদীর রফিকুল ইসলাম। তাঁর ফ্লাইট বাতিল হয়েছে

এ পর্যন্ত ১৪৭ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে একের পর এক ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে। আজ মঙ্গলবার বেলা একটা পর্যন্ত ৩৮টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে গত শনিবার থেকে এ পর্যন্ত মোট ১৪৭টি ফ্লাইট বাতিল হলো।

ফ্লাইট বাতিলের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মধ্যপ্রাচ্যগামী যাত্রীরা। বিমানবন্দর সূত্র জানায়, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহর ফ্লাইট পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। তবে চালু আছে সৌদি আরবের রিয়াদ, জেদ্দা ও দাম্মামের ফ্লাইট।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যৌথ হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধসহ উদ্ভূত নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে ফ্লাইট বাতিল করা হচ্ছে।

আজ দুপুরে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গিয়ে মধ্যপ্রাচ্যগামী অনেক যাত্রীকে বাড়িতে ফেরত যেতে দেখা যায়। আবার অনেকে বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন। তাঁরা বলছিলেন, বাতিল হওয়া ফ্লাইট আবার কবে কখন চালু হবে, সে ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু জানেন না। তাই অপেক্ষা করছেন।

এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইটে ভারতের মুম্বাই, ওমানের মাসকাট হয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে যাওয়ার কথা ছিল মৌলভীবাজারের দীপু চন্দ্র শীলের। আজ বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটের ফ্লাইট ধরতে তিনি খুব সকালে বিমানবন্দরে হাজির হন

বিমানবন্দরে বোর্ডিং পাসের সময় তাঁকে আটকে দেওয়া হয়। বলা হয়, যাওয়া যাবে না।

দীপু চন্দ্র শীল প্রথম আলোকে বলেন, ‘মৌলভীবাজার ট্রাভেলস থেকে টিকিট নিয়েছি। গতকাল রাতেও তারা বলেছে, যাওয়া যাবে। কিন্তু এখানে আসার পর আমাকে বলা হয়েছে, যাওয়া যাবে না। আমার ফ্লাইট নাকি ইন্ডিয়ার পর আর মাসকাট যাবে না। ফ্লাইট বাতিল বলতেছে। এ জন্য বাড়ি চলে যাচ্ছি।’

বিমানবন্দরের টার্মিনাল-১–এ প্রবেশের দ্বিতীয় ফটকের বাইরে বসে অপেক্ষা করছিলেন নরসিংদীর রফিকুল ইসলাম। কাতার এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে করে কাতার হয়ে তাঁর সৌদি আরবের রিয়াদ যাওয়ার কথা। সে জন্য তিনি সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে বিমানবন্দরে হাজির হন। কিন্তু এসে জানতে পারেন, তাঁর ফ্লাইট বাতিল। তিনি যেতে পারবেন না।

রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, সৌদি আরবের রিয়াদে এমডিসিসি নামের কোম্পানিতে আসবাব তৈরির কাজ করেন তিনি। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি তিনি দেশে এসেছিলেন। ১৭ মার্চ পর্যন্ত তাঁর ভিসার মেয়াদ আছে। আসার সময় ‘আপ-ডাউন’ টিকিট কেটে দিয়েছিল তাঁর কোম্পানি। ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় এখন কোম্পানির পক্ষ থেকে রিয়াদগামী বিকল্প উড়োজাহাজে তাঁর টিকিটের ব্যবস্থার চেষ্টা করা হচ্ছে। সে জন্য তিনি বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছেন।