
আগামী বিশ্ব ইজতেমার দুই পর্বের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম পর্ব আগামী বছরের ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি, দ্বিতীয় পর্ব ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।
আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, তাঁরা সবার সঙ্গে আলোচনা করে এ তারিখ ঠিক করেছেন।
জাতীয় নির্বাচনের কারণে এ বছর বিশ্ব ইজতেমা হয়নি বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষের একটির (মাওলানা সাদপন্থী) সঙ্গে আজ আলোচনা হয়েছে। কিছুদিন আগে অপর পক্ষের (মাওলানা জোবায়েরপন্থী) সঙ্গেও কথা হয়।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হচ্ছে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা। তাঁরা চান, যাতে কোনো ধরনের সংঘর্ষ না হয়। কারণ, এর আগে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমান্বয় উন্নতি হচ্ছে। পুলিশ সদর দপ্তরসহ জেলা পর্যায় থেকে সংগ্রহ করা তথ্য অনুযায়ী দেশের অপরাধচিত্র আগের চেয়ে অনেক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ২০২৫ সালের তুলনায় বর্তমানে খুন, অপহরণ, ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, অস্ত্রসংক্রান্ত প্রধান অপরাধের সংখ্যা কমেছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সব ব্যারোমিটার বা সূচক অনুযায়ী, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে; যদিও জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী শতভাগ উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আরও কিছু সময়ের প্রয়োজন। তবে বর্তমান সার্বিক চিত্রে সরকার সন্তুষ্ট।
ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়ে যাওয়া নিয়ে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ছিনতাই রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ সময় তিনি সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে এক শিক্ষিকার মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের দ্রুত তৎপরতার উদাহরণ দেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এ ঘটনার মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। পরবর্তী সময়ে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) অভিযান চালিয়ে আরও কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। লুণ্ঠিত মালামাল জব্দ করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন কঠোর ও তাৎক্ষণিক অভিযানের কারণে দেশজুড়ে ছিনতাইয়ের প্রবণতা কমছে। সামনে আরও কমবে।