
রাজধানীতে হর্নের বিরুদ্ধে মোটর শোভাযাত্রা হয়েছে। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পরিবেশ অধিদপ্তরের ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারত্বমূলক প্রকল্প’–এর আওতায় শনিবার এ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।
গতকাল বেলা ১১টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ (সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা) থেকে মোটর শোভাযাত্রা বের করা হয়। এর আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
রিজওয়ানা হাসান বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও পুলিশ যৌথভাবে কাজ করলে পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণ অনেক সহজ হবে। শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী ট্রাফিক পুলিশকে তাৎক্ষণিক জরিমানার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এটি কার্যকরভাবে প্রয়োগ করলে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।
এ সময় পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, উচ্চ শব্দ সৃষ্টিকারী হর্ন আমদানি বন্ধে পরিবেশ অধিদপ্তর ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান বলেন, নতুন বিধিমালার আলোকে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ নিয়মিতভাবে শব্দদূষণের বিরুদ্ধে জরিমানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ভবিষ্যতে তা আরও জোরদার করা হবে।
বক্তব্য পর্বের পর পুলিশের সুসজ্জিত মোটরসাইকেল, পিকআপ ভ্যান ও পরিবেশ অধিদপ্তরের যানবাহন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে শোভাযাত্রা বের করে। ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার ও সার্ক ফোয়ারা প্রদক্ষিণ করে বিজয় সরণি হয়ে আগারগাঁওয়ের পরিবেশ অধিদপ্তরে গিয়ে শোভাযাত্রাটি শেষ হয়।
শোভাযাত্রা কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফারহিনা আহমেদ, ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন) মো. সরওয়ার ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ফরিদ আহমেদ, গ্রীন ভয়েসের সহসমন্বয়ক হুমায়ুন কবিরসহ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর ও ঢাকা মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিবেশ অধিদপ্তর জানায়, ৫ জানুয়ারি থেকে ঢাকার ১০টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টানা ১০ দিন ভ্রাম্যমাণ আদালত ও সচেতনতামূলক প্রচারণা পরিচালনা করা হয়। এই কার্যক্রমে গ্রীন ভয়েসের বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ইউনিটের স্বেচ্ছাসেবীরা সহযোগিতা করেন। এই মোটর শোভাযাত্রার মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হয়েছে।