
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ কথা জানান।
সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে জানানো হয়, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, তাঁর সরকার সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। গণমাধ্যমে দেশের যে চিত্র উঠে আসে, সে বিষয়ে তিনি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।
বৈঠকের শুরুতে নোয়াবের সভাপতি ও দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বক্তব্য দেন। তিনি সংবাদপত্রশিল্পের বিদ্যমান সমস্যা তুলে ধরে সেগুলোর সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানায়, সংবাদপত্রের মালিকদের সংগঠন নোয়াবের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। তাঁরা ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের সময় সংবাদপত্রকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, এটি এখন রুগ্ণ শিল্পে পরিণত হয়েছে।
বিগত সরকারগুলোর আমলের সরকারি বিজ্ঞাপনের বিপুল বকেয়া বিল রয়েছে। সংবাদপত্রের এসব বকেয়া বিল পরিশোধের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন নোয়াব সদস্যরা। পাশাপাশি সরকারের সঙ্গে সংবাদপত্র মালিকদের নিয়মিত বৈঠকের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং গ্রেপ্তার থাকা সাংবাদিকদের জামিনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে এ বিষয়ে তাঁর সহযোগিতা চান নোয়াব সদস্যরা।
বৈঠকে নোয়াবের সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী, সহসভাপতি এ এস এম শহীদুল্লাহ খান, কোষাধ্যক্ষ আলতামাশ কবির, সদস্য সমকাল পত্রিকার প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান টাইমস মিডিয়া লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন, বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, করতোয়ার সম্পাদক মোজাজ্জেল হক, পূর্বকোণ-এর সম্পাদক রমীজউদ্দিন চৌধুরী ও ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস-এর প্রকাশক নাসিম মনজুর অংশ নেন।
এ সময় তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে নোয়াবের সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, সংবাদপত্রশিল্প বর্তমানে অর্থনৈতিক চাপসহ নানা সংকটের মধ্যে রয়েছে। এসব বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আন্তরিকতার সঙ্গে কথা শুনেছেন। কিছু দাবিদাওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছেন। তবে কিছু বিষয় বাস্তবায়নে সময় লাগতে পারে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রসঙ্গ তুলে ধরার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, তিনি আগের সরকারগুলোর পথ অনুসরণ করবেন না এবং উদার গণতন্ত্রের পথে এগোতে চান। তাঁর এই অবস্থানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন নোয়াবের সভাপতি। প্রধানমন্ত্রী প্রতি তিন মাসে একবার সম্পাদকদের সঙ্গে বসবেন বলে জানান নোয়াবের সভাপতি।