আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

জবানবন্দিতে সাক্ষী

শামীম ওসমান বলছিলেন ‘মার মার’, তাঁর কথায় পিটিয়ে মারা হয় বদিউজ্জামানকে

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান আন্দোলনকারী বদিউজ্জামানকে মারধর করতে বলেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন সাক্ষী মাহমুদ হোসেন। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, শামীম ওসমানের ‘মার মার’ কথায় তখন অয়ন ওসমানসহ অনেকে বদিউজ্জামানকে পেটান। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে ভুক্তভোগী বদিউজ্জামানকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১–এ আজ সোমবার মাহমুদ হোসেন এমন জবানবন্দি দেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ ১২ আসামির বিরুদ্ধে করা মামলার তিনি সাক্ষী।

মাহমুদ হোসেন পেশায় ঠিকাদার। তিনি বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি। এ ছাড়া তিনি বিপ্লবী গার্মেন্টন্স শ্রমিক সংহতির সভাপতি।

জবানবন্দিতে মাহমুদ হোসেন বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তাঁরা একটি প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেন। সেদিন তাঁরা প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে চাষাঢ়ার দিকে যান। তাঁরা মিছিল করে সামনের দিকে অগ্রসর হলে পেছন থেকে শামীম ওসমানের লোকজন তাঁদের কর্মী বদিউজ্জামানকে ধরে নিয়ে যান। বদিউজ্জামানকে শহীদ মিনার মোড়ে লোহার রড, পাইপ, গজারিগাছের ডাল ইত্যাদি দিয়ে শামীম ওসমানের লোকজন এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকে। তখন তাঁরা বদিউজ্জামানকে উদ্ধার করতে আসেন। শহীদ মিনারে এসে দেখেন শামীম ওসমান বলছেন, ‘মার মার’। তাঁর কথায় বদিউজ্জামানকে পেটাচ্ছিল সবুজ শিকদার, রিয়াদ, শুভ, শফিক, অয়ন ওসমান, আজমেরী ওসমান, রুস্তম, তানভীর মোহাম্মদ টিটু ও চুন্নু মাস্টারসহ আরও অনেকে।

বদিউজ্জামানের মুঠোফোন কবির নামক একজন নিয়ে যায় উল্লেখ করে মাহমুদ হোসেন বলেন, তিনি যাওয়ার পরে এই আসামিরা তাঁকেও এলোপাতাড়ি মারধর করে। তাঁর মাথা ফেটে যায়। একপর্যায়ে তাঁদের সংখ্যা বাড়লে শামীম ওসমানের লোকজন পিছু হটে। পরে তাঁরা বদিউজ্জামানকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। শামীম ওসমানসহ এই মামলার আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শান্তি চান তিনি।

‘আহত বদিউজ্জামানকে লাথি দিয়ে ভ্যান থেকে ফেলে দেয়’

শামীম ওসমানসহ ১২ আসামির বিরুদ্ধে করা এই মামলায় মো. স্বাধীন মিয়া নামের আরও একজন আজ জবানবন্দি দেন। তিনি জুলাই শহীদ বদিউজ্জামানের মামাতো ভাই।

জবানবন্দিতে স্বাধীন মিয়া বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তাঁরা প্রতিবাদ মিছিল করেন। সেদিন তাঁরা চাষাঢ়ায় যান। তাঁরা যখন মিছিল নিয়ে কালীবাজার ২ নম্বর গেটের দিকে যাচ্ছিলেন, তখন তাঁদের মিছিলের পেছন থেকে শামীম ওসমানের ক্যাডার বাহিনী তাঁর মামাতো ভাই বদিউজ্জামানকে ধরে নিয়ে যায়। পরে তাঁরা বদিউজ্জামানকে উদ্ধারের জন্য যান। প্রথমে তাঁরা আক্রমণে পিছু হটেন। পরে তাঁদের লোকজন বাড়লে তাঁরা বদিউজ্জামানকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করেন।

বদিউজ্জামানকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা করলে পথিমধ্যে চার–পাঁচ জায়গায় শামীম ওসমানের লোকজন বাধা দেয় উল্লেখ করে স্বাধীন মিয়া বলেন, হাসপাতালের গেটে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা তাঁদের বাধা দেন। চুন্নু ও সবুজ শিকদার নামের ব্যক্তিরা বদিউজ্জামানকে ভ্যান থেকে লাথি দিয়ে ফেলে দেয়। তাঁরা ধাওয়া খেয়ে চলে যান। পরে সেদিন বিকেল পাঁচটা থেকে সাড়ে পাঁচটার দিকে বদিউজ্জামানকে নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গেলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তিনি এই মামলার আসামিদের বিচার চান।

এই মামলার ১২ আসামির মধ্যে শামীম ওসমানের পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন অয়ন ওসমান, আজমেরী ওসমান, মো. মিনহাজ উদ্দিন আহম্মদ ও তানভির আহম্মেদ। এই মামলার সব আসামি পলাতক।