
দুই বছর আগে একটি শুটিংয়ের কাজে গিয়ে আলোকচিত্রী নামীম আশরাফের (৩৭) সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল মেকআপ আর্টিস্ট তরুণীর (২৪)। এই পরিচয় থেকে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। রাজধানীর আদাবরে নামীমের স্টুডিওতে এসে কাজ করতেন মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা তরুণী। পারিবারিকভাবে তাঁদের বিয়ের কথাও চলছিল। কিন্তু এর মধ্যে গত ১৪ জনু দুপুরে ওই স্টুডিও থেকে তরুণীর লাশ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় দায়ের করা আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় দুই সপ্তাহ ধরে কারাগারে বন্দী আছেন নামীম আশরাফ। এর মধ্যে গত সোমবার ওই তরুণীকে আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ এনে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫-এ মামলা করেছেন তরুণীর বড় বোন। এ মামলায় নামীমের বাবা মো. আশরাফউদ্দিন (৫৬) ও মা শাহনাজ বেগমকেও (৫০) আসামি করা হয়েছে। বিচারক মো. মনিরুজ্জামান বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) মামলাটি তদন্ত করে আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, নামীম বিয়ের আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন না করে বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপণ করছিলেন। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে একাধিকবার বিরোধ সৃষ্টি হয়। গত ১০ জুন নামীম আদাবরের শেখেরটেকে তাঁর স্টুডিওতে ওই তরুণীকে ডেকে নেন। সেখানে নিয়ে তাঁকে দিয়ে পরিবারের সদস্যদের কাছে বান্ধবীর বাসায় থাকার কথা বলতে বাধ্য করা হয়। এরপর ১০ থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত তাঁকে আটকে রেখে একাধিকবার ধর্ষণ এবং পরে হত্যা করা হয়।
সোমবার আদালতে এই মামলা হলেও নামীম ১৫ জুন থেকে কারাগারে বন্দী আছেন ওই তরুণীর মৃত্যুকে ঘিরে হওয়া অপর একটি মামলায়। ১৪ জুন লাশ উদ্ধার হওয়ার পর ওই তরুণীর বড় ভাই আদাবর থানায় নামীমকে আসামি করে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পরদিন নামীমকে আদালতে পাঠানো হয় বলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদাবর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুলতানুর রহমান বলেন।
সেদিনের ঘটনা তুলে ধরে এসআই সুলতানুর মঙ্গলবার রাতে প্রথম আলোকে বলেন, খবর পেয়ে ১৪ জুন বেলা আড়াইটার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁরা ওই তরুণীকে স্টুডিওর মেঝেতে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। সে সময় স্টুডিও মালিক নামীম ও তাঁর এক বান্ধবী জানিয়েছিলেন, তাঁরা দুপুরে স্টুডিওতে এসে দেখেন ভেতর থেকে দরজা আটকানো। তখন আশপাশের লোকজনকে নিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে সিলিংয়ের সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় ওই তরুণীকে দেখতে পান। সেখান থেকে নামিয়ে দেখেন তাঁর শ্বাস–প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে গেছে।
সে সময় তরুণীর শরীরে কোনো নির্যাতনের চিহ্ন দেখতে পাননি জানিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা সুলতানুর রহমান বলেন, তাঁর গলায় দাগ ছিল। সেটা দেখে প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে মনে হয়েছিল। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তবে পুলিশের এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন নিহত তরুণীর বড় বোন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করার কারণ তুলে ধরে তিনি মঙ্গলবার রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার বোন ১০ জুন বাসা থেকে যায়। আর ১৪ জুন খবর পাই সে মারা গেছে। এর মাঝে দুই দিন ফোন দিলে সে বান্ধবীর বাসায় আছে বলে জানায়। ১৪ জুন খবর পেয়ে সাথে সাথে আমরা ওই ছেলের স্টুডিওতে গিয়ে দেখি লাশ মেঝেতে পড়ে আছে। ওই রাতে আদাবর থানায় মামলা হয়। কিন্তু পুলিশের কোনো তৎপরতা দেখি না। তাই বোনকে হত্যার বিচার পেতে আদালতে মামলা করেছি।’