গোলটেবিল আলোচনায় বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। প্রথম আলো কার্যালয়, ঢাকা, ৪ জুলাই ২০২৬
গোলটেবিল আলোচনায় বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। প্রথম আলো কার্যালয়, ঢাকা, ৪ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশ কী পাবে, তার ওপর ঠিক হবে প্রত্যেক দেশের সঙ্গে সম্পর্ক: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, চীন, ভারত ও রাশিয়ার মতো পরাশক্তির দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের কৌশলগত সম্পর্কের মূল ভিত্তি হবে পারস্পরিক লাভ এবং দেশের মানুষের কল্যাণ। সম্পূর্ণ জাতীয় স্বার্থের ওপর ভিত্তি করেই এই দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নির্ধারণ করা হবে।

শামা ওবায়েদ বলেন, ‘প্রত্যেকটা দেশের সঙ্গে আমাদের কৌশলগত সম্পর্ক নির্ধারণ করবে পারস্পরিকভাবে আমরা কী পাচ্ছি, বাংলাদেশের মানুষ কী পাচ্ছে পুরোপুরি ওই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে।’

আজ শনিবার সকালে গবেষণাপ্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যানালাইসিস অ্যান্ড ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক (ব্রেন) আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ব্রেন আয়োজিত ‘পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি’ শীর্ষক এই গোলটেবিল আলোচনার প্রচার সহযোগী প্রথম আলো। কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে ওই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পররাষ্ট্রনীতির প্রসঙ্গ টেনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অন্ধভাবে কোনো দেশের পক্ষে বা বিপক্ষে না গিয়ে সম্পূর্ণ ‘কৌশলগত ভারসাম্যের’ মাধ্যমে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হচ্ছে।

শামা ওবায়েদ বলেন, জাতীয় স্বার্থ ও পারস্পরিক লাভের ওপর ভিত্তি করে চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মতো দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদার করা হচ্ছে। দেশের পররাষ্ট্রনীতিতে প্রথমবারের মতো সংস্কৃতি, ক্রীড়া এবং সৃজনশীল অর্থনীতি বা ‘সফট পাওয়ার’ ব্যবহারে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। এই উদ্দেশ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ‘স্পোর্টস অ্যান্ড কালচার’, ‘মাইগ্রেশন’ এবং ‘ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স’ নামে তিনটি নতুন অনু বিভাগ চালু করা হয়েছে।

ব্রেন আয়োজিত ‘পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি’ শীর্ষক এই গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা। প্রথম আলো কার্যালয়, ঢাকা, ৪ জুলাই ২০২৬

এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় একক কোনো উৎসের ওপর নির্ভর না করে জ্বালানি ও শ্রমবাজার বহুমুখীকরণ করার উদ্যোগ নিচ্ছে।

প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে কোনো সমস্যা বা মতভেদ থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের নীতিতে বাংলাদেশ বিশ্বাস করে বলেও উল্লেখ করেন শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, ‘সীমান্ত হত্যা বন্ধ, বাণিজ্যঘাটতি ও পানিবণ্টন সমস্যা সমাধানের জন্য ভারতের সঙ্গে কার্যকর কূটনৈতিক যোগাযোগ বা এনগেজমেন্ট বজায় রাখা জরুরি।’

গোলটেবিল আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, পরিবর্তিত বিশ্বে বাংলাদেশ বহুপক্ষীয় নীতিতে বিশ্বাসী। তিনি বলেন, ‘আমরা মাল্টিল্যাটারালিজমকে (বহুপক্ষীয় ব্যবস্থা) ধারণ করি এবং ধারণ করি বলেই আমরা ব্রিকস, আসিয়ানে, এসসিও, আরসিইপির সদস্য হতে চাই। ক্ষয়প্রাপ্ত বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে গড়ে তোলা এবং জনগণের স্বার্থে কাজ করাই আমাদের লক্ষ্য।’

শিক্ষক ও গবেষক আসিফ বিন আলীর সঞ্চালনায় গোলটেবিল আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা–১৪ আসনের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম (আরমান), চীনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহবুবুজ্জামান, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক আমেনা মহসিন ও মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান, সহযোগী অধ্যাপক ওবায়দুল হক, ব্রেনের নির্বাহী পরিচালক সফিকুর রহমান।