
দুই আইনজীবীর বিরুদ্ধে ‘অবমাননাকর বক্তব্যের’ অভিযোগ বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য ২৫ ফেব্রুয়ারি দিন রেখেছেন আপিল বিভাগ। এই সময় পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের কোনো বেঞ্চে (আদালতে) ওই দুই আইনজীবীর মামলা পরিচালনা না করার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ আজ মঙ্গলবার এ আদেশ দেন। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সদস্য দুই আইনজীবী হলেন মোহাম্মদ মহসীন রশিদ ও শাহ আহমেদ বাদল।
এর আগে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে ১ থেকে ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত আদালত বর্জনের কর্মসূচি ঘোষণা করে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম। আইনজীবীদের এ কর্মসূচি উল্লেখ করে ওই দুই আইনজীবীর ১ জানুয়ারি দেওয়া চিঠি সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল কার্যালয় গ্রহণ করে। পরদিন চিঠিটি প্রধান বিচারপতির সামনে উপস্থাপন করা হয়। চিঠিতে মহসীন রশিদ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির অ্যাডহক কমিটির আহ্বায়ক ও শাহ আহমেদ বাদল সদস্যসচিব বলে উল্লেখ করেন।
চিঠির বিষয়টি উত্থাপিত হলে গত ৩ জানুয়ারি আপিল বিভাগ দুই আইনজীবীকে ওই বিষয়ে নিজেদের ভূমিকার ব্যাখ্যা দিতে আদেশ দেন। তাঁদের ১১ জানুয়ারি আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হয়। আদেশে বলা হয়, চিঠিতে কিছু অবমাননাকর স্টেটমেন্ট (বিবৃতি) রয়েছে, যা রাষ্ট্রবিরোধী এবং সামগ্রিকভাবে বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি, অবস্থান ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়।
ধার্য তারিখে দুই আইনজীবী আদালতে হাজির হন ও শুনানি হয়। পাশাপাশি সময়ের আরজি জানান তাঁদের আইনজীবী। সেদিন আদালত ব্যাখ্যা দিতে দুই আইনজীবীকে চার সপ্তাহ সময় দেন। এই সময়ে তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের কোনো বেঞ্চে (আদালতে) মামলা পরিচালনা করতে পারবেন না বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়।
আগের ধারাবাহিকতায় বিষয়টি আজ ওঠে। দুই আইনজীবী আদালতে হাজির ছিলেন। তাঁদের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মোহাম্মদ মোরশেদ।
পরে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মোহাম্মদ মোরশেদ প্রথম আলোকে বলেন, দুই আইনজীবীর দাখিল করা বক্তব্যের ওপর শুনানি হয়েছে। তাদের সময়ের আরজির পরিপ্রেক্ষিতে ২৫ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী দিন রেখেছেন আদালত। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে ও হাইকোর্ট বিভাগে দুই আইনজীবী মামলা পরিচালনা করতে পারবেন না বলে আগে আদেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। এই মেয়াদ ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।