
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর পুলিশ সংস্কারের দাবি ছিল রাষ্ট্রের সঙ্গে নাগরিকের সম্পর্ক বদলানোর দাবি। মানুষ এমন পুলিশ চেয়েছিল, যার কাছে অভিযোগ জানাতে রাজনৈতিক পরিচয় লাগে না, যার হেফাজতে নিরাপত্তা থাকে এবং যার অপরাধেরও বিচার হয়। দুই বছর পর আইন বদলেছে, কিছু প্রশাসনিক পদক্ষেপ এসেছে, র্যাবের জায়গায় এসআরবি হয়েছে। কিন্তু দৈনন্দিন পুলিশিংয়ে কতটা পরিবর্তন এসেছে?
জুলাই ও আগস্টের ঘটনাবলি নিয়ে জাতিসংঘের অনুসন্ধান রাজনৈতিক নির্দেশনায় দমন, বেআইনি হত্যাকাণ্ড, নির্বিচার আটক ও নির্যাতনের তথ্য তুলে ধরেছে। ফলে সমস্যা কেবল কয়েকজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত বিচ্যুতি ছিল না। এমন একটি ব্যবস্থাও দায়ী ছিল, যেখানে ক্ষমতাসীনদের নির্দেশ অমান্য করার ঝুঁকি নাগরিকের অধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকির চেয়ে বড় হয়ে উঠেছিল। সংস্কারের লক্ষ্য হওয়া দরকার সেই প্রণোদনা ও দায়মুক্তির ব্যবস্থা বদলানো।
পুলিশ আইন, ১৮৬১-এর ৩ ধারায় পুলিশের তত্ত্বাবধান সরকারের হাতে ন্যস্ত। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নির্বাচিত সরকারের নীতিগত তত্ত্বাবধান প্রয়োজন। কিন্তু নীতিগত কর্তৃত্ব আর নির্দিষ্ট মামলায় হস্তক্ষেপ এক বিষয় নয়। নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলির সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক আনুগত্যের পুরস্কার হয়ে উঠলে নিরপেক্ষ তদন্তের পরিবেশ নষ্ট হয়। যে কর্মকর্তা জানেন আইন মানার চেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিকে সন্তুষ্ট করা তাঁর কর্মজীবনের জন্য নিরাপদ, তাঁর কাছে প্রশিক্ষণের মানবাধিকার পাঠ কতটা কার্যকর হবে?
বাংলাদেশে এই সংকটের সমাধান খোঁজা হচ্ছে বহুদিন। ইউএনডিপি-সমর্থিত পুলিশ সংস্কার কর্মসূচির প্রথম পর্যায় চলে ২০০৫ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত; পরে দ্বিতীয় পর্যায় আসে। প্রশিক্ষণ, তদন্তের সক্ষমতা, কমিউনিটি পুলিশিং ও নারীর অংশগ্রহণে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ইউএনডিপির পরবর্তী আলোচনায়ও গভীর রাজনৈতিক বাধার কথা উঠে এসেছে। এসব অভিজ্ঞতা দেখায়, দক্ষতা ও অবকাঠামো বাড়ানো প্রয়োজন হলেও তা দিয়ে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ এবং দায়মুক্তির সমস্যার সমাধান হয় না।
এক–এগারোর সরকারের সময় তৈরি পুলিশ অধ্যাদেশের ২০০৭ সালের খসড়া ঔপনিবেশিক আইন প্রতিস্থাপনের সুযোগ দিয়েছিল। স্বাধীন কমিশন এবং আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ব্যবস্থার ধারণা সেখানে ছিল। খসড়ার সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনাও হয়েছিল; কিন্তু তা আইনে পরিণত হয়নি। পরবর্তী রাজনৈতিক সরকার উদ্যোগটি গ্রহণ করেনি; ২০১৩ সালের পর্যালোচনাও রাজনৈতিক পর্যায়ে আটকে যায়। সংস্কারের ধারণা গ্রহণযোগ্য ছিল, অথচ পুলিশ নিয়ন্ত্রণের সুবিধা ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠেনি। এই ইতিহাস বর্তমান মূল্যায়নে বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক।
২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর গঠিত পুলিশ সংস্কার কমিশন পরের বছরের ১৫ জানুয়ারি প্রতিবেদন জমা দেয়। গায়েবি মামলা বন্ধ, বলপ্রয়োগ নিয়ন্ত্রণ, ভুক্তভোগী ও সাক্ষী সুরক্ষা এবং মানবাধিকার কমিশনের তদন্তক্ষমতা বাড়ানোর সুপারিশ সেখানে ছিল। তবে স্থায়ী পুলিশ কমিশনের প্রশ্নে প্রতিবেদনটি নীতিগত ঐকমত্য জানিয়ে তার গঠন, ক্ষমতা ও পরিধি বৃহত্তর আলোচনার জন্য রেখে দেয়। সবচেয়ে প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সিদ্ধান্তটির কার্যকর রূপ তাই পরবর্তী রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল থেকে যায়।
২০২৫-২৬ সালে ফৌজদারি কার্যবিধির সংশোধনে গ্রেপ্তারকারী কর্মকর্তার পরিচয় প্রদর্শন, গ্রেপ্তার স্মারক, আহতের চিকিৎসা ও আইনজীবীর পরামর্শের সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে। ১৬৭(২) ধারায় একই মামলায় সব মিলিয়ে ১৫ দিনের বেশি পুলিশ হেফাজত নিষিদ্ধ। অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখাতে আসামিকে আদালতে হাজির করে শুনানি করতে হবে। তদন্তের সময়সীমা ৬০ কার্যদিবস, তবে যুক্তিসংগত কারণে আদালত তা বাড়াতে পারেন। এসব গুরুত্বপূর্ণ আইনি অগ্রগতি।
প্রশাসনিক পর্যায়ে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ৮ অক্টোবর ২০২৬ প্রথম আলোয় প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর ১৩৫ জন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে এবং ২৫ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। পদায়নের জন্য কমিটি গঠন, পুলিশ ভেরিফিকেশন সহজ করা এবং তল্লাশির সময় কর্মকর্তার পরিচয় নিশ্চিত করার উদ্যোগের কথাও বলেছেন তিনি। তবে এগুলোর ফলাফল স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
কারণ, পদক্ষেপের সংখ্যা দিয়ে ব্যবস্থার পরিবর্তন বোঝা যায় না। বিভাগীয় শাস্তি হয়েছে মানেই নির্যাতনের অভিযোগ স্বাধীনভাবে তদন্ত হয়েছে, এমন নয়। জানতে হবে, মানুষ নিরাপদে অভিযোগ করতে পারছে কি না, কতটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এবং ভুক্তভোগীরা কী প্রতিকার পেয়েছেন। পদায়ন কমিটির সিদ্ধান্তের মানদণ্ড ও আপিলের ব্যবস্থা স্পষ্ট না হলে রাজনৈতিক প্রভাব কমার দাবিও যাচাই করা কঠিন। এসব তথ্য প্রকাশের পাশাপাশি জন-আস্থা ও সেবার মান বুঝতে স্বাধীন নাগরিক জরিপ প্রয়োজন।
আস্থা ফেরাতে পুলিশের অভ্যন্তরীণ উদ্যোগের সঙ্গে স্বাধীন তদারকির স্থায়ী ব্যবস্থাও প্রয়োজন। কিন্তু পুলিশ কমিশন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ সেই জায়গায় দুর্বল থেকে গেছে।
জন-আস্থা যে এখনো প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি, একই সাক্ষাৎকারে আইজিপিও তা স্বীকার করেছেন। মানুষের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতায়ও পুলিশের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা এর একটি উদাহরণ। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের অভিযোগ, পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলেও স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি রক্ষা করতে পারেনি। পরে আসামি গ্রেপ্তার করা প্রয়োজনীয় হলেও তাতে হামলা ঠেকাতে না পারার ব্যর্থতা মুছে যায় না। বিপদে পুলিশ পাশে দাঁড়াবে এবং প্রভাবশালী অপরাধীর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেবে, এই বিশ্বাস তৈরি হলেই আস্থা ফিরবে।
আস্থা ফেরাতে পুলিশের অভ্যন্তরীণ উদ্যোগের সঙ্গে স্বাধীন তদারকির স্থায়ী ব্যবস্থাও প্রয়োজন। কিন্তু পুলিশ কমিশন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ সেই জায়গায় দুর্বল থেকে গেছে। ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বরের অধ্যাদেশে আইজিপি নিয়োগে নামের প্যানেল সুপারিশের বিধান থাকলেও নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির কার্যকর নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে দেওয়া হয়নি। দায়িত্বের বড় অংশ ছিল পরামর্শ ও সুপারিশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। পরে অধ্যাদেশটি সংসদে আইন হিসেবে পাস না হওয়ায় সাংবিধানিক সময়সীমা পেরিয়ে এর কার্যকারিতাও শেষ হয়েছে। ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক নকশার সঙ্গে নির্বাচিত সরকারের সময়ে উদ্যোগটির স্থায়ী আইনি ভিত্তি নিশ্চিত না হওয়ার ব্যর্থতাও যুক্ত হয়েছে।
এসআরবির ক্ষেত্রেও সংস্কারের মূল্যায়ন করতে হবে কাঠামো ও জবাবদিহির পরিবর্তন দিয়ে। ২০২৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর সংসদে আইন পাসের পর ১৬ সেপ্টেম্বর নতুন নামে এই বাহিনীর কার্যক্রম শুরু হয়। তবে র্যাবের জনবল, ক্ষমতা, সম্পদ ও নথিপত্র এসআরবিতে স্থানান্তরের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সরকারের যুক্তি, রাষ্ট্রীয় সম্পদ নতুন বাহিনীতে কাজে লাগানো প্রয়োজন। এই যুক্তি সম্পদ ব্যবহারের প্রয়োজন ব্যাখ্যা করলেও একই জনবল ও ক্ষমতা বহাল রাখার যৌক্তিকতা স্পষ্ট করে না।
নতুন ব্যবস্থায় পুলিশের বাইরে অন্য শৃঙ্খলা বাহিনী থেকেও সদস্য নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। নতুন বিধিমালা হওয়ার আগপর্যন্ত পুরোনো বিভাগীয় শৃঙ্খলা ব্যবস্থাও বহাল থাকছে।
নতুন ব্যবস্থায় পুলিশের বাইরে অন্য শৃঙ্খলা বাহিনী থেকেও সদস্য নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। নতুন বিধিমালা হওয়ার আগপর্যন্ত পুরোনো বিভাগীয় শৃঙ্খলা ব্যবস্থাও বহাল থাকছে। ফলে বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে বেসামরিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার পুরোনো প্রশ্নগুলো রয়ে যাচ্ছে। সদস্যদের অতীত ভূমিকা যাচাই, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের স্বাধীন তদন্ত এবং অপরাধের দায় নির্ধারণ ছাড়া এই ধারাবাহিকতাকে কেবল প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। র্যাবের যেসব কাঠামোগত দুর্বলতা সংস্কারের দাবি সৃষ্টি করেছিল, এসআরবিতে সেগুলোর কতটা সমাধান হয়েছে, সেটিই মূল বিবেচনা।
তবে মাসখানেকের কার্যক্রম দেখে এসআরবির দীর্ঘমেয়াদি আচরণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়াও সংগত নয়। বৃহত্তর পরিস্থিতির কিছু উন্নতিও বিবেচনায় নিতে হবে। ২০২৪-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সেপ্টেম্বরের মূল্যায়নে হত্যাকাণ্ড ও গুম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্বিচার আটক অব্যাহত থাকার অভিযোগও রয়েছে। এই উন্নতি স্বীকার করেও মনে রাখতে হবে, মানবাধিকার লঙ্ঘন কমে আসা এবং ভবিষ্যতে তা ঠেকানোর স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে ওঠা এক বিষয় নয়।
স্থায়ী সুরক্ষার জন্যই স্বাধীন তদারকি জরুরি। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এসআরবির সদস্যদের অতীত ভূমিকা যাচাই, গ্রেপ্তার ও হেফাজতে অধিকার রক্ষা এবং পুরোনো নথিপত্র সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। সংস্থাটি একই সঙ্গে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা ও তদন্তক্ষমতা দুর্বল বলে উদ্বেগও জানিয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের প্রতিষ্ঠান দুর্বল হলে বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শুদ্ধাচার উদ্যোগ দিয়ে সেই ঘাটতি পূরণ করা যায় না। অভিযোগের তদন্ত ও প্রতিকার অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের সদিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল থাকলে জবাবদিহিও অনিশ্চিত থেকে যায়।
তাহলে কি এক–এগারো ও চব্বিশের অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কারের পরিণতি একই দিকে যাচ্ছে? দুই সরকার ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নিয়েছিল। এবার কিছু আইনি সুরক্ষাও যুক্ত হয়েছে। তাই দুই উদ্যোগকে পুরোপুরি এক করে দেখা ঠিক হবে না। তবে উদ্বেগজনক মিল হলো, সংকটের সময়ে সংস্কারের সুযোগ তৈরি হলেও পুলিশের ওপর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ কমানোর প্রশ্নে অগ্রগতি আটকে যায়। এই পরিণতি মূল্যায়নে অন্তর্বর্তী সরকারের পদক্ষেপের পাশাপাশি পরবর্তী সরকারের সিদ্ধান্তও বিবেচনায় নিতে হবে। কারণ, সংস্কারের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা ক্ষমতায় আসা প্রত্যেক সরকারের দায়িত্ব।
এই ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে নতুন পুলিশ আইনে সরকারের নীতিগত তত্ত্বাবধানের সীমা স্পষ্ট করা এবং নির্দিষ্ট তদন্তে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন। নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলিতে প্রকাশ্য মানদণ্ড, সিদ্ধান্তের লিখিত কারণ এবং আপিলের ব্যবস্থা থাকতে হবে। স্বাধীন কমিশনকে নিজস্ব তদন্তকারী ও সুরক্ষিত অর্থায়ন দিতে হবে। এসআরবিতে সদস্য নেওয়ার আগে তাঁদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ যাচাই, গুরুতর অভিযোগের স্বাধীন তদন্ত এবং অতীত অপরাধের নথি সংরক্ষণও জরুরি।
একই সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের আইন মেনে দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। অবৈধ আদেশ প্রত্যাখ্যানকারী কর্মকর্তাদের সুরক্ষার পাশাপাশি যুক্তিসংগত কর্মঘণ্টা, আবাসন, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও তদন্তের প্রয়োজনীয় ব্যয় দিতে হবে। কার্যকর সেবার জন্য এসব সুবিধা প্রয়োজন, আর ক্ষমতার অপব্যবহার ঠেকাতে প্রয়োজন স্বাধীন জবাবদিহি। সংস্কারে এই দুই দিককে একসঙ্গে গুরুত্ব দিতে হবে।
শেষ পর্যন্ত নাগরিকের অভিজ্ঞতাই হবে সংস্কারের মাপকাঠি। থানায় অভিযোগ দিতে টাকা লাগে কি না, পরিবার গ্রেপ্তারের খবর পায় কি না, হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগের স্বাধীন তদন্ত হয় কি না এবং রাজনৈতিক পরিচয় ছাড়াই সুরক্ষা মেলে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর চাই। সরকারকে সংস্কার বাস্তবায়নের সময়সূচি, বাজেট ও যাচাইযোগ্য ফলাফল প্রকাশ করতে হবে। এক–এগারোর অসমাপ্ত খসড়া ও জুলাই ২০২৪-এর রক্তক্ষয়ী অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও দায়মুক্তির পুরোনো ব্যবস্থা বদলাতে না পারলে সংস্কারের সুযোগ আবারও হারিয়ে যাবে।
* নাফিউল আলম: আইনজীবী, গবেষক ও মানবাধিকারকর্মী