
বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের প্রাক্কালে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় সাংবিধানিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)। আজ শুক্রবার নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে নিউইয়র্কভিত্তিক সংগঠনটি এ আহ্বান জানায়। এতে বলা হয়, আসন্ন কর্তৃপক্ষকে (সরকারকে) অবশ্যই মুক্ত গণমাধ্যমের পক্ষে সুস্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে।
সিপিজে বলেছে, নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে আমরা আলাদা করে চিঠি লিখেছিলাম। এতে কিছু সুপারিশ ও উদ্বেগ তুলে ধরা হয়েছিল। এখন সংস্কার কার্যক্রমের মাধ্যমে নতুন সরকারকে সেগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। এতে সাংবাদিকদের সুরক্ষা, সহিংসতার ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষার কার্যকর পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
নির্বাচন সামনে রেখে গত ২৯ জানুয়ারি সিপিজে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও জাতীয় পার্টিকে আলাদা করে চিঠি লিখেছিল। এতে নির্বাচন চলাকালে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জনসমক্ষে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। বিশেষ করে সহিংসতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ফৌজদারি বা জাতীয় নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার থেকে বিরত থাকার অঙ্গীকার চাওয়া হয়।
সিপিজে চিঠিতে তাদের গবেষণার তথ্য তুলে ধরে বলেছিল, নির্বাচনপূর্ব সময়ে সাংবাদিকদের ঝুঁকি বেড়েছে। সংবাদমাধ্যমের ওপর হামলা, হুমকি, রাজনৈতিক মেরুকরণকেন্দ্রিক হয়রানি এবং পাঁচ সাংবাদিকের কারাবরণের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। অভিযোগগুলো তাঁদের পেশাগত কাজ বা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার সঙ্গে সম্পর্কিত বলেই প্রতীয়মান হয়েছে বলে জানায় সংগঠনটি।
চিঠিতে গত ডিসেম্বরে দেশের শীর্ষ দুটি সংবাদপত্র প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে ‘মব’ হামলার ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছিল। আগুনে পুড়তে থাকা ভবনে সাংবাদিকদের আটকে পড়ার ঘটনাকে গণমাধ্যমের জন্য উদ্বেগজনক নজির হিসেবে দেখছে সিপিজে। পাশাপাশি ডিজিটাল হয়রানি, আদর্শগতভাবে চিহ্নিত করে আক্রমণ এবং সমন্বিত বিদ্বেষমূলক প্রচারণার কথাও বলা হয়েছিল।