
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় সাবেক জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই আদালত ঢাকা–৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এবং তাঁর পরিবার ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে থাকা ৪৬টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের নির্দেশ দিয়েছেন।
আজ রোববার ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. সাব্বির ফয়েজ দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। দুদকের আইনজীবী তরিকুল ইসলাম এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
ফরহাদ হোসেনকে আজ আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের পক্ষে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক খোরশেদ আলম তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আবেদনটি মঞ্জুর করে তাঁকে আবার কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
আবেদনে বলা হয়েছে, আসামি ফরহাদ হোসেন (৫৩) ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ১ কোটি ১১ লাখ ৮৬ হাজার ২৫ টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জন করেছেন। তাঁর নিজ নামে থাকা ১২টি ব্যাংক হিসাবে ৬ কোটি ৫৪ লাখ ৫৬ হাজার ৪৭১ টাকা জমা হয় এবং মোট উত্তোলন করেছেন ৬ কোটি ৩৫ লাখ ৬৮ হাজার ৯৯৬ টাকা, যা অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, ফরহাদ হোসেনের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। তিনি অন্য মামলায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক আছেন। জামিনে মুক্ত হলে আত্মগোপন বা বিদেশে পালিয়ে যেতে পারেন। তাই এই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন।
২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটন এলাকা থেকে ফরহাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর পর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।
এদিকে দুদকের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা–৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এবং তাঁর পরিবার ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে থাকা ৪৬টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের নির্দেশ দিয়েছেন একই আদালত। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
দুদকের পক্ষে সংস্থাটির উপপরিচালক (গোয়েন্দা) মো. হোসাইন শরীফ তাঁদের ব্যাংকের হিসাব অবরুদ্ধ চেয়ে আবেদন করেন। এসব ব্যাংক হিসাবে ৩৩ কোটি ১৯ লাখ ১৩ হাজার ৩৩৫ টাকা আছে।
আবেদনে বলা হয়, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের বিরুদ্ধে দেশে–বিদেশ বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আছে। তিনি নিজে ও পরিবারের সদস্যদের নামে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলন করে অন্যত্র স্থানান্তর ও বিদেশে পাচারের চেষ্টা করছেন।
আবেদনে আরও বলা হয়, অনুসন্ধানকালে প্রাপ্ত রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এসব ব্যাংক হিসাবে বাহাউদ্দিন নাছিম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ লেনদেন ও জমা করেছেন। এই ব্যাংক হিসাবগুলো থেকে অর্থ স্থানান্তর হয়ে গেলে রাষ্ট্রের ক্ষতির আশঙ্কা আছে। তাই এসব ব্যাংক হিসাবের লেনদেন স্থগিত বা অবরুদ্ধ করা আবশ্যক।