
ঢাকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকে (ইউএপি) একদল শিক্ষার্থীর আন্দোলনের মুখে গত রোববার দুই শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করেছে কর্তৃপক্ষ। এবার উপাচার্য কামরুল আহসানের পদত্যাগ চাইছেন ওই শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে ‘দঙ্গলবাজ’ বলায় সরকারের কাছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের বিচারও দাবি করেছেন তাঁরা।
মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে এ দাবি জানান আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। বিকেল ৫টার দিকেও ক্যাম্পাসে তাঁদেরকে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।
এর আগে ১৮ জানুয়ারি বেলা ১১টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন। ওইদিন হিজাব ও নিকাব অবমাননা এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উপাচার্যসহ দুই শিক্ষকের পদত্যাগের দাবি করেন তাঁরা।
এই পটভূমিতে গত রোববার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দুই শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করে। এরপর ওই শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের পদত্যাগের জন্য দুই দিন অর্থাৎ ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন।
চাকরিচ্যুত দুই শিক্ষক হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বেসিক সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক এ এস এম মহসিন এবং বিভাগটির সহকারী অধ্যাপক লায়েকা বশীর।
লায়েকা বশীরের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা হিজাব ও নিকাব নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য, মুসলিম শিক্ষার্থীদের হেনস্তা এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ তুলেছেন। অন্যদিকে এ এস এম মহসিনের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করেছেন তাঁরা।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গত সোমবার অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের পরেও মঙ্গলবার সকাল থেকেই আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জড়ো হতে থাকেন। সন্ধ্যায় তাঁদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনা বোর্ডের বৈঠক বসার কথা জানা যায়।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দেওয়া জামসেদ পাশা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের প্রধান দাবি হচ্ছে, উপাচার্যের পদত্যাগ। আমাদের মোট ১৫টি দাবি আছে। এই ১৫টি দাবির মধ্যে বেশির ভাগই হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সমস্যা, যেমন পরিবহন বা বাসের অভাব, ভাড়া বিল্ডিংয়ে ক্লাস হওয়া এবং বেজমেন্টের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে ক্লাস হওয়ার মতো সমস্যার সমাধান।’
কিছু গণমাধ্যম শিক্ষার্থীদের বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করছে বলে অভিযোগ করেন জামসেদ পাশা। তিনি বলেন, ‘গতকাল কিছু সংবাদমাধ্যমে আমাদের খণ্ডিত বক্তব্য নিয়ে পলিটিক্যালি এফিলিয়েটেড (রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট করা) করার যে চেষ্টা হয়েছে, তার প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘লায়েকা ম্যাডাম আমাদের নামে তেজগাঁও থানায় জিডি করার পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল, তবে আমরা কোনো মব করিনি, বরং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তাঁদের বহিষ্কার করা হয়েছে।’
জামসেদ পাশা আরও বলেন, ‘“শিক্ষক নেটওয়ার্ক” নামক একদল লোক আমাদের ছোট ভাই-বোনদের ‘দঙ্গলবাজ’ আখ্যা দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছে, যার সুষ্ঠু বিচার আমরা সরকারের কাছে দাবি করছি।’
ওই শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে আন্দোলনে যুক্ত শিক্ষার্থী ও অ্যালামনাইদের বিরুদ্ধে কোনো একাডেমিক বা প্রশাসনিক হয়রানি না করার লিখিত অফিস আদেশ, বিতর্কিত দুই শিক্ষককে পুনর্বহাল না করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মানোন্নয়নে ব্যর্থতার দায়ে শীর্ষ প্রশাসনের পদত্যাগ।
‘ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অধিকার’–এর অংশ হিসেবে ইসলামিক এথিকস ক্লাবের অনুমোদন, স্থায়ী ইমাম নিয়োগ, হিন্দু শিক্ষার্থীদের জন্য সরস্বতী পূজা আয়োজন ও দুর্গা পূজায় ছুটির দাবিও জানিয়েছেন ওই শিক্ষার্থীরা।