দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান চলমান থাকায় সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব আবু আলম শহীদ খানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।
এ ছাড়া বাংলাদেশ সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক কমিশনার আবদুল হালিম ও বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সবুর হোসেনের দেশত্যাগেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পৃথক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ সাব্বির ফয়েজ এসব আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন।
শহীদ খানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
শহীদ খানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদনটি করেন দুদকের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন। আবেদনে বলা হয়, শহীদ খানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগের অনুসন্ধান চলমান। গোপন সূত্রে জানা যায়, তিনি অন্য দেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তাই সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তাঁর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দরকার।
হালিম–সবুরের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
হালিম ও সবুরের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদনটি করেন দুদকের উপপরিচালক মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন। আবেদনে বলা হয়, দুজনের বিরুদ্ধে অনিয়ম–দুর্নীতির অভিযোগ আছে। বর্তমানে অভিযোগ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। অভিযোগ–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দেশ ছেড়ে পালাতে পারেন বলে জানা যায়। সে জন্য তাঁদের বিদেশগমনে নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন।
সাইফুলের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ
সাবেক সেনা কর্মকর্তা লে. জেনারেল সাইফুল আলমের নামে থাকা একটি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁর স্ত্রী ও দুই মেয়ের নামে থাকা পাঁচ কাঠার প্লট জব্দের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ এ আদেশ দেওয়া হয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন বলেন, সাইফুল আলমের ব্যাংক হিসাবটিতে আছে ৭৭ লাখ টাকা। আর যে প্লট জব্দের আদেশ হয়েছে, তার জন্য ২ কোটি ৭৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা জমা দেওয়া হলেও এখনো রেজিস্ট্রেশন হয়নি।
দুদকের উপপরিচালক তাহাসিন মুনাবীল হক এই আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, সাইফুল আলমের দাখিল করা সম্পদ বিবরণী যাচাই করা হচ্ছে। অনুসন্ধানকালে বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, অভিযোগ–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিসহ তাঁর পরিবারের সদস্যরা ব্যাংক হিসাবের অর্থ ও প্লট অন্যত্র হস্তান্তর, স্থানান্তর বা বেহাত করার চেষ্টা করছেন। সে জন্য ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ ও স্থাবর সম্পদ জব্দ করা দরকার।