অ্যান্টিটোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্সের (আত্মা) সঙ্গে এনবিআরের প্রাক্‌-বাজেট বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়
অ্যান্টিটোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্সের (আত্মা) সঙ্গে এনবিআরের প্রাক্‌-বাজেট বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়

এনবিআর-আত্মা প্রাক্‌-বাজেট আলোচনা: সিগারেটের দাম বাড়ালে ৪৪ হাজার কোটি টাকা বাড়তি রাজস্ব

সিগারেটের নিম্ন ও মধ্যম স্তর এক করে প্রতি ১০ শলাকার দাম ১০০ টাকা, উচ্চ স্তরে ১৫০ এবং প্রিমিয়ামে ২০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে অ্যান্টিটোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স (আত্মা)। এর সঙ্গে প্রতি প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট শুল্ক যোগ করলে চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আসতে পারে এবং দীর্ঘ মেয়াদে প্রায় চার লাখ অকালমৃত্যু রোধ সম্ভব বলে জানানো হয়।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে প্রাক্‌-বাজেট আলোচনায় অ্যান্টিটোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্সের (আত্মা) পক্ষ থেকে এই সংস্কার প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। তামাকবিরোধী সংগঠন প্রজ্ঞার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বৈঠকে এনবিআরের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, কর ও দাম বাড়ালে সিগারেটের ব্যবহার কমে—এটি প্রমাণিত, তাই ভবিষ্যতেও তা বিবেচনায় থাকবে।

আলোচনায় আরও জানানো হয়, কার্যকর মূল্যবৃদ্ধির অভাবে তামাকপণ্য তুলনামূলক সস্তা হয়ে পড়ছে। বর্তমানে দেশে ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক তামাক ব্যবহার করেন এবং এ কারণে বছরে প্রায় ২ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়।

আলোচনা সভায় জানানো হয়, কার্যকর মূল্যবৃদ্ধির অভাবে সিগারেট ও অন্যান্য তামাকপণ্যের প্রকৃত মূল্য কমে যাচ্ছে এবং নিত্যপণ্যের তুলনায় সস্তা হয়ে পড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া সিগারেটের দামের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, ভুটান, নেপাল ও ভারতের নিচে। তামাকপণ্যের মূল্য কার্যকরভাবে বৃদ্ধি করতে ইতিমধ্যে ভারত, থাইল্যান্ড, তুরস্কসহ বিশ্বের ৬৯টি দেশ অ্যাডভেলরেম পদ্ধতির পাশাপাশি ও সুনির্দিষ্ট কর প্রচলন করেছে। সুনির্দিষ্ট কর তামাকপণ্যের সর্বনিম্ন মূল্যবৃদ্ধিতে অত্যন্ত কার্যকর এবং এই পদ্ধতিতে কর আহরণ তুলনামূলক সহজ।

প্রাক্‌-বাজেট আলোচনায় আত্মার প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেন দৈনিক জনকণ্ঠের চিফ রিপোর্টার কাওসার রহমান, ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশ-এর হেড অব অনলাইন (বাংলা) মো. মনির হোসেন, বাংলা ট্রিবিউনের বিজনেস ইনচার্জ মো. শফিকুল ইসলাম, ‘আত্মা’র কনভেনর মর্তুজা হায়দার এবং কো-কনভেনর নাদিরা কিরণ ও মিজান চৌধুরী।