
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে শ্রেণিকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে ‘কটূক্তি ও আপত্তিকর’ মন্তব্যের অভিযোগে আটক শিক্ষক গোলাম কিবরিয়াকে (লালন) ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার দিবাগত রাতে এক ফেসবুক পোস্টে এ কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও তাঁর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই ওই শিক্ষককে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
গোলাম কিবরিয়া উপজেলার প্রাগপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বাংলা বিষয়ের শিক্ষক। বুধবার বেলা ১১টার দিকে ভেড়ামারা-প্রাগপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রাগপুর এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি ও আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে তাঁকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছিলেন দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান।
রাতে ফেসবুক পোস্টে মাহদী আমিন লেখেন, শিক্ষককে আটকের বিষয়টি জানতে পেরে প্রধানমন্ত্রী সংক্ষুব্ধ হন এবং সংশ্লিষ্ট থানাকে নির্দেশ দেন শিক্ষককে সসম্মানে ছেড়ে দিয়ে নিরাপদে তাঁর বাসায় পৌঁছে দিতে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পরে পুলিশ তাঁকে নিরাপদে বাসায় পৌঁছে দেয়।
ফেসবুক পোস্টে আরও বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, মতের ভিন্নতা থাকতেই পারে; প্রত্যেক মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ও মতামত তাঁর নিজস্ব। কারও মতের সঙ্গে একমত না হলেও তাঁর মতপ্রকাশের অধিকারকে সম্মান করা উচিত। ভিন্নমত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি এই সম্মানই গণতন্ত্রের শক্তি। প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন, ইতিবাচক আচরণ, পারস্পরিক সম্মান ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি সমাজকে শক্তিশালী করবে।
স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বেলা তিনটার দিকে দশম শ্রেণির বাংলা ক্লাস নিচ্ছিলেন গোলাম কিবরিয়া। এ সময় জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বাংলা ভাষণের প্রসঙ্গ ওঠে। ওই সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর বাংলা উচ্চারণ নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ করে শিক্ষার্থীরা। এতে অনেকের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।
স্কুল ছুটির পর শিক্ষার্থীরা বিষয়টি বাইরে অনেকের সঙ্গে আলোচনা করে। এ ঘটনার জের ধরে বুধবার সকালে অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তির দাবি জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে অভিযান চালিয়ে শিক্ষক গোলাম কিবরিয়াকে আটক করা হয়।
আটকের পর প্রাগপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফুজ্জামান বলেন, মঙ্গলবার রাতে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। পরদিন সকালে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি–সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে ওই শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘ প্রবাসজীবনে থাকার কারণে বাংলা উচ্চারণে কিছুটা অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে—এমন মন্তব্যই তিনি করেছিলেন।
পরে রাতে দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ওই শিক্ষককে দিবাগত রাত পৌনে ১২টায় ‘সসম্মানে’ গাড়িতে করে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে এসেছেন তিনি।