
মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আমৃত্যু কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে বাগেরহাটের খান আকরাম হোসেনের করা আপিল মঞ্জুর করেছেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ আজ বৃহস্পতিবার এ রায় দেন।
মানবতাবিরোধী অপরাধের ওই মামলায় ২০১৫ সালের ১১ আগস্ট রায় দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রায়ে বাগেরহাটের শেখ সিরাজুল হককে মৃত্যুদণ্ড এবং খান আকরাম হোসেনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দণ্ডাদেশের রায়ের বিরুদ্ধে একই বছর আপিল বিভাগে খান আকরাম আপিল করেন।
আপিলের ওপর শুনানি শেষে আজ রায় দেন আপিল বিভাগ। আদালতে খান আকরাম হোসেনের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইমরান এ সিদ্দিক শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম শুনানি করেন।
পরে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইমরান এ সিদ্দিক প্রথম আলোকে বলেন, আপিল মঞ্জুর হওয়ায় ওই মামলা থেকে খান আকরাম হোসেন খালাস পেলেন। তিনি কাশিমপুর কারাগারে আছেন। খালাস পাওয়ায় তাঁর কারামুক্তিতে আইনগত বাধা নেই।
অবশ্য চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, আপিল বিভাগের রায় পাওয়ার পর পর্যালোচনা সাপেক্ষে তা রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) চেয়ে আবেদন করা হবে।
মুক্তিযুদ্ধের সময় সংগঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ওই মামলায় ২০১৪ সালের ১০ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। একই বছরের ২০ জুন আকরামকে রাজশাহী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আত্মগোপনে থাকা সিরাজুলকে ২০১৪ সালের ২১ জুলাই বাগেরহাট সদর উপজেলার ডেমা গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ মামলায় তিন আসামির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে সাতটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। ট্রাইব্যুনালের রায়ে সিরাজুলের বিরুদ্ধে আনা ছয়টির মধ্যে পাঁচটি অভিযোগ এবং আকরামের বিরুদ্ধে আনা দুটি অভিযোগের মধ্যে একটি প্রমাণিত হয়। পাঁচটিতে সিরাজুলকে মৃত্যুদণ্ড এবং একটিতে আকরামকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অপর আসামি আবদুল লতিফ তালুকদার বিচার চলার সময় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ায় আসামির তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়।
এর আগে গত মে মাসে জামায়াত নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলাম একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ থেকে খালাস পান। তিনি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হয়েছেন। জামায়াতের নতুন কমিটিতে নায়েমে আমিরের দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি।