
গণমাধ্যমের সর্বোচ্চ স্বাধীনতার জন্য জবাবদিহির সীমানা নির্ধারণ করার জন্য গণমাধ্যমসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, গণমাধ্যমের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য জবাবদিহির সীমানা কতটুকু ও কীভাবে নির্ধারণ করতে হবে, তা সরকারকে অবহিত করুন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের নির্ধারিত সেই সীমানার মধ্যে যাতে কোনো গোয়েন্দা সংস্থা, রাষ্ট্রীয় অথবা রাষ্ট্রবহির্ভূত কোনো হস্তক্ষেপ গণমাধ্যমকে কোনো ধরনের বাধাগ্রস্ত করতে না পারে সেই দায়িত্ব তথ্য মন্ত্রণালয় পালন করার জন্য প্রস্তুত আছে।’
বুধবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।
চট্টগ্রাম ক্লাবের সুইমিংপুল সাইডে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান বক্তার বক্তব্য দেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের মালিকদের উদ্দেশে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘গণমাধ্যম আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার কোনো আনুষ্ঠানিক স্তম্ভ নয়। কিন্তু বিচার বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ ও আইন বিভাগের পাশাপাশি গণমাধ্যম এমনভাবে বিরাজ করে, যে কারণে রাষ্ট্রবিজ্ঞান গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলে। আমি অত্যন্ত সৌভাগ্যবান, আমাদের প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে আমার ওপর আস্থা রেখেছেন দায়িত্ব পালন করার জন্য।’
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গণমাধ্যমের মতো এ রকম একটা ক্ষেত্র, যেখানে আমরা চাই পরিপূর্ণ স্বাধীনতা থাকুক। আমাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মধ্যেই আমরা গণমাধ্যমের এই স্বাধীনতার কথা উচ্চারণ করেছি। আমাদের নেতা তারেক রহমান বারবার এ কথা বলেছেন।’
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘আবার একই সঙ্গে আপনারা জানেন কোনো স্বাধীনতা যদি দায়িত্বের কাঠামোর মধ্যে আবদ্ধ করা না যায়, তাহলে স্বাধীনতার সুফল ভোগ করা যায় না। অপর দিকে এই কাঠামো, জবাবদিহির এই সীমানা যদি আমরা একতরফা সরকার থেকে নির্ধারণ করতে যাই, তাহলে অতীতের সরকারের সঙ্গে আমাদের কোনো পার্থক্য থাকবে না।’
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের যৌথভাবে চলার পথনকশা তৈরি করতে হবে। তারপর সেই পথনকশা ধরে আমরা যদি প্রকৃত অর্থে একটি স্বাধীন গণমাধ্যমের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারি, তাহলে আপনারা-আমরা আমাদের অভিষ্ট লক্ষ্যে যেতে পারব।’
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘আমি ইতিমধ্যে দেখলাম সরকারের পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপন বণ্টন করার তেমন কোনো নীতিমালা নেই। সরকারি দলের দয়া–দাক্ষিণ্য অথবা তোষামোদি করাটাই হয়ে গেছে একটা মাধ্যম। বিভিন্ন পর্যায়ে আমরা যে অনুদানগুলো দিয়ে থাকি, সেখানেও কোনো নিয়ম–নীতিমালা নেই। বিভিন্ন পত্রিকা ব্যাঙের ছাতার মতো তৈরি হচ্ছে, আমাকে অনেক পত্রিকার মালিক বলেছেন, এ ব্যাপারে নীতিমালা থাকা দরকার। আবার বিভিন্ন ধরনের জন্ম নেওয়া গণমাধ্যম যদি আমরা ঠেকাতে যাই, তাহলে গণমাধ্যমের কণ্ঠস্বর রোধ করার প্রশ্ন দেখা দিতে পারে। এ পরিস্থিতিতে এই ব্যবস্থার ওপরে রাষ্ট্র তাকিয়ে তাকিয়ে দেখতে পারে না।’
তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘আমরা ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নের ওপরে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে চাচ্ছি, যাতে সাংবাদিকেরা একটা ন্যায্য বেতনকাঠামোর মধ্যে থাকতে পারে। ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নকারী পত্রিকাকে আমরা একভাবে দেখব, ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন করতে পারে নাই, এমন পত্রিকাকে আমরা আরেকভাবে দেখব। এভাবে প্রত্যেকটি পর্বে পর্বে নিয়ম-নীতিমালা আমরা তৈরি করার চেষ্টা করছি।’
প্রধান বক্তা পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বলেন, ‘সংবাদমাধ্যম হচ্ছে আমাদের সমাজের দর্পণ। আমরা বিশ্বাস করতে চাই, এই পিপলস পার্লামেন্ট সব সময় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে থাকবে, দেশের মানুষের সঙ্গে থাকবে, দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের সঙ্গে থাকবে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে বহুদলীয় গণতন্ত্রের চর্চা প্রবর্তন করেছিলেন, সেটির ধারাবাহিকতা যেন আমরা রক্ষা করতে পারি। সাংবাদিকেরাও বাংলাদেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রের পক্ষে সব সময় সোচ্চার থাকবেন—সেই প্রত্যাশা রইল।’
চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদ ও যুগ্ম সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ আরিফের যৌথ সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক কালের কণ্ঠের সম্পাদক কবি হাসান হাফিজ, চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ শাহজাহান চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ শাহনওয়াজ, প্রেসক্লাবের জ্যেষ্ঠ সদস্য মঈনুদ্দিন কাদেরী শওকত, পিপলস ভিউ সম্পাদক ওসমান গণি মনসুর, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি মুস্তফা নঈম, সিএমইউজের সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমান, ছাত্রনেতা রিদুয়ান সিদ্দিকীসহ অনেকে।