
মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেছেন, গণতন্ত্র থাকলেই অধিকার নিশ্চিত হয় না। গণতন্ত্রের লেবাসেও স্বৈরাচার থাকে। বিগত ১৭ বছরে তা দেখা গেছে। এখান থেকে শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন।
আজ রোববার রাজধানীর আগারগাঁও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন। জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
মন্ত্রী বলেন, সমাজে বৈষম্য দূর করতে সব মানুষের অধিকার ও স্বকীয়তার প্রতি সম্মান থাকতে হবে। বর্তমান সরকার নারী ও কন্যাদের অধিকার সংরক্ষণে তৎপর, তবে ১৮ কোটি মানুষের দেশে একা সরকার কোনো উদ্যোগ সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে পারবে না। তাই সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগ অপরিহার্য।
মন্ত্রী জাহিদ হোসেন আরও বলেন, বিএনপি সরকার আগে যখন ক্ষমতায় ছিল, নারী ও কন্যাদের অধিকার রক্ষায় নিবেদিত ছিল। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারও নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় নিবেদিত থাকবে।
অনুষ্ঠানে সমাজসেবী নারী ও শিশু অধিকারকর্মীদের সম্মাননা দেওয়া হয়। শিশুদের শিক্ষা নিয়ে কাজ করায় গুণীজন সম্মাননা দেওয়া হয় ‘সুরভি’ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমানের মা সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুকে। এ ছাড়া সম্মাননা দেওয়া হয় নারী অধিকারকর্মী ও নারীপক্ষের প্রতিষ্ঠাতা শিরিন পারভীন হককে। তাঁদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন।
সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নারী ও কন্যাশিশুদের অধিকার রক্ষায় পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু বলেন, ‘আমাদের দেশের কন্যা ও শিশুরা সব সময় অবহেলিত। গ্রামের অনেক কন্যারা শিক্ষার অধিকার থেকে এখনো বঞ্চিত।’
শিরিন পারভীন হক বলেন, নারীপক্ষ সব সময় আন্দোলন করেছে নারীর অধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে। নারীপক্ষের শুরুর দিকে কার্যক্রম পরিচালিত হতো তাঁর মায়ের বাড়িতে। অনুষ্ঠানে তাই তিনি তাঁর প্রয়াত মায়ের অবদানের কথা স্মরণ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুজন সম্পাদক ও জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সভাপতি বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, নারী ও কন্যাশিশুরা বাল্যকাল থেকে বৈষম্যের শিকার হন। বৈশ্বিকভাবেও এমন বাস্তবতা রয়েছে। নারী ও কন্যাদের এই বঞ্চনা থেকে অবসানের জন্যই ফোরামের সৃষ্টি।
বদিউল আলম মজুমদার বলেন, কন্যা ও নারীদের প্রতি পুরুষতান্ত্রিক সমাজের নিগৃহীতের সংস্কৃতি হাজার বছরের। তাই এখন সমাজে প্রতিষ্ঠা করতে হবে—কন্যারা গুরুত্বপূর্ণ। কন্যা ও নারীদের অধিকার আদায়ের পাশাপাশি তারা যে সমাজের বোঝা নয়, সেটা প্রতিষ্ঠা করা দরকার। কারণ, নারীরা যদি অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়, তাহলে সব মানুষ তার অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে। তাই পুরুষদেরও নারীর অধিকারের জন্য দাঁড়াতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান বলেন, যে জাতির নারীরা এগিয়ে যায়, সেই জাতি সামগ্রিকভাবে এগিয়ে যায়। বর্তমান সরকার কন্যাশিশুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। সেই লক্ষ্যে নারীদের স্নাতকোত্তর পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করার প্রয়াস নেবে। একমাত্র শিক্ষার মাধ্যমেই একটি কন্যাশিশু অন্ধকার জীবন থেকে আলোকিত জীবনে পদার্পণ করবে, যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে এবং বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পাবে।
জুবাইদা রহমান প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নারীশিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নে অবদানের জন্য তাঁকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
অনুষ্ঠানে মানবাধিকারকর্মী ও লেখক ইলারা দেওয়ান বলেন, যে দুজনকে সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে তাঁরা বহু ঘাত–প্রতিঘাত পেরিয়ে এ পর্যন্ত এসেছেন। বর্তমান সরকার নারী ও কন্যাশিশুদের অধিকার আদায়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে, এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আর কোনো কন্যাশিশুকে যেন জঙ্গল থেকে গলাকাটা অবস্থায় বেরিয়ে আসতে না হয়। সবাই নিরাপদ থাকবে—সেই প্রত্যাশা।
অ্যাকশন ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্টের অ্যাডভোকেসি কো–অর্ডিনেটর গুল ই জান্নাত জেনি ও জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের নির্বাহী সদস্য আমিনুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন দ্য হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর প্রশান্ত ত্রিপুরা, ফোরামের যুগ্ম সম্পাদক ওয়াহিদা বানু, ফোরামের সহসভাপতি শাহীন আক্তার ডলি, বাংলাদেশ ওয়াইডাব্লিউসিএর হেলেন মনীষা প্রমুখ।