এনবিআরের আয়কর দাবি: গ্রামীণ কল্যাণ ও গ্রামীণ টেলিকম ট্রাস্টের রিট তালিকা থেকে বাদ

হাইকোর্ট
ফাইল ছবি

আয়কর বাবদ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা দাবির বিরুদ্ধে গ্রামীণ কল্যাণ ও গ্রামীণ টেলিকম ট্রাস্টের করা পৃথক তিনটি রিট কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি মুহম্মদ মাহবুব-উল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষ বলেছে, এখন রিটগুলো দ্রুত শুনানির জন্য হাইকোর্টের অন্য বেঞ্চে উপস্থাপন করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠান দুটির চেয়ারম্যান নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। রাষ্ট্রপক্ষের তথ্যমতে, গ্রামীণ কল্যাণ ও গ্রামীণ টেলিকম ট্রাস্ট—এই দুটি প্রতিষ্ঠানের কাছ ২০১২–১৩ থেকে ২০১৬–১৭ কর বছর পর্যন্ত আয়কর বাবদ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এবিআর) পাওনা প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা। এই দাবির বিপরীতে গ্রামীণ কল্যাণ ২০১৭ সালে দুটি এবং গ্রামীণ টেলিকম ট্রাস্টের পক্ষে ২০২০ সালে একটি রিট করা হয়। এর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল দিয়ে পাওনা দাবিসংক্রান্ত নোটিশের কার্যক্রম অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য স্থগিত করেন। পরবর্তী সময়ে স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ানো হয়। রাষ্ট্রপক্ষ এ–সংক্রান্ত রুল শুনানির জন্য উদ্যোগ নেয়। এর ধারাবাহিকতায় তিনটি রিট আজ আদালতের কার্যতালিকায় ওঠে।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস। গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সরদার জিন্নাত আলী।

পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, ২০১৭ সাল থেকে গ্রামীণ কল্যাণের দুটি এবং ২০২০ সাল থেকে গ্রামীণ কল্যাণ ট্রাস্টের একটি—এ তিনটি রিট বিচারাধীন। দুটি প্রতিষ্ঠানের কাছে এবিআরের পাওনা প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা। এখানে সরকারের অনেক টাকার রাজস্ব আটকে আছে। রুল নিষ্পত্তির মধ্য দিয়ে বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে। তাই দ্রুত রুল শুনানি প্রয়োজন। রুল দ্রুত শুনানির জন্য এখন হাইকোর্টের অন্য বেঞ্চে রিটগুলো উপস্থাপন করা হবে।

আইনজীবী সরদার জিন্নাত আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘গ্রামীণ কল্যাণের কাছে এনবিআরের দাবি করা তর্কিত অর্থের পরিমাণ প্রায় ৮০০ কোটি টাকা। এ নিয়ে দুটি রিট করা হয়। গ্রামীণ টেলিকম ট্রাস্টসহ সব মিলিয়ে তর্কিত অর্থের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা হবে। তবে তর্কিত দাবি সঠিক কি না, তা রুল নিষ্পত্তির মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত হবে। হাইকোর্ট তিনটি রিট কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন।’