ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে গত ১০ জুলাই হওয়া ট্রান্সজেন্ডার বিয়েকে কেন্দ্র করে জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি ও প্রতারণামূলক ব্যবহার, মিথ্যা পরিচয় দেওয়াসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট।
এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার এ রুল দেন। ওই সব অভিযোগ তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা–ও জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।
‘বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ট্রান্সজেন্ডার বিয়ে সম্পন্ন’ শিরোনামে গত ২৯ জুলাই একটি দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এটি যুক্ত করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ মেসবাহ উদ্দিন চৌধুরী আবেদনকারী হয়ে গত ৩০ আগস্ট রিটটি করেন। রিটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব, ধর্মসচিব, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, লালবাগ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার ও চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) বিবাদী করা হয়।
আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ আহসান ও ইশরাত হাসান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আবদুস সামাদ আজাদ।
রিট আবেদনকারী পক্ষ বলেছে, ওই বিয়েতে কনে হিসেবে যাঁকে উপস্থাপন করা হয়, তাঁর যে জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়া হয়, সেটা প্রকৃতপক্ষে একজন পুরুষের। দেশের প্রচলিত আইনে দুই জন্মগত পুরুষের মধ্যে বিয়ে বা স্বঘোষিত ট্রান্সজেন্ডার পরিচয়ের ভিত্তিতে একজন জন্মগত পুরুষকে বিয়ের উদ্দেশ্যে নারী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার কোনো বিধান নেই।
২০২৩ সালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি চিঠির উল্লেখ করে রিটে বলা হয়, বাংলাদেশে লিঙ্গ পরিবর্তনের বৈধতা প্রদানকারী কোনো আইন বা বিধান নেই বলে তাতে উল্লেখ করা হয়েছিল।
রিট আবেদনকারীর আইনজীবী ইশরাত হাসান সাংবাদিকদের বলেন, ‘রিটের বিষয় শুধু কথিত ট্রান্সজেন্ডার বিয়ে নয়। এখানে অন্য ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর ব্যবহার করে ভুয়া পরিচয়পত্র তৈরির গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে এমন একটি বৈবাহিক অবস্থানকে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যার কোনো আইনগত স্বীকৃতি বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে নেই। আমরা আদালতের কাছে এসব অভিযোগের তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ চেয়েছি।’