শুনানি শেষে আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হচ্ছে সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমকে। ২০ জুলাই
শুনানি শেষে আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হচ্ছে সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমকে। ২০ জুলাই

এনআরবি ব্যাংকের ঋণখেলাপির দুই মামলায় সাহেদকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ

চেক প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার রিজেন্ট হাসপাতাল ও রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমকে এনআরবি ব্যাংকের ঋণখেলাপির দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ সোমবার ঢাকার চতুর্থ অর্থঋণ আদালতের বিচারক মো. মোশাররফ হোসেন শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। সাহেদের আইনজীবী মোহাম্মদ দবির উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আজ আদালতে ওই দুটি মামলায় সাহেদের জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল। তবে অর্থঋণ আদালতের নিয়মানুযায়ী দাবিকৃত অর্থের ২৫ শতাংশ জমা না দেওয়ায় আদালত তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন। এই আদেশের বিরুদ্ধে তাঁরা দ্রুতই উচ্চ আদালতে আপিল করবেন। আইনজীবী দবির উদ্দিন আরও দাবি করেন, সাহেদের নামে যে এ ধরনের মামলা ছিল, সে বিষয়ে আগে থেকে তাঁরা কিছুই জানতেন না।

মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালে রিজেন্ট হাসপাতালের নামে এনআরবি ব্যাংক থেকে ১ কোটি ৫১ লাখ ৮১ হাজার টাকা ঋণ নেন সাহেদ। এ ছাড়া নিজের নামে ৫ লাখ ৫৫ হাজার টাকার একটি ক্রেডিট কার্ড সুবিধাও নিয়েছিলেন তিনি। দীর্ঘ দিনেও ঋণ ও ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া পরিশোধ না করায় ২০২১ সালে এনআরবি ব্যাংক পৃথক দুটি মামলা করে। বর্তমানে সুদ ও আসল মিলিয়ে ব্যাংকের মোট দাবির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

এর আগে গত ২০ জুলাই রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকা থেকে মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংকের ২ কোটি ১৬ লাখ টাকার একটি চেক ডিজঅনার মামলায় আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে সাহেদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর পর থেকে তিনি কারাগারেই রয়েছেন।

উল্লেখ্য, করোনাকালে রোগীদের নমুনা পরীক্ষা না করে ভুয়া প্রতিবেদন দেওয়া ও প্রতারণার অভিযোগে ২০২০ সালে দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদ করিম। অস্ত্র, প্রতারণা ও অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ৩৫টির বেশি মামলা রয়েছে। ২০২০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর অস্ত্র আইনের একটি মামলায় তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন মামলায় জামিন পাওয়ার পর প্রায় চার বছর কারাভোগ শেষে ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন।