শপথ নিচ্ছেন নতুন মন্ত্রিসভার প্রতিমন্ত্রীরা। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা, ঢাকা; ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
শপথ নিচ্ছেন নতুন মন্ত্রিসভার প্রতিমন্ত্রীরা। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা, ঢাকা; ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বিশ্লেষণ

নতুনদের কাঁধে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়, জ্যেষ্ঠ নেতাদের কেউ কেউ পেয়েছেন কম

অভিজ্ঞ ও নতুনদের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে বিএনপির নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা। তবে এবার অনেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী প্রথমবারই দায়িত্ব পেয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ একাধিক মন্ত্রণালয়ের। আবার জ্যেষ্ঠ নেতাদের কেউ কেউ কম গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। পাশাপাশি একাধিক মন্ত্রণালয় একজন মন্ত্রীর অধীনে এনে সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী রাখা হয়েছে। ফলে তাঁদের কাজের সমন্বয় কীভাবে হবে, তা এখনো স্পষ্ট হয়নি।

অবশ্য সরকার–ঘনিষ্ঠদের কেউ কেউ বলছেন, প্রতিমন্ত্রীদের কাজ হয়তো ভাগ করে দেওয়া হবে।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গত মঙ্গলবার ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভা (প্রধানমন্ত্রীসহ) যাত্রা শুরু করে। এর মধ্যে পূর্ণ মন্ত্রী ২৫ ও প্রতিমন্ত্রী ২৪ জন। তাঁদের মধ্যে প্রথমবার মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন ৪১ জন। গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ইতিমধ্যে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা নিজ নিজ দপ্তরে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

অবশ্য সরকার–ঘনিষ্ঠদের কেউ কেউ বলছেন, প্রতিমন্ত্রীদের কাজ হয়তো ভাগ করে দেওয়া হবে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, সড়ক ও সেতু, রেল, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ কিছু মন্ত্রণালয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কারণ, এসব মন্ত্রণালয়ে বার্ষিক বাজেটে বরাদ্দ বেশি দেওয়া হতো। উন্নয়ন প্রকল্পও ছিল অনেক। গুরুত্বপূর্ণ এসব মন্ত্রণালয়ের প্রতিটির জন্য আলাদা মন্ত্রী রাখা হতো। কিছু মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী না থাকলেও প্রতিমন্ত্রীকে মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হতো।

এবার কিছু ক্ষেত্রে একাধিক মন্ত্রণালয় একজন মন্ত্রীর অধীনে আনা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে একজন মন্ত্রীর অধীনে অনেকগুলো মন্ত্রণালয় দেওয়া হয়েছে। আবার মন্ত্রীর সঙ্গে একাধিক প্রতিমন্ত্রী থাকারও নজির তৈরি হয়েছে।

বড় দায়িত্ব দিয়ে শুরু

মন্ত্রীদের শপথের পর প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন ২৪ জন

টেকনোক্র্যাট কোটায় প্রথমবার মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন আমিন উর রশিদ। তিনি কৃষি, খাদ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ—এই তিনটি মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। অতীতে এসব মন্ত্রণালয় আলাদা মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী সামলেছেন। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে অতীতে জ্যেষ্ঠ নেতারা ছিলেন।

এই তিন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন সুলতান সালাউদ্দিন (টুকু), যিনি এবারই প্রথম সংসদ সদস্য হয়েছেন।

এবার কিছু ক্ষেত্রে একাধিক মন্ত্রণালয় একজন মন্ত্রীর অধীনে আনা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে একজন মন্ত্রীর অধীনে অনেকগুলো মন্ত্রণালয় দেওয়া হয়েছে। আবার মন্ত্রীর সঙ্গে একাধিক প্রতিমন্ত্রী থাকারও নজির তৈরি হয়েছে।

ঢাকা-১০ আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়ে পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন শেখ রবিউল আলম। তাঁর অধীনে দেওয়া হয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। বিগত বছরগুলোতে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ পাওয়া মন্ত্রণালয়ের মধ্যে এই তিনটি মন্ত্রণালয় ছিল। পৃথক পূর্ণ মন্ত্রী ছিলেন, যাঁর দায়িত্বে থাকতেন জ্যেষ্ঠ ও গুরুত্বপূর্ণ নেতারা। এই তিন মন্ত্রণালয়ের অধীনে অনেকগুলো বিভাগ ও অধিদপ্তর রয়েছে।

নতুন সরকারে এই তিন মন্ত্রণালয়ের জন্য দুজন প্রতিমন্ত্রীও রয়েছেন। তাঁরা হলেন হাবিবুর রশিদ ও রাজীব আহসান। তাঁরা দুজন প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েছেন। একজন মন্ত্রীর অধীনে দুজন প্রতিমন্ত্রীর নজির বিরল।

এবার কিছু ক্ষেত্রে একাধিক মন্ত্রণালয় একজন মন্ত্রীর অধীনে আনা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে একজন মন্ত্রীর অধীনে অনেকগুলো মন্ত্রণালয় দেওয়া হয়েছে। আবার মন্ত্রীর সঙ্গে একাধিক প্রতিমন্ত্রী থাকারও নজির তৈরি হয়েছে।

পুরো সিলেট বিভাগ থেকে দুজন পূর্ণ মন্ত্রী হয়েছেন। দুজনই সিলেট জেলা থেকে। তাঁরা হলেন খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর ও আরিফুল হক চৌধুরী। দুজনই এবার প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েছেন। তবে আরিফুল হক চৌধুরী অতীতে দুবার সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র ছিলেন।

আবদুল মুক্তাদীর শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। নিকট অতীতে এই তিন মন্ত্রণালয় আলাদা আলাদা মন্ত্রী সামলেছিলেন। দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, নিত্যপণ্য, শিল্প বিস্তার ও বস্ত্র খাত দেখার দায়িত্ব এই মন্ত্রণালয়গুলোর। এই তিন মন্ত্রণালয়ের জন্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন কিশোরগঞ্জের শরিফুল আলম। তিনি এবার প্রথম সংসদ সদস্য হয়েছেন।

টেকনোক্র্যাট কোটায় প্রথমবার মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন আমিন উর রশিদ। তিনি কৃষি, খাদ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ—এই তিনটি মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। অতীতে এসব মন্ত্রণালয় আলাদা মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী সামলেছেন। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে অতীতে জ্যেষ্ঠ নেতারা ছিলেন। এই তিন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন সুলতান সালাউদ্দিন (টুকু), যিনি এবারই প্রথম সংসদ সদস্য হয়েছেন।

আরিফুল হক চৌধুরী পেয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। এই দুই মন্ত্রণালয়ের জন্য এবার প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে নুরুল হককে। গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক এবার প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

ঢাকা-১০ আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়ে পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন শেখ রবিউল আলম। তাঁর অধীনে দেওয়া হয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। বিগত বছরগুলোতে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ পাওয়া মন্ত্রণালয়ের মধ্যে এই তিনটি মন্ত্রণালয় ছিল।

জ্যেষ্ঠ নেতা, এক মন্ত্রণালয়

বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। তাঁরা অতীতে একাধিকবার সংসদ সদস্য হয়েছেন এবং মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা আছে তাঁদের।

অতীতে বেশির ভাগ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক বা মহাসচিব। এবার বিএনপির মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর সেই দায়িত্ব পেয়েছেন।

আমীর খসরু মাহমুদ পেয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। অতীতে এই দুটি মন্ত্রণালয় একজন মন্ত্রীর অধীনে থাকার নজির আছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পরিকল্পনার জন্য আলাদা মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। সদ্য গঠিত মন্ত্রিসভায় এই দুই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি। গণসংহতি আন্দোলনের শীর্ষ নেতা সাকি এবার প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ হয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এই মন্ত্রণালয়কে খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়। তাই এখানে এ রকম বড় নেতা প্রত্যাশিত ছিল বলে রাজনৈতিক সূত্রগুলো মনে করে।

আমীর খসরু মাহমুদ পেয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। অতীতে এই দুটি মন্ত্রণালয় একজন মন্ত্রীর অধীনে থাকার নজির আছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পরিকল্পনার জন্য আলাদা মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। সদ্য গঠিত মন্ত্রিসভায় এই দুই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি। গণসংহতি আন্দোলনের শীর্ষ নেতা সাকি এবার প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

ইকবাল হাসান মাহমুদ বিএনপির আগের সরকারে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। এবার তিনি পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। এই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েছেন।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। ২০০১-০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির সরকারে তিনি প্রথমে পাট, পরে পানিসম্পদমন্ত্রী ছিলেন। শেষের দিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও তাঁর অধীনে দেওয়া হয়। সেই তুলনায় তিনি এবার অপেক্ষাকৃত ছোট মন্ত্রণালয় পেয়েছেন। তাঁর সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ঢাকা-৭ থেকে প্রথমবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনকে।

ব্যবসায়ী নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টু প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েছেন। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠনের নেতৃত্ব দেওয়া এই নেতাকে করা হয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী। একই মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রথমবার সংসদ সদস্য হওয়া শেখ ফরিদুল ইসলামকে। সাধারণত এই মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী দেওয়া হয় না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেনকে মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন ফারজানা শারমিন।

প্রচলিত ধারণা ছিল চিকিৎসক নেতা জাহিদ হোসেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পেতে পারেন। কিন্তু স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন অনেকটা আলোচনার বাইরে থাকা সরদার সাখাওয়াত হোসেন (বকুল)।

মিজানুর রহমান মিনু রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন ১৭ বছর। একাধিকবার সংসদ সদস্যও হয়েছেন। তাঁকে করা হয়েছে ভূমিমন্ত্রী। ভূমি প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে কায়সার কামালকে।

ব্যবসায়ী নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টু প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েছেন। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠনের নেতৃত্ব দেওয়া এই নেতাকে করা হয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী। একই মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রথমবার সংসদ সদস্য হওয়া শেখ ফরিদুল ইসলামকে। সাধারণত এই মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী দেওয়া হয় না।

আলোচনায় টেকনোক্র্যাট

সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ সদস্য নন, এমন ব্যক্তিদেরও মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে নিয়োগ দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। তবে শর্ত হচ্ছে, মন্ত্রিসভার মোট সদস্যের এক-দশমাংশের বেশি টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী করা যাবে না।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে শামা ওবায়েদ ইসলামকে। সাবেক ফুটবলার আমিনুল হক যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। অবশ্য এই মন্ত্রণালয়ে কোনো পূর্ণ মন্ত্রী দেওয়া হয়নি। ফলে আমিনুলই মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন।

টেকনোক্র্যাট কোটায় এবার আমিন উর রশিদের বাইরে আরও দুজন মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন। এর মধ্যে খলিলুর রহমান মন্ত্রী ও আমিনুল হক প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। খলিলুর রহমান পেয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তিনি সর্বশেষ অন্তর্বর্তী সরকারের শুরুতে প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা সমস্যা ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়াবলি–সংক্রান্ত হাই রিপ্রেজেনটেটিভ ছিলেন। পরে তাঁকে করা হয় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। অন্তর্বর্তী সরকারে তিনি বিশেষ প্রভাবশালী ছিলেন বলে জানা যায়। নতুন সরকারে তাঁকে মন্ত্রী করায় বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে শামা ওবায়েদ ইসলামকে। সাবেক ফুটবলার আমিনুল হক যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। অবশ্য এই মন্ত্রণালয়ে কোনো পূর্ণ মন্ত্রী দেওয়া হয়নি। ফলে আমিনুলই মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন মন্ত্রিসভায় বড় দপ্তর নতুনদের কাঁধে তুলে দিয়ে ভিন্ন এক চ্যালেঞ্জ নিয়েছে সরকার। এখন সমন্বয় ও বাস্তবায়নের দক্ষতাই নির্ধারণ করবে তাঁরা কতটা সফল হবেন।

লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, এবারের সংসদে অনেক সদস্যই নতুন; প্রধানমন্ত্রীও নতুন। নতুনে কোনো সমস্যা নেই। অতীতে অভিজ্ঞদের মধ্যেও অনেকে প্রত্যাশিত দক্ষতা দেখাতে পারেননি। নতুন সরকারে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্তরা কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন, তা সময়ই বলে দেবে।