দেশে দেড় মাসের বেশি সময় ধরে গ্যাসের সংকট চলছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমায় লোডশেডিং বেড়েছে। গ্যাসের অভাবে শিল্পকারখানা পুরো সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। রান্না ও পরিবহনে বেড়েছে ভোগান্তি। তবে আজ রাত ১০টা থেকে গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে।
তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি তদারক করে পেট্রোবাংলা। আমদানি করে পেট্রোবাংলার কোম্পানি রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল)। এলএনজি সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত দুজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, এলএনজির কার্গো আসা কমায় সরবরাহ বাড়ানো যাচ্ছিল না। এখন কার্গো নিয়মিত আসতে শুরু করেছে। তাই সরবরাহ বাড়ানো হলো।
পেট্রোবাংলা সূত্র বলছে, দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট হলেও ২৬৫ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। গতকাল সরবরাহ করা হয় ২৩৭ কোটি ঘনফুট, যার মধ্যে এলএনজি থেকে এসেছে ৭৫ কোটি ঘনফুট। আজ রাত ১০টায় এলএনজি সরবরাহ বাড়িয়ে ৯৮ কোটি ঘনফুট করা হয়েছে। একই সময় দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন হয়েছে ১৬২ কোটি ঘনফুট। এতে দিনের মোট গ্যাস সরবরাহ দাঁড়িয়েছে ২৬০ কোটি ঘনফুটে। ফলে শিল্পকারখানায় গ্যাস-সংকট কমতে পারে বলে আশা করছে পেট্রোবাংলা।
পেট্রোবাংলা ও আরপিজিসিএল সূত্র বলছে, সেপ্টেম্বরে ১০টি এলএনজি কার্গো আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একাধিকবার দরপত্র দিলেও সব কটি পাওয়া যায়নি। দামও অনেক বেড়ে গেছে। এ মাসে সব মিলে ৯টি কার্গো নিশ্চিত হয়েছে। এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় গানভর যুক্তরাষ্ট্রের দুটি, স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় আরামকোর দুটি এবং খোলাবাজার থেকে কেনা হয়েছে পাঁচটি।
আরপিজিসিএল সূত্র বলছে, এ মাসে আরামকোর দুটি ও ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামের একটি কার্গো ইতিমধ্যে এলএনজি সরবরাহ করেছে। সবশেষ আজ কোরীয় কোম্পানি পস্কোর একটি কার্গো থেকে এলএনজি সরবরাহ করা হয়েছে। এরপর ১৬ সেপ্টেম্বর গানভর, ১৮ সেপ্টেম্বর আরামকো, ২৩ সেপ্টেম্বর টোটাল এনার্জি, ২৫ সেপ্টেম্বর আরামকো ও ২৮ সেপ্টেম্বর গানভরের একটি করে কার্গো আসার কথা। ফলে এলএনজি থেকে সরবরাহ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এর মধ্যেই অক্টোবরের জন্য এলএনজি কার্গো কেনা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে অক্টোবরের ৬টি কার্গো নিশ্চিত হয়েছে। আরও ৫টি কিনতে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
দেশে ৯ বছর ধরে গ্যাসের উৎপাদন কমছে। ঘাটতি পূরণে ২০১৮ সাল থেকে এলএনজি আমদানি শুরু হয়। কক্সবাজারের মহেশখালীতে আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। একটি মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির, অন্যটি দেশি কোম্পানি সামিটের। গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনার পর এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যায়। টানা ২৫ দিনের তীব্র গ্যাস-সংকটের পর গত ১৫ আগস্ট টার্মিনাল পুরোদমে সরবরাহের জন্য তৈরি হয়। তবে এলএনজির নতুন কার্গো কম আসায় সরবরাহ বাড়ানো যাচ্ছিল না।
সাধারণত প্রতি মাসে গড়ে ১০টি এলএনজি কার্গো আনা হয়। তবে এটি চাহিদা বুঝে কিছুটা কমে ও বাড়ে। গত বছর জুলাই–আগস্টে ২১টি কার্গো আনা হলেও এবার এসেছে ১৫টি। সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে (ডিপিএম) কেনা চারটি কার্গো আগস্টে আসার কথা, একটিও আসেনি। এ মাসেও আসার তেমন সম্ভাবনা নেই। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির অধীন কাতার থেকেও আসছে না। বাধ্য হয়ে বেশি দামে খোলাবাজার থেকে কিনতে হচ্ছে।