
‘আমার বাবা এবং আমার বড় ভাই মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। আন্দোলনকারীদের রাজাকার বলায় আমরা সংক্ষুব্ধ হয়ে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করি।’ আজ বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ আসামিপক্ষের আইনজীবীর জেরায় এ কথা বলেছেন সাক্ষী জাকির হোসেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে করা মামলার সাক্ষী জাকির হোসেন। আজ তিনি এই মামলায় অবশিষ্ট জবানবন্দি দেন। পরে তাঁকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।
জাকির হোসেন রাজধানীর আজিমপুরের বাসায় ২৬ বছর ধরে বসবাস করছেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায়।
গণ–অভ্যুত্থানের বর্ণনা দিতে গিয়ে আজ অবশিষ্ট জবানবন্দিতে জাকির হোসেন বলেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই তাঁর বড় ছেলে রেজাউল করিম নীলক্ষেত এলাকায় আন্দোলনরত অবস্থায় পায়ে গুলিবিদ্ধ হন।
পরদিন ২০ জুলাই সকাল থেকে র্যাব, পুলিশ, বিজিবি, ছাত্রলীগ ও যুবলীগ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় বাসায় বাসায় তল্লাশি শুরু করে উল্লেখ করে জাকির হোসেন বলেন, তারা আজিমপুরের তাঁর বাসায়ও তল্লাশি করে। ২৪ জুলাই পর্যন্ত এভাবে বাসায় বাসায় তল্লাশি ও নির্যাতন চলে।
একপর্যায়ে তাঁকে খুঁজতে থাকে উল্লেখ করে জাকির হোসেন বলেন, ২০২৪ সালের ২৪ জুলাই তিনি পালিয়ে চট্টগ্রাম চলে যান। তাঁর গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়াতেও পুলিশ ও আওয়ামী লীগ হামলা করে। তিনি আবার ২৬ জুলাই ঢাকায় চলে আসেন। ২৬ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত তিনি আহত আন্দোলনকারীদের খাবার, চিকিৎসা, পোশাক ইত্যাদি দিয়ে সাহায্য করেন।
২ আগস্ট রাতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীরা তাঁর আজিমপুরের বাড়ি ঘেরাও করে উল্লেখ করে জাকির হোসেন বলেন, তখন তিনি বাড়ির ছাদ থেকে অন্য ছাদে লাফিয়ে পালিয়ে যান। ৩ আগস্ট ভোরে তিনি চট্টগ্রামে পালিয়ে যান। ৩ আগস্ট রাতে সাতকানিয়ার বাড়িতে তাঁর ওপর ভয়ংকর হামলা করে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা। তিনি আন্দোলনে ছাত্রদের সহায়তা করতেন বলে তাঁর ওপর বারবার হামলা হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বেলা ৩টার দিকে বন্ধু খলিলুর রহমান তাঁকে ফোন দিয়ে জানান, রামপুরা, বাড্ডা এলাকায় পুলিশ, বিজিবি, আওয়ামী লীগের লোকজন তাঁদের ঘেরাও করে রেখেছে। খলিলুর বলেন, যেকোনো সময় তাঁদের মেরে ফেলতে পারে। উদ্ধার করার সাহায্য চাইলে তিনি বিকেল ৫টার দিকে বাড্ডায় যান। খলিলুরকে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির বিপরীতে একটি গলির মধ্যে খুঁজে পান। তার শরীরে কয়েক শ স্প্লিন্টারের ক্ষত চিহ্ন দেখতে পান। পরে খলিলুরকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
জাকির হোসেন বলেন, গণমাধ্যমে জানতে পারেন শেখ হাসিনার নির্দেশে ১৪–দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের কুপরামর্শে আন্দোলনকারীদের নির্বিচার গুলি করে হতাহত করা হয়। ওবায়দুল কাদের, রাশেদ খান মেনন, কামরুল ইসলাম ছিলেন শেখ হাসিনার অন্যতম পরামর্শদাতা। তাঁদের সর্বোচ্চ শান্তি চান তিনি।
এই মামলার আসামি রাশেদ খান মেনন ও কামরুল ইসলাম কারাগারে আছেন। আজ তাঁদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।