হাইকোর্ট ভবন
হাইকোর্ট ভবন

হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

সুপ্রিম কোর্টের জন্য স্বাধীন সচিবালয়–সংক্রান্ত রায় এখনই কার্যকর হচ্ছে না: অ্যাটর্নি জেনারেল

সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক স্বাধীন সচিবালয় তিন মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠা করতে নির্দেশ দিয়ে সাত মাস আগে হাইকোর্টের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ১৮৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়।

এর আগে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ শিরোনামে গত বছরের ৩০ নভেম্বর অধ্যাদেশ জারি করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। অধস্তন আদালতের তত্ত্বাবধান, নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাবিধান এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এ অধ্যাদেশ করা হয়। সচিবালয়ের যাত্রাও শুরু হয়। অধ্যাদেশটি এখনই সংসদে বিল আকারে না তোলার সুপারিশ করেছে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি। এমন প্রেক্ষাপটে কী হবে, এমন প্রশ্ন সামনে এসেছে।

জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল প্রথম আলোকে বলেন, রায় দেখেছেন। রায়ে সুপ্রিম কোর্টের জন্য সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করতে এবং বিদ্যমান সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হয়েছে। এখানে গুরুতর আইনি ও সাংবিধানিক প্রশ্ন জড়িত থাকায় রায়ে সংবিধানের ১০৩ অনুচ্ছেদ অনুসারে আপিল করার জন্য সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছে। অর্থাৎ সরাসরি আপিল করা যাবে। সরকারের পক্ষ থেকে আপিল করা হবে। আপিল নিষ্পত্তির মধ্য দিয়ে বিষয়টি চূড়ান্ত হবে। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা কার্যকর হবে না। যেহেতু বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং বিচার সুপ্রিম কোর্টে হচ্ছে, সুতরাং সাংবিধানিক বিষয়টির বিচার এমন মানদণ্ডে উন্নীত হতে হবে, যেন কেউ কখনো সুপ্রিম কোর্ট নিয়ে প্রশ্ন তুলতে না পারে।

এক রিটের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর রায় দেন। রায়ে বিদ্যমান সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করে ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করা হয়। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের জন্য স্বাধীন পৃথক সচিবালয় তিন মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া সংবিধান ও আইনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা জড়িত থাকায় আপিলের জন্য সংবিধানের ১০৩ অনুচ্ছেদ অনুসারে সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়।

বর্তমান সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদে অধস্তন আদালতগুলোর নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিষয়ে বলা আছে। এতে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি, ছুটি মঞ্জুরিসহ শৃঙ্খলা বিধানের বিষয়টি রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত। সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি তা প্রয়োগ করবেন বলে উল্লেখ রয়েছে। আর ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে, বিচারকর্ম বিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তিদের এবং বিচার বিভাগে দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি দান, ছুটি মঞ্জুরিসহ) ও শৃঙ্খলা বিধান সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত থাকবে।

স্থগিতাদেশ না থাকায় রায় কার্যকরে বাধা নেই

সুপ্রিম কোর্টের সাত আইনজীবী ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট ওই রিট করেন। রিটে বর্তমান সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ, ২০১৭ সালের জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালার বৈধতা চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি বিচার বিভাগীয় পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছিল।

আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, রায়ে ১৯৭২ সালের সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করা হয়েছে। ফলে অধস্তন আদালতের পরিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বলতে বদলি, ছুটি, পদোন্নতি ও শৃঙ্খলা সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত হলো। রায়ের আলোকে তিন মাসের মধ্যে সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আপিল করার জন্য সার্টিফিকেট দেওয়া হলেও হাইকোর্টের রায়ে স্থগিতাদেশ নেই। ফলে এখনই কার্যকরে বাধা নেই। তবে অধ্যাদেশের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এই অধ্যাদেশ যেন বাতিল না হয়, সে আহ্বান জানাচ্ছেন।