ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রথমবার ‘রোবোট্রনিকস ফেস্ট’, প্রযুক্তিপ্রেমী তরুণদের লড়াই

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে ‘রোবোট্রনিকস ফেস্ট ২০২৫’ এর সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা, ১০ আগস্ট
ছবি: দীপু মালাকার

দেশের প্রযুক্তিপ্রেমী তরুণ-তরুণীদের অংশগ্রহণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) অনুষ্ঠিত হলো ‘রোবোট্রনিকস ফেস্ট ২০২৫’। ঢাবির রোবোটিকস অ্যান্ড মেকাট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ এবং আরএমই-ডিইউ স্টুডেন্ট ক্লাবের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো এ ধরনের প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়।

রোববার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে এই উদ্ভাবনী প্রযুক্তি প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খানের। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য কাজে ব্যস্ত থাকায় তিনি আসতে পারেননি।

দুই দিনব্যাপী এই ফেস্টে দেশের প্রায় ৫০টি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৮০০ শিক্ষার্থী অংশ নেন। সকারবট, লাইন ফলোয়ার রোবট, মাইক্রোমাউস, ডিইউ এআই চ্যালেঞ্জ (ডেটাথন) এবং প্রজেক্ট শোকেস—এই পাঁচ ধরনের সেগমেন্টে চলে লড়াই। সকারবোটে প্রতিযোগীরা রিমোট কন্ট্রোল রোবট পরিচালনা করে প্রতিপক্ষের বিপক্ষে গোল দেওয়ার (ফুটবল খেলাট মতো) চেষ্টা করেছে। ‘লাইন ফলোয়ার রোবট’ প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের তৈরি রোবটকে জটিল কিছু লাইন অনুসরণ করে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়েছে৷ ‘ডেটাথন’-এ শিক্ষার্থীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেশিন লার্নিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে তথ্য পর্যবেক্ষণ, মডেলিং ও অনুমান করে বাস্তব সমাধান খুঁজেছে।

উদ্ভাবনী প্রকল্প ও গবেষণাভিত্তিক ধারণা উপস্থাপন করা হয় ‘প্রজেক্ট শোকেস’-এ। ‘মাইক্রোমাউস’ ইভেন্ট ছিল ফেস্টের প্রধান আকর্ষণ। এখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাটিয়ে একটি গোলকাধাঁধার (Maze) সমাধান করতে হয়েছে এই তরুণদের তৈরি রোবটকে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাবি কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘তোমাদের দেখে আমার হিংসা হয়। তোমরা এমন সময় এসেছ, তখন এআই চলে এসেছে। আমরাও নিজেদের ভাগ্যবান মনে করতাম যে গুগলকে পেয়েছিলাম।’

জাহাঙ্গীর আলম আরও বলেন, প্রযুক্তি নিয়ে তিনি ভীত নন। এআই হয়তো চাকরিবাজারের কাঠামো পরিবর্তন করবে। কিন্তু চাকরি নষ্ট করবে না। বরং আরও তৈরি করবে। পরিশ্রমের কাজে এই দক্ষতা অনেক ভূমিকা রাখে। কয়েক ঘণ্টার কাজ এক মিনিটে করে দিচ্ছে। এ ধরনের প্রতিযোগিতা বা অলিম্পিয়াডে যারা ভালো করে, বিদেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেতেও তারা এগিয়ে থাকে। তাই প্রতিটি স্কুলে রোবোটিকস এবং এআই ল্যাব স্থাপন করা উচিত। শিশুদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে মেশিন লার্নিং ও ডিপ লার্নিংয়ে ওপর।

‘রোবোট্রনিকস ফেস্ট’ –এ আয়োজক ও অতিথিদের সঙ্গে পুরস্কারবিজয়ীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ১০ আগস্ট

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের যুগ্ম সচিব মুর্তুজা জুলকার নাঈন নোমান বলেন, দেশে প্রথমবারের তো আইসিটি বিভাগ ইনোভেশন ডিজাইন এবং এন্ট্রাপ্রনিউরশিপ ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ করছে। এটার আওতা এত দিন পর্যন্ত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত ছিল। এ বছর থেকে প্রতিটি উপজেলা পর্যায়ের স্কুলেও পৌঁছানোর চেষ্টা করা হবে। এ প্রকল্প থেকে গত এক বছরে ইনোভেটিভ আইডিয়ার জন্য ৪১টি স্টার্টআপকে অনুদান দেওয়া হয়েছে। দেশে ও দেশের বাইরে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর–পড়ুয়ারাও অনুদান পেতে পারেন।

রোবোটিকস অ্যান্ড মেকাট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রকৌশল এবং প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক উপমা কবির  বলেন, বিভাগটি এক দশক পার করেছে। এর মধ্যেই অনেক কিছু আয়োজন করেছে। আগামী বছর এই আয়োজন আরও বড় আকারে এবং আরও বেশি মানুষকে সঙ্গে নিয়ে করা হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের প্রতি তার অঙ্গীকার থেকে দেশ গড়ার ক্ষেত্রে এবং দেশকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকে।

অনুষ্ঠানের সভাপতি (চেয়ার) ও রোবোটিকস অ্যান্ড মেকাট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক সেঁজুতি রহমান বলেন, এটাই এই বিভাগের প্রথম দেশব্যাপী আয়োজন। প্রথমবারই অভূতপূর্ব সাড়া এসেছে। এত শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছিল যে একপর্যায়ে নিবন্ধনপ্রক্রিয়া বন্ধ করতে হয়। কারণ, ছোট্ট বিভাগের এত বড় আয়োজন কঠিন। শিক্ষার্থীদের এই আগ্রহ তাঁদের অনুপ্রাণিত করেছে।
আয়োজনে বক্তব্য দেন অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, সহকারী অধ্যাপক মো. মেহেদী হাসান প্রমুখ।

সকারবটে বিজয়ী হন গভ. শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের দল ‘ব্ল্যাক সাবের’। লাইন ফলোয়ার রোবট ও মাইক্রোমাউসে প্রথম হন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দল ‘দুর্বার’ এবং ডিইউ এআই চ্যালেঞ্জে (ডেটাথন) পুরস্কার পায় ‘চুয়েট আরএস কিউব’। প্রজেক্ট শোকেস স্কুল–কলেজ পর্যায়ে পুরস্কার জেতেন রাজশাহী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বিজয়ী ঢাবির দল ‘টার্টেল বট’।

প্রতিটি সেগমেন্টে প্রথম পুরস্কার ২৫ হাজার টাকা এবং দ্বিতীয় পুরস্কার ১৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। পাশাপাশি ট্রফি ও সনদ দেওয়া হয়।