
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের নেতারা বলেছেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, গণতন্ত্রহীনতা ও দুঃশাসনে দেশের জনগণের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। অব্যবস্থাপনার দিকে সরকারকে যথাযথ দৃষ্টি দিতে হবে। তা না হলে তাঁরা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সমুচিত জবাব দেবেন।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে আয়োজিত এক মানববন্ধনে সাদা দলের শিক্ষকেরা এসব কথা বলেন। ‘বিদ্যুৎ খাতে বিপর্যয়, জ্বালানি ও দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির প্রতিবাদে’ এই মানববন্ধন করা হয়।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সাদা দলের আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য মো. লুৎফর রহমান। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ খাতে চরম অব্যবস্থাপনার ফলে চরম বিপর্যয় ঘটেছে। পাশাপাশি দ্রব্য ও জ্বালানির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে।
লুৎফর রহমান বলেন, ‘যাদের বিদ্যুৎ ফেরি করার কথা, যাদের আমরা পয়সা দিয়েছি, তাদের আজকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে দেশে যে পরিস্থিতি চলছে, তা জাতির জন্য একটি ক্রান্তিলগ্ন। স্বাধীন বাংলাদেশের জনগণ এমন ক্রান্তিলগ্ন আগে দেখেনি। জনগণের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। কারণ, শুধু দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি নয়। দেশের জনগণ গণতন্ত্র ভুলতে বসেছে। গণতন্ত্রের কোনো চর্চা কোথাও নেই। দেশে নির্বাচনব্যবস্থা নেই।’
লুৎফর রহমান আরও বলেন, বিদ্যুৎ খাতের বিপর্যয় এক দিনে ঘটেনি। দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনা, চুরি-ডাকাতি, রেন্টাল-কুইক রেন্টালের নামে অর্থ পাচার—এসবের একটি সম্মিলিত প্রভাব আজকের বিপর্যয়। এ বিপর্যয়ের প্রভাব উৎপাদনের ওপর পড়েছে। যথারীতি তা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও জনগণের দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। পরে যোগ হয়েছে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি। অজুহাত দিয়ে জ্বালানির দাম এমন পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে, যা ভোক্তাদের জন্য অসহনীয় হয়ে উঠেছে।
লুৎফর রহমান বলেন, ‘সরকারকে বলতে চাই, দায়িত্বশীল জায়গা থেকে দায়িত্বশীল বক্তব্য দিন। দায়িত্বশীল জায়গা থেকে যে দায়িত্বহীন বক্তব্য দেওয়া হয়, আমরা তার নিন্দা জানাই। জনগণের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা উচিত। দুর্ভোগ কমাতে অবদান রাখা উচিত।’
সাদা দলের সাবেক আহ্বায়ক ও সিনেট সদস্য এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘দেশকে সিঙ্গাপুর বানানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় বসেছিল। তারা বলেছিল, জনগণকে ১০ টাকা কেজি চাল খাওয়াবে। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দেবে। কিন্তু এখন আমরা লোডশেডিংয়ের খপ্পরে পড়ে গেছি। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ নেই।’
ওবায়দুল ইসলাম আরও বলেন, সরকারের উচিত জনগণের ভোগান্তির দিকে তাকানো। জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। দ্রব্যমূল্য অবশ্যই কমাতে হবে। কুইক রেন্টাল বাতিল করতে হবে। জ্বালানিসহ সব খাতে দুর্নীতি-দুঃশাসন বন্ধ করতে হবে। পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে।
সাদা দলের নেতা আল-আমিনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে সংগঠনের নেতা এমরান কাইয়ুম, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, আবদুস সালাম প্রমুখ বক্তব্য দেন।