
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একজন প্রসিকিউটরের জামিনের বিনিময়ে কোটি টাকা চাওয়ার ঘটনাটি মোটেও হালকাভাবে নিচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। এর তথ্যানুসন্ধানে গঠিত কমিটির প্রথম বৈঠকের পর তিনি বলেছেন, প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনি ব্যবস্থা নেবেন তাঁরা।
‘জামিনের জন্য এক কোটি টাকা চান প্রসিকিউটর’ শিরোনামে গতকাল মঙ্গলবার প্রথম আলো ও নেত্র নিউজের যৌথ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করে। আরও কয়েকটি সংবাদমাধ্যমও এ বিষয়ে খবর প্রকাশ করে। এরপর ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি ‘ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি’ গঠন করা হয়।
আজ বুধবার দুপুরে চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে ‘ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি’র চার সদস্য বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম প্রেস ব্রিফিংয়ে আসেন।
আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘কমিটির চারজন আজকে আমরা একত্রে বসেছি। আমাদের এই ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে আমাদের প্রসিকিউশন টিমের কোনো সদস্য বা সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তিবর্গ যদি কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকেন, সেই বিষয়টির আমরা তথ্য উদ্ঘাটন করব। যদি তাঁদের বিরুদ্ধে সাবস্টেন্টিভ (বাস্তবভিত্তিক) কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আমরা যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেব।’
এ নিয়ে গতকালের ব্রিফিংয়ের কথা তুলে ধরে আমিনুল ইসলাম বলেন, তাঁদের সামনে একটা প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে বা একটা অভিযোগ এসেছে যে বিষয়টি তাঁরা হালকাভাবে দেখছেন। তবে তাঁরা বিষয়টি মোটেই হালকাভাবে দেখছেন না। ট্রাইব্যুনালের আর কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ যদি থাকে, তাও তাঁরা খতিয়ে দেখবেন।
পাঁচ সদস্যের তথ্যানুসন্ধান কমিটির সবাই ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন দলের সদস্য। আজকের বৈঠকে একজনের অনুপস্থিতি নিয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি অনুপস্থিত ছিলেন।
প্রথম আলো ও নেত্র নিউজের অনুসন্ধানে ধরা পড়ে, প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রাম শহরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার গ্রেপ্তার আসামি চট্টগ্রাম-৬ আসনে (রাউজান) আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর পরিবারের কাছে এক কোটি টাকা চেয়েছিলেন।
প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদার গত সোমবার পদত্যাগ করেন। তিনি পেশায় একজন শিক্ষক ছিলেন এবং একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পান সাইমুম তালুকদার। ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স ও সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞ হলেও ট্রাইব্যুনালে নিয়োগ পাওয়ার আগে তাঁর মামলা পরিচালনার অভিজ্ঞতা খুব কম ছিল।
এদিকে জাতীয়তাবাদী আইসিটি ফোরামের আইনবিষয়ক সম্পাদকের পদে ছিলেন সাইমুম তালুকদার। গুরুতর আর্থিক দুর্নীতি ও অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগ ওঠায় তাঁকে বহিষ্কার করেছে সংগঠনটি।