
দক্ষিণ আফ্রিকায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত দুজনের মধ্যে একজন মারা গেছেন। সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর নাম আনিসুল হক ওরফে মিলন (২৮)।
আনিসুল হক ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার রামানন্দপুর গ্রামের বাহার মিয়ার ছেলে। এ নিয়ে গত শুক্রবার সকালে ঘটা ওই দুর্ঘটনায় ছয়জন মারা গেছেন। তাঁরা সবাই ফেনী জেলার বাসিন্দা।
দাগনভূঞা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও রামানন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা হারিছ আহম্মদ প্রথম আলোকে বলেন, বাবলু মিয়া নামে আনিসুল হক মিলনের একজন চাচাতো ভাই দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকেন। তিনি সেখান থেকে তাঁদের বাড়িতে মুঠোফোনে জানিয়েছেন, আনিসুল সে দেশের জর্জ হাসপাতালে মারা গেছেন।
হারিছ আহম্মদ বলেন, আনিসুল হকের বাবা একজন সাধারণ কৃষক। আনিসুল মাধ্যমিক পর্যন্ত লেখাপড়া করে ২০১১ সালে জীবিকার তাগিদে দক্ষিণ আফ্রিকা পাড়ি জমান। প্রায় ১৩ বছরে তিনি একবারও দেশে আসেননি। ২০১৯ সালে খালাতো বোনের সঙ্গে মুঠোফোনে তাঁর বিয়ে হয়। করোনা ও কাগজপত্র ঠিক করাসহ নানা কারণে তাঁর দেশে ফেরা বিলম্বিত হয়। শুক্রবার দেশে আসার জন্যই তিনি বিমান বন্দরে যাচ্ছিলেন। অন্যরাও তাঁর সঙ্গে প্রাইভেটকারে ছিল। দেশে ফিরে তাঁর বিয়ের অনুষ্ঠান করার কথা ছিল। এ জন্য তিনি দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে বিয়ের অনেক বাজারও করেছিলেন।
আনিসুলের ছোট ভাই রিমন বলেন, তাঁদের দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে আনিসুল ছিলেন সবার বড়। তাঁরও (রিমন) দক্ষিণ আফ্রিকায় যাওয়ার কথাবার্তা চলছিল। একমাত্র উপার্জনক্ষম আনিসুলের পাঠানো টাকায় তাঁদের পরিবার চলত। ছোট বোনের বিয়েও হয়েছে তাঁর পাঠানো টাকায়। তিনি আরও বলেন, এর আগে একবার দক্ষিণ আফ্রিকায় তাঁর ভাই সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত হয়েছিলেন। ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে বাবা বাহার মিয়া কথা বলতে পারছেন না। লাশ দেশে আনতে সরকার সহযোগিতা কামনা করেছে আনিসুলের পরিবার।
এ দুর্ঘটনায় নিহত অন্য পাঁচজন হলেন ফেনী সদর উপজেলার বিরলী গ্রামের ঈসমাইল হোসেন (৩৮), দাগনভূঞার মমারিজপুর গ্রামের রাজু আহম্মেদ (৩৪), দক্ষিণ নেয়াজপুর গ্রামের মোস্তফা কামাল (৪০), সোনাগাজীর দক্ষিণ চর মজিলিশপুর গ্রামের আবুল হোসেন (৪২) ও তাঁর ছেলে নাদিম হোসেন (১০)।