
পবিত্র রমজান মাস এলেই দেশের মানুষের মনে একটা আলাদা অনুভূতি জাগে। ইফতারের দস্তরখানায় পাশের মানুষকে ডেকে নেওয়া, পথের রিকশাচালকের হাতে খাবার তুলে দেওয়া, এতিম শিশুর মুখে একটু হাসি ফোটানো—এই সহমর্মিতা আমাদের সংস্কৃতির অংশ। তবুও বাস্তবতা হলো সমাজের একটি বড় অংশ এখনো থেকে যায় এই উদারতার নাগালের বাইরে। সদিচ্ছা অনেকের মনেই আছে, কিন্তু সংগঠন ও প্ল্যাটফর্মের অভাবে সেই ইচ্ছা প্রায়ই কাজে রূপ নেয় না।
এই শূন্যস্থান পূরণ করতেই এ বছর রমজানে ‘রবি’ এনেছে একটি ভিন্ন ভাবনা ‘ছোট্ট একটা কাজে হাজারো ইচ্ছেপূরণ’। আবেগময় বিজ্ঞাপনের পরিবর্তে বেছে নেওয়া হয়েছে বাস্তব কর্মের পথ। কারণ, প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বাস করে অনুভূতি তৈরি হয় বিজ্ঞাপনে, পরিবর্তন আসে কাজে।
দেশের কোটি কোটি মানুষের নেটওয়ার্ক হিসেবে ‘রবি’ প্রতিদিন অসংখ্য পরিবারের জীবনের অংশ। ইচ্ছার সঙ্গে সামর্থ্যের, প্রয়োজনের সঙ্গে সহায়তার মাধ্যমে এই রমজানে ‘রবি’ সেই উপস্থিতিকে আরও অর্থবহ করতে চায়। এই লক্ষ্য নিয়ে রমজান মাসে ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও চাঁদপুরজুড়ে ‘রবি’ পরিচালনা করছে একটি বহুমুখী সামাজিক উদ্যোগ।
রমজান মানেই ছোট ছোট মুহূর্তের বড় অর্থ। একটু বাড়তি খাবার পাশের মানুষকে দেওয়া, একটু হাসি, একটু সাহায্যের হাত—এই ছোট কাজগুলোই আসলে বদলে দেয় চারপাশ। ‘রবি’ এ বছর ঠিক এই বিশ্বাস থেকেই এগিয়েছে। বিজ্ঞাপনের বদলে সরাসরি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। কারণ, ‘রবি’ মনে করে, একটি ছোট্ট কাজও পারে একটি বড় ঢেউ তৈরি করতে। যখন একজন মানুষ দেখে যে কেউ নিঃস্বার্থভাবে এগিয়ে এসেছে, তখন সেও অনুপ্রাণিত হয়, হাত বাড়ায়। এভাবেই একটি উদ্যোগ হয়ে ওঠে আন্দোলন, একটি কাজ হয়ে ওঠে হাজার কাজের অনুপ্রেরণা।
‘ছোট্ট একটা কাজ’ শুধু স্লোগান নয়, একটি আমন্ত্রণ। এই বাক্যেই লুকিয়ে আছে ‘রবি’র উদ্যোগটির তাৎপর্য। ‘রবি’ এ বছর রমজানে বেছে নিয়েছে দায়িত্ব পালনের পথ। কারণ, একটি প্রতিষ্ঠান যখন কোটি মানুষের জীবনের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তখন সে প্রতিষ্ঠানের কাছে সমাজের একটি প্রত্যাশা তৈরি হয়। যেটি শুধু সেবা দেওয়ার নয়, পাশে দাঁড়ানোর। ‘রবি’ সেই প্রত্যাশাকে স্বীকার করে নিয়েছে এবং তার জবাব দিয়েছে কাজের মাধ্যমে।
এটি ‘রবি’র কোনো হঠাৎ নেওয়া সিদ্ধান্ত নয়। ডিজিটাল বৈষম্য, শিক্ষার অসমতা, সুযোগের অপ্রাপ্যতা—বছরের পর বছর ধরে সমাজের সেই অসংগতিগুলোকে চিহ্নিত করে আসছে ‘রবি’। রমজানের এই উদ্যোগ সেই ধারাবাহিক প্রচেষ্টারই একটি অধ্যায়। যেখানে অন্য অনেক ব্র্যান্ড রমজানকে দেখে একটি বিপণনের মৌসুম হিসেবে, ‘রবি’ সেখানে দেখছে একটি সামাজিক দায়বদ্ধতার সুযোগ হিসেবে এবং এই পার্থক্যটাই মূলত সবকিছু বদলে দেয়। কারণ, পরিবর্তন কখনো বিজ্ঞাপনের পর্দায় আসে না, পরিবর্তন আসে মানুষের হাতে হাত রেখে, পাশে দাঁড়িয়ে, ছোট্ট একটা কাজ করে।
খেটে খাওয়া মানুষের জন্য রমজান মাস অনিশ্চয়তার। রোজাদারদের মধ্যে রিকশাচালক, দিনমজুর, হকার ইত্যাদি পেশার মানুষের ইফতারের সময় প্রায়ই পর্যাপ্ত খাবারই জোটে না। সন্তানদের মুখে ভালো খাবার তুলে দেওয়া কিংবা ঈদের নতুন জামা উপহার দেওয়া—সবই থাকে অনিশ্চয়তায়। শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে এই সুবিধাবঞ্চিত মানুষের বিশেষ করে অসহায় শিশু ও বৃদ্ধদের দিনের পর দিন সময় কাটে চিকিৎসায়, কখনো আবার অনিশ্চয়তায়। উৎসবের আনন্দ তাদের কাছে প্রায়ই পৌঁছায় না। কিন্তু রমজানের পবিত্রতায় শান্তি আর ঈদের খুশি সবার অধিকার। যা কারও সামর্থ্যের ওপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত নয়। সব শিশুরই ঈদে নতুন জামা পরার স্বপ্নপূরণ হওয়া চাই আর ঈদের উৎসব সবার জীবনেই আনন্দ বয়ে আনা চাই। এই পরিকল্পনা থেকেই ‘রবি’র উদ্যোগ—ছোট্ট একটা কাজে হাজারো ইচ্ছেপূরণ।
একজন মানুষ যখন কাউকে সাহায্য করেন, তখন শুধু সেই একজনের উপকার হয় না, আশপাশের মানুষও অনুপ্রাণিত হন, একটি ইতিবাচক সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। কিছু ইফতারি হয়তো একজন ক্লান্ত রিকশাচালকের সন্ধ্যাকে বদলে দেয়, একটি বই হয়তো একটি শিশুর ভবিষ্যতের দরজা খুলে দেয়। ছোট মনে হলেও এই কাজগুলো একত্রে মিলে তৈরি করে এক বিরাট সামাজিক রূপান্তর।
বাংলাদেশের সমাজে সহমর্মিতার অভাব নেই, অভাব কেবল একটি সংগঠিত সুযোগের। মানুষ সাহায্য করতে চান, পাশে দাঁড়াতে চান কিন্তু কোথায় এবং কীভাবে তা বুঝে উঠতে পারেন না। ‘রবি’ এই রমজানে সেই সুযোগ তৈরি করতে চায়। একটি নেটওয়ার্কের সত্যিকারের পরিমাপ হয় সংযোগের গভীরতায়। মানুষের সঙ্গে মানুষের, সামর্থ্যের সঙ্গে প্রয়োজনের, ইচ্ছার সঙ্গে কাজের। ইচ্ছা থেকে পদক্ষেপ, পদক্ষেপ থেকে পরিবর্তন। এভাবেই ছোট্ট একটা কাজে হতে পারে হাজারো ইচ্ছেপূরণ।