
একটি স্বাধীন দেশের সভ্য সমাজে প্রকাশ্যে হত্যা ও থানার সামনে নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ন করে মারধরের ঘটনার পরও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার ঘটনায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। একই সঙ্গে দেশে ভিন্নমত, ধর্মীয় ও লৈঙ্গিক বৈচিত্র্যের মানুষের ওপর সহিংসতা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়াসহ ছয় দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
আজ রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়। গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির পক্ষে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, আকরাম খান ও অমল ত্রিপুরা এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, শনিবার কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পরিকল্পিত মব–সন্ত্রাসের মাধ্যমে পীরের মাজার ভাঙচুর ও সাধক শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীরের হত্যাকাণ্ড এবং আগের দিন রাজধানীর শাহবাগে ট্রান্সজেন্ডার ও সমকামী আখ্যা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকসহ নাগরিকদের ওপর মব হামলার নিন্দা জানাচ্ছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি।
সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলে এক উগ্র ধর্মীয় উত্তেজক গোষ্ঠীর দাপট দেখা যায়, যারা বিভিন্ন ইস্যুতে মব তৈরি করে ভিন্নমত, ধর্মীয় ও লৈঙ্গিক পরিচয়ের মানুষদের ওপরে হামলা, মাজার ভাঙচুর ও হত্যাকাণ্ড ঘটায়। এই রকম ঘটনা পর্যায়ক্রমে বাড়তে থাকে এবং তৎকালীন সরকারের নিষ্ক্রিয়তা এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে আরও উৎসাহ দেয়। ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পরে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নিলেও তারা এখন পর্যন্ত এ ধরনের মব–সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।
গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির দাবি, শাহবাগের ঘটনায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা যখন থানায় যান, সেখানে তাঁদের এফআইআর দাখিলের ব্যাপারেও থানা থেকে কোনো সহায়তা করা হয়নি। জনপরিসরে হয়রানি বন্ধের কোনো ব্যবস্থা সরকারের পক্ষ দেখা যায়নি। এই নিষ্ক্রিয়তারই ফলাফল এরূপ মব–সন্ত্রাস ও হত্যাকাণ্ড।
গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির মতে, বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিস–সমর্থিত ‘আজাদী আন্দোলন’, ‘জুলাই মঞ্চ’, কুষ্টিয়ার মাজার হামলা ও হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা নিঃসন্দেহে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করেছে। এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড রোধের দায়িত্ব বর্তমান সরকার বিশেষত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ধর্মীয় ও লৈঙ্গিক বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর ইস্যু নিয়ে সংসদে বক্তব্যদানের কিছুদিনের মধ্যেই এই আক্রমণ প্রমাণ করে বাস্তবে মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনো সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।
এমন পরিস্থিতিতে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির পক্ষ থেকে ছয়টি দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলো হলো কুষ্টিয়ার মাজার হামলা ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে কঠোর শাস্তি; শাহবাগের মব–সন্ত্রাসে জড়িত আজাদী আন্দোলনকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে পৃষ্ঠপোষকতার দায়ে বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসকে জবাবদিহির আওতায় আনা এবং জুলাই মঞ্চকেও জবাবদিহি করা; দেশে ভিন্নমত, ধর্মীয় ও লৈঙ্গিক বৈচিত্র্যের জনগণের ওপর সহিংসতা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা; ধর্মীয় সংবেদনশীলতার নামে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির পেছনে দায়ী ব্যক্তি ও সংগঠনকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা; জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও লিঙ্গ নির্বিশেষে জনপরিসরে অবস্থান ও চলাফেরায় মানুষের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং হয়রানি ও মিথ্যা মামলায় আটক শেখ তাসনিম আফরোজসহ (ইমি) সবার মুক্তি।