
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তিসম্পর্কিত চলমান প্রক্রিয়া নিয়ে রিট খারিজের (রুল ডিসচার্জ) রায়ের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিল খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ আজ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন।
এর ফলে রিট খারিজ (রুল ডিসচার্জ) করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল থাকল বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক। আদেশের পর তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এই চুক্তি প্রক্রিয়ার ব্যাপারে সরকারের পদক্ষেপ নিতে আর কোনো বাধা থাকল না।
হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ যুব অর্থনীতিবিদ ফোরামের পক্ষে সংগঠনটির সভাপতি লিভ টু আপিল করেন। লিভ টু আপিলের ওপর গতকাল শুনানি শেষে আজ আদেশ দেন আপিল বিভাগ। আদালতে লিভ টু আপিলকারীপক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও সৈয়দ মামুন মাহবুব শুনানি করেন, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. হেলাল উদ্দিন চৌধুরী।
নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় ২০১৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি ডিপিওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের সমঝোতা স্মারক সই হয়। এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়াকে কেন্দ্র করে কোম্পানিটির সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তিসম্পর্কিত চলমান প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে বাংলাদেশ যুব অর্থনীতিবিদ ফোরামের পক্ষে সংগঠনের সভাপতি মির্জা ওয়ালিদ হোসাইন গত বছর রিট করেন।
রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছরের ৩০ জুলাই হাইকোর্ট রুল দেন। রুলের ওপর শুনানি শেষে গত ৪ ডিসেম্বর বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে বিভক্ত রায় হয়। দ্বৈত বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি রুল অ্যাবসলিউট (যথাযথ) ঘোষণা করেন। দ্বৈত বেঞ্চের অপর বিচারপতি রুল ডিসচার্জ (রিট খারিজ) করে রায় দেন।
বিভক্ত রায়ের পর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর রিটটি নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতি জাফর আহমেদের একক হাইকোর্ট বেঞ্চে পাঠান। রিট খারিজ (রুল ডিসচার্জ) করে গত ২৯ জানুয়ারি বিচারপতি জাফর আহমেদের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় দেন। এর মধ্য দিয়ে হাইকোর্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতে রিট খারিজের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।
হাইকোর্টের একক বেঞ্চের রায় ঘোষণার পর গত ২৯ জানুয়ারি আপিল বিভাগে আবেদন করে রিট আবেদনকারীপক্ষ। শুনানি নিয়ে সেদিন চেম্বার আদালত ‘নো অর্ডার’ দেন। পাশাপাশি নিয়মিত লিভ টু আপিল করতে বলেন। হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর রিট আবেদনকারীপক্ষ লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) করে, যা আজ খারিজ হলো।