
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে দুর্বল করে রাখা মানে দেশের ভবিষ্যৎকেই দুর্বল করা। কারণ, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। তাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে নীতির অস্থিরতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। মানসম্মত শিক্ষা ও শিক্ষার্থীর নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হবে।
এ জন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ‘একাডেমিক ফ্রিডম’, পিএইচডির সুবিধা, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি (সদস্য) রাখা, শিল্পকারখানার সঙ্গে পড়াশোনার সংযোগ স্থাপন ও ইন্টার্নশিপ বাধ্যতামূলক করা, ইউজিসিতে ৩০ দিনের মধ্যে ফাইল নিষ্পত্তি করাসহ একগুচ্ছ দাবি দিয়েছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোক্তারা।
শিক্ষামন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব ও ইউজিসির চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান অবস্থা ও নিজেদের দাবি ও প্রস্তাবগুলো তুলে ধরেন সমিতির চেয়ারম্যান সবুর খান। এ ছাড়া কয়েকজন উপাচার্যও বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন।
মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে ‘উচ্চশিক্ষায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা, ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশিকা এবং জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে যৌথ কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিমাত্রায় মনিটরিংয়ের বিপক্ষে মত দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘এভাবে যদি সিরিয়াসলি মনিটরিং করতে থাকি, আর রেড ট্যাগ লাগাতে থাকি, তাহলে এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আগামী দিনে কাজ করতে পারবে না।’
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতার পক্ষের নিজের অবস্থান ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, এমন ফ্রিডম দেওয়া হবে না, যাতে আবার হোলি আর্টিজান হয় (২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে নৃশংস হামলা চালিয়েছিল জঙ্গিরা। তারা অস্ত্রের মুখে দেশি-বিদেশি অতিথিদের জিম্মি করে। কুপিয়ে, গুলি করে তারা দেশি-বিদেশি ২০ নাগরিককে হত্যা করে)।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোক্তা ও উপাচার্যদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত দাবি ও প্রস্তাবের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এসব বিষয়ে কমিটি করে দেওয়া হবে।
ইউজিসিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি (সদস্য) রাখা উচিত বলে মত দেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, ইউজিসির চেয়ারম্যান মামুন আহমেদ, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির সেক্রেটারি জেনারেল ইশতিয়াক আবেদিন প্রমুখ।