সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রীর মরদেহ দেখতে পাওয়ার খবর শুনে ঘটনাস্থলে যান পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদস্যরা
সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রীর মরদেহ দেখতে পাওয়ার খবর শুনে ঘটনাস্থলে যান পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদস্যরা

এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের আত্মহত্যার ঘটনায় মামলাটি এখন তদন্ত করবে ডিবি

সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে করা মামলাটির তদন্তভার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগে (ডিবি) ন্যস্ত করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, মরিয়মের আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার মামলাটি গতকাল সোমবার রাতে শেরেবাংলা নগর থানা থেকে ডিবিতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হয়। আজ মঙ্গলবার মামলার নথিপত্র ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, গতকাল সোমবার গাজী নজরুল ইসলামের চার দিনের এবং তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের এক দিনে রিমান্ড মঞ্জুর হওয়ার পর আদালত থেকে গাজী নজরুল ও তাঁর স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।

২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ফ্ল্যাটটি গাজী নজরুলের। তিনি এই ফ্ল্যাটে তাঁর প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন। ফ্ল্যাটটির একটি কক্ষের দরজা ভেঙে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই দিন রাতেই মরিয়ম বেগমের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ মেয়ের আত্মহত্যার পেছনে প্ররোচনার অভিযোগ এনে মামলা করেন। মামলায় মরিয়মের স্বামী গাজী নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। ওবায়দুর রহমান এখনো পলাতক।

মাসুম বিল্লাহ মামলায় উল্লেখ করেছেন, গত জুনে তাঁর শ্যালক ওবায়দুর রহমানের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের সঙ্গে বাদীর বড় মেয়ে মরিয়মের বিয়ে হয়। সংসদ ভবনের বিপরীত পাশে ৫ নম্বর ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর বাসায় নজরুল ও মাকছুদার সঙ্গে থাকতেন মরিয়ম। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নজরুল ও মাকছুদা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে মরিয়ম তাঁর পরিবারকে ফোনে জানিয়েছেন। এর মধ্যে রোববার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে নজরুল মোবাইল ফোনে বাদীকে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে মরিয়মকে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে থাকতে দেখেন বাবা মাসুম বিল্লাহ।

এজাহারে বলা হয়েছে, লাশ উদ্ধারের সময় মেয়ের বিছানার ওপর তাঁর লেখা ‘সুইসাইড নোট’ দেখতে পান। রোববার বেলা তিনটা থেকে বিকেল সাড়ে পাঁচটার মধ্যে মরিয়ম আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে এজাহারে বলা হয়েছে।