নির্বাচন ২০২৬: ফ্যাক্ট চেক

বিএনপির বিরুদ্ধে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যটি সত্য নয়

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আগে বিএনপির বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে উদ্ধৃত করে একটি বক্তব্য ছড়িয়েছে ফেসবুকে, তবে যাচাই করে তার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।

ফেসবুকে বিভিন্ন পেজ ও অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার করা একটি পোস্টে অধ্যাপক ইউনূসকে উদ্ধৃত করে লেখা হচ্ছে যে তিনি বলেছেন, ‘আপনারা যুদি বিএনপিকেই ভোট দিয়ে ক্ষমতাই আনবেন, তাহলে আওয়ামী লীগকে তাড়িয়েছিলেন কেন? দুই দলই তো দুর্নীতিবাজ স্বৈরাচার দেশটাকে পারিবারিক সম্পত্তি মনে করে আর জনগণকে তাদের গোলাম। বিএনপি ক্ষমতাই আসলে জুলাই আন্দোলনে ছাত্রদের জীবন শেষ করে দিবে। ছাত্রদের জীবন রক্ষা করতে দুইদলকে বয়কট করুণ।’ (বানান অবিকৃত রাখা হয়েছে)

প্রধান উপদেষ্টার এমন কোনো বক্তব্য তাঁর ফেসবুক পেজসহ কোনো সংবাদমাধ্যমে পাওয়া যায়নি। অনুসন্ধানে দেখা যায়, সংবাদ পোর্টাল দ্য ডেল্টা লেন্সের একটি ফটোকার্ড সম্পাদনা করে প্রধান উপদেষ্টার নামে এই বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে।

এ ছাড়া আমার দেশের লোগো–সংবলিত একটি ফটোকার্ডেও অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ‘আপনারা এমন কাউকে ভোটট দিবেন না যারা ক্ষমতাই এলে আওয়ামীলীগ এর সাথে মিলে জুলাই আন্দোলনে ছাত্রদের ফাঁসিতে জুলাবে। ভারতের সাথে মিলে দেশটাকে আবারও গোলাম বানিয়ে রাখবে।’ (বানান অবিকৃত)

তবে আমার দেশের ফেসবুক পেজে এমন কোনো ফটোকার্ড পাওয়া যায়নি। যাচাই করে দেখা যায়, সংবাদমাধ্যমটির একটি ফটোকার্ড সম্পাদনা করে এই বক্তব্যসংবলিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

নির্বাচনের আগে মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা গুজবের বিষয়ে দেশবাসীকে হুঁশিয়ার করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই একটি চিহ্নিত মহল পরিকল্পিতভাবে গুজব ও অপতথ্য ছড়িয়ে নাগরিকদের মনে সন্দেহ, ভয় ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

অর্থ উপদেষ্টার নামে ভুয়া ফটোকার্ড

কালের কণ্ঠের ফটোকার্ডের আদলে তৈরি একটি ফটোকার্ড ফেসবুকে ছড়ানো হচ্ছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে, অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘নির্বাচনে জামায়াত সরকার গঠন করলে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা সম্ভব। কিন্তু যারা অতীতে দুর্নীতি করে বিদেশে টাকা পাচার করেছিল, তারা কখনো আওয়ামী লীগের পাচার হওয়া টাকা ফেরত আনার কথা চিন্তা করবে না।’

যাচাই করে দেখা গেছে, অর্থ উপদেষ্টা এমন কোনো মন্তব্য করেননি। সংশ্লিষ্ট কি-ওয়ার্ড সার্চ করে কোনো সংবাদমাধ্যম কিংবা নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্রে তাঁর এমন কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কালের কণ্ঠের ফেসবুক পেজে এ ধরনের বক্তব্যসংবলিত কোনো ফটোকার্ড পাওয়া যায়নি। তবে ঠিক একই ছবি ও নকশায় তাদের আরেকটি ফটোকার্ড পাওয়া যায়। সেখানে অর্থ উপদেষ্টার বক্তব্য ছিল, নির্বাচিত সরকার সিরিয়াস হলে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা সম্ভব।

পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, এই ফটোকার্ডটি সম্পাদনা করে কিছু বাক্যাংশ যুক্ত করে ভুয়া বক্তব্যের ফটোকার্ডটি তৈরি কর হয়েছে।

বিএনপিকে ইসলামী আন্দোলনের সমর্থনের ভুয়া দাবি

একটি ফটোকার্ড ফেসবুকে ছড়িয়েছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে যে বিএনপিকে সমর্থন দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন। কিন্তু যাচাই করে এ দাবির সত্যতা পাওয়া যায়নি।

ইসলামী আন্দোলন আগামীকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠেয় সংসদ নির্বাচনে এককভাবে অংশ নিচ্ছে; কিন্তু ফেসবুক কার্ডটিতে দাবি করা হয়, ‘নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমিরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১২-২-২৬ তারিখের নির্বাচনে বিএনপিকে সমর্থন দিয়েছে।’

তবে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে এমন কোনো ঘোষণার খবর কোনো সংবাদমাধ্যমে আসেনি। প্রথম আলোর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে দলটির কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম আজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই সংবাদের কোনো ভিত্তি নেই। এটি সম্পূর্ণ ভুয়া সংবাদ। কোনো অপশক্তি এই ভুয়া সংবাদ ছড়িয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাইছে।’

ইসলামী আন্দোলন জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্যে থাকলেও আসন ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বের পর জোট ছেড়ে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এখনো সে অবস্থানেই রয়েছেন বলে দলটির নায়েবে আমির জানান।

নুরুল হক নুর গুলিবিদ্ধ হননি

গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি ও পটুয়াখালী-৩ আসনের প্রার্থী নুরুল হক নুর গুলিবিদ্ধ হয়েছেন দাবি করে একাধিক পোস্ট ফেসবুকে ছড়িয়েছে। তবে যাচাই করে এর সত্যতা মেলেনি।

ফেসবুকে একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে একটি পোস্টে লেখা হয়, ‘গলাচিপার দশমিনায় ভিপি নূর গুলিবিদ্ধ। অবস্থা আশঙ্কাজনক। আনা হচ্ছে ঢাকায়!’ অনেকে তা শেয়ার করছেন।

গণ অধিকার পরিষদের ফেসবুক পেজে এ–সম্পর্কিত কোনো খবর পাওয়া যায়নি। সার্চ করে এ ধরনের কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদ প্রতিবেদনও পাওয়া যায়নি।

আজ বুধবার বিকেলে প্রথম আলোর পটুয়াখালী প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, নুরুল হক নুর গুলিবিদ্ধ হননি, সম্প্রতি দলীয় কার্যালয়ে হামলা হলেও তার ওপর কোনো হামলা হয়নি। নুরুল হক নুর বর্তমানে পটুয়াখালীতে অবস্থান করছেন।