নিয়ন্ত্রণহীন ও অননুমোদিত কেজি স্কুল ও কওমি মাদ্রাসা গড়ে উঠেছে শত শত। কারও নিয়ন্ত্রণ নেই।
কেরানীগঞ্জে প্রায় পৌনে তিন শ কিন্ডারগার্টেন স্কুল আর চার শতাধিক মাদ্রাসা গড়ে উঠেছে।
এসব মাদ্রাসায় কত শিক্ষার্থী পড়ে, শিক্ষকসংখ্যা কত, অর্থায়ন কী করে হয়—এসব প্রায় অজানা।
কেরানীগঞ্জে অপরিকল্পিত আবাসন প্রকল্পের পাশাপাশি অনুমোদনহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও গড়ে উঠেছে। এখানে শিক্ষা ক্ষেত্রে চলছে বিশৃঙ্খল অবস্থা। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে অন্তত চার ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
গড়ে উঠেছে শত শত কিন্ডারগার্টেন (কেজি) ও কওমি মাদ্রাসা। কেজি স্কুলগুলোর পরোক্ষ পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা থাকলেও কওমি মাদ্রাসায় কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। নেই কোনো নির্দিষ্ট পাঠ্যক্রম। অধিকাংশ কেজি স্কুল ও মাদ্রাসার ভবন নিম্নমানের। শিক্ষার মানও ভালো নয়। উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তারাই বলেছেন, সার্বিকভাবে শিক্ষার মান কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ের নিচে।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, এখানে একদিকে রয়েছে সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা বোর্ড অনুমোদিত দাখিল–আলিম মাদ্রাসা। অন্যদিকে রয়েছে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত কিন্ডারগার্টেন ও কওমি মাদ্রাসা। পুরো কেরানীগঞ্জে প্রায় পৌনে তিন শ কিন্ডারগার্টেন আর চার শতাধিক ইবতেদায়ি ও কওমি মাদ্রাসা গড়ে উঠেছে। কেজি স্কুলগুলোর তালিকা শিক্ষা অফিসে থাকলেও এসব মাদ্রাসার সঠিক সংখ্যা কেউ জানেন না। কত শিক্ষার্থী পড়ে, শিক্ষক সংখ্যা কত, অর্থায়ন কী করে হয় এসব প্রায় অজানা।
কেরানীগঞ্জ উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১২৮। শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৪৫ হাজার ৮৮৫। শিক্ষক ৯৫৮ জন। শিক্ষকের শূন্যপদ আছে ৪৮টি। আর তালিকাভুক্ত কেজি স্কুলের সংখ্যা ২৭৫। এ বছর শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার ২১৯ জন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল কাদের মিয়া জানান, করোনা সংক্রমণের কারণে ২০২০ ও ২০২১ সালে অনেক দিন স্কুল বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা কিছুটা কমেছে। ওই সময় কওমি মাদ্রাসাগুলো খোলা ছিল। অনেক অভিভাবক সেখানে সন্তানদের ভর্তি করিয়েছেন। তবে এখন সরকারি প্রাথমিক স্কুলে ফিরে আসতে শুরু করছে শিক্ষার্থীরা।
অনেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভবন তৈরি হয়েছে। যেমন ভাংনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯২৬ সালে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হফিজুল ইসলাম জানান, নতুন ভবন তৈরির কাজ শেষ, খুব শিগগির এর উদ্বোধন হবে। করোনার পরে এখন নিয়মিত পাঠদানের কাজ চলছে। শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বাড়ছে।
কেজি স্কুলগুলোর বেশির ভাগই প্রতিষ্ঠা করেছেন স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনীতিক, ব্যবসায়ী, আবাসন প্রতিষ্ঠানসহ সম্পদশালী পরিবারের সদস্যরা। এসব স্কুল নিয়ন্ত্রণের কোনো নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ নেই। শিক্ষক–শিক্ষার্থীদের বেতনও নির্ধারিত নেই। কেজি স্কুলের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বোর্ডের বই পড়ানো হয়। বই ও প্রাথমিক স্কুল সমাপনী পরীক্ষার জন্য তারা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে নাম তালিকাভুক্ত করায়। এ কারণে কেজি স্কুলগুলোতে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, কিছু কেজি স্কুলের পরিবেশ ও শিক্ষার মান ভালো। বাকিগুলো মাঝারি ও নিম্নমানের। কেরানীগঞ্জে অন্তত ২৫টি ইবতেদায়ি মাদ্রাসা রয়েছে, শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় চার হাজার। এসব মাদ্রাসায় প্রাথমিক পর্যায়ে বোর্ডের বই পড়ানো হয়। প্রতিবছর সরকারি প্রাথমিক, কেজি ও ইবতেদায়ি মিলিয়ে নতুন ভর্তি প্রায় ২০ হাজার। তবে কওমি মাদ্রাসার কোনো পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।
চরকালিগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা ও তেলঘাট এলাকার কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের একজন অভিভাবক জানান, তাঁদের এলাকায় বেশ কয়েকটি কেজি স্কুল রয়েছে। শুধু চটকদার সাইনবোর্ড ও শিক্ষক–শিক্ষার্থীদের পোশাক–পরিচ্ছেদে চাকচিক্য দেখা যায়। কিন্তু শিক্ষার মান ভালো নয় অথচ বেতন বেশি। শিক্ষার্থীদের বেতন নির্দিষ্ট নেই। প্লে থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বেতন সাড়ে তিন শ টাকা থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত। শিক্ষকেরা নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকেন না।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আগানগর এলাকায় রেডিয়্যান্ট মডেল একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের কেরানীগঞ্জ উপজেলার সাবেক সভাপতি আসহারুল হাসান বলেন, করোনার কারণে কেজি স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থী কমেছে। এসব স্কুল সরকারি প্রণোদনা পায়নি। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, সব কেজি স্কুলের শিক্ষার মান ভালো নয়। যত্রতত্র কিন্ডারগার্টেন গড়ে উঠেছে। তিনি মনে করেন, আইন প্রণয়ন করে কিন্ডারগার্টেনকে একটি কর্তৃপক্ষের আওতায় আনা প্রয়োজন।
কেরানীগঞ্জে মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার মান খুব ভালো নয়। এর প্রধান কারণ এখানে বসবাসকারী জনসংখ্যার ৭০-৭৫ ভাগই ভাসমান। অন্য জেলা থেকে আসা মানুষ। তাঁরা বেশির ভাগই শ্রমজীবী, নিম্ন বা নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণির। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইসমাইল স্বীকার করেন, এখানে মাধ্যমিকে শিক্ষার মান কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে আসেনি। তবে শিক্ষার মানোন্নয়নের চেষ্টা চলছে।
মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, কেরানীগঞ্জে সরকার অনুমোদিত (এমপিওভুক্ত) মাধ্যমিক স্কুলের সংখ্যা ৬৪। শিক্ষক ১ হাজার ৮৩ জন। এ ছাড়া মাদ্রাসা বোর্ডের অনুমোদিত দাখিল ও আলিম মাদ্রাসা আটটি। এতে শিক্ষার্থী প্রায় ৭ হাজার, শিক্ষক প্রায় ২০০ জন। সব মিলিয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৬ হাজার।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে তাঁদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। কিন্তু এখানে কওমি মাদ্রাসার সংখ্যা তাঁদের জানা নেই। তাঁদের অনুমান, এ ধরনের মাদ্রাসার সংখ্যা চার শ হতে পারে। এখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কত, শিক্ষক কত কোনো পরিসংখ্যানই তাঁদের কাছে নেই। কারণ, এসব মাদ্রাসা তাঁদের অধিভুক্ত নয়। তিনি বলেন, এই প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। এখানে কী পাঠ্যসূচি, কেমন কার্যক্রম তা প্রায় অজানা। একই বিশৃঙ্খল অবস্থা কেজি স্কুলগুলোতেও। কোনো অনুমতি ছাড়াই এগুলো চলছে। একটি মুদিদোকান করতেও ট্রেড লাইসেন্স নিতে হয়, কিন্তু এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চলছে বিনা অনুমতিতে।
কেরানীগঞ্জের তারানগর ইউনিয়নের ঘাটারচর চৌরাস্তার মোড়েই একটি বহুতল ভবনের দ্বিতীয় তলায় ‘তাহফিজুল কারিম ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসা’। সিঁড়ির সামনেই এই আন্তর্জাতিক মাদ্রাসার নাম সংবলিত ডিজিটাল ব্যানার টাঙানো। সরু সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠে দেখা গেল, এক পাশে দুটি ঘর ও একটি বারান্দা নিয়ে একটি বাসাবাড়ি। এখানেই চলছে আন্তর্জাতিক এই মাদ্রাসার কার্যক্রম। সামনের ঘরের দরজা খোলাই ছিল। ভেতরে আসবাব কিছু নেই।
মেঝেতে নকশা করা প্লাস্টিকের মাদুর বিছানো। একপাশের বিছানা–বালিশ স্তূপ করা। কয়েক শিশু-কিশোর তার ওপরে ঘুমাচ্ছে। অন্যরা বিছানাপত্র হাঁড়ি–পাতিল গুছিয়ে রাখছে। তখন দুপুর। তাই রান্নার আয়োজন চলছিল। সামনের ঘরের ভেতর দরজা দিয়ে পাশের ঘরে যেতে হয়। সেখানেই ছিলেন অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা রিয়াজ উল্লাহ। শিক্ষার্থীরা তাঁর অনুমতি নিয়ে আমাদের সেখানে নিয়ে গেলেন।
অধ্যক্ষ খানিকটা অস্বস্তির সঙ্গে আমাদের জানান, মাদ্রাসাটি খুবই নতুন। মাত্র গত বছর চালু করেছেন। এখন শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৫। আপাতত হাফেজি শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। এত দিন তিনি একাই শিক্ষা দিতেন। মাসখানেক হলো হাফেজ মাওলানা ফারহান নামের আরেকজন শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন। অধ্যক্ষ জানান, শিক্ষার্থীদের বেতন মাসে পাঁচ হাজার টাকা। এর মধ্যে থাকা–খাওয়া সব। তবে সবাই এত টাকা দিতে পারে না।
তাহলে চলছে কীভাবে? অধ্যক্ষ বলেন, ছাত্রদের বেতন থেকে কিছু আসে, আশপাশের মসজিদগুলো থেকে জুমার দিনে কিছু হাদিয়া আসে, স্থানীয় ধর্মপ্রাণ লেকেরা কিছু হাদিয়া দেন। আর তিনি নিজেও কিছু বিনিয়োগ করেছেন—এভাবেই চলে যাচ্ছে। মাদ্রাসার অবস্থানটি ভালো জায়গায়। আশা করছেন অল্প দিনেই ছাত্রসংখ্যা বাড়বে। তখন খরচ নিয়ে ভাবতে হবে না। মাদ্রাসার নাম ইন্টারন্যাশনাল কেন? বাইরে থেকে কেউ পড়তে আসবে বা কোনো সহায়তা? অধ্যক্ষ এ বিষয়ে কিছু বলতে অপারগতা জানান।
কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়নে ঘুরতে গিয়ে চোখ পড়ল প্রায় প্রতিটি সড়কে, পাড়া–মহল্লায় মাদ্রাসায় ছাত্র ভর্তির শত শত ব্যানার, সাইনবোর্ড ও দেয়াল লিখন। তারানগর ইউনিয়নের এই ঘাটারচরের আরশিনগর সড়কেই অন্তত ১৯টি মাদ্রাসা চোখে পড়েছে।
খুব ঘিঞ্জি এলাকায় আধা পাকা টিনের ছাপরা বা বসতবাড়ির একটি বা দুটি তলা ভাড়া নিয়ে চলছে মাদ্রাসাগুলো। কিছু মাদ্রাসা দেখা গেল বহুতল আবাসিক ভবনের মধ্যে একটি বা দুটি তলা ভাড়া নিয়ে চলছে। কিছু মাদ্রাসা আছে বাণিজ্যিক ভবনের দুটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে।
অধিকাংশ মাদ্রাসাতেই সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। শিক্ষক বা পরিচালনায় যুক্তরা কথা বলতে অস্বীকার করেন। এসব মাদ্রাসার জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট পাঠ্যক্রম নেই। ঘাটারচর এলাকার একটি মাদ্রাসার একজন শিক্ষক জানান, এই মাদ্রাসায় ছাত্র সংখ্যা সাড়ে তিন শ। তাদের নিজেদের পাঠ্যক্রম আছে। অধিকাংশ কওমি মাদ্রাসায় হিফজুল কোরআন শেখানো হয়। এ ছাড়া প্রাথমিক পর্যায়ে নাজেরা বিভাগে কোনো কোনো মাদ্রাসায় বোর্ডের বই থাকে।
আর কিতাব বিভাগে সাধারণত মাদ্রাসাগুলো নিজেরাই নিজেদের মতো পাঠ্যক্রম তৈরি করে নেয়। সাধারণত ভারতের উত্তর প্রদেশের দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসা, লক্ষ্ণৌয়ের নদওয়াতুল উলামা মাদ্রাসা, মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়, মিসরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানের পাঠ্যক্রম থেকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণির পাঠ্যক্রম তৈরি করা হয়।
মাদ্রাসা শিক্ষা শেষে কর্মজীবনে শিক্ষার্থীদের সুযোগ কেমন জানতে চাইলে ঘাটারচরের জামিয়াতুল উস্তাদ শহীদুল্লাহ ফজলুল বারী মাদ্রাসার হিফজুল কোরআন বিভাগের শিক্ষক হাফেজ মাওলানা আলাউদ্দিন বলেন, অধিকাংশ শিক্ষার্থী পাঠপর্ব শেষে মসজিদের ইমামতি করেন। অনেকে মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন, অনেকে ব্যবসা করেন।
অনেকে আরবি বইগুলোর অনুবাদকের কাজ করেন। যেমন তিনি নিজে শিক্ষকতা করছেন। কওমি মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষকদের বেতন খুব বেশি নয়। ৮ থেকে ১২ হাজার টাকার মতো। তবে বেতন নিয়ে তাঁরা ভাবিত নন। দীনের শিক্ষা দিচ্ছেন এটাই বড় মানসিক তৃপ্তি। তা ছাড়া অনেক পুরোনো শিক্ষার্থীরা ভালো কিছু করলে শিক্ষকদের হাদিয়া পাঠান, হাফেজরা রমজান মাসে তারাবি পড়ান, অনেকে ওয়াজ মাহফিলে বয়ান করেন এভাবেও কিছু আয় হয়।
অনুমোদনহীন ও নিয়ন্ত্রণহীন মাদ্রাসাগুলোর প্রতি নজরদারি করা দরকার বলে মনে করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদি হাসান। তিনি বলেন, ধর্মীয় শিক্ষার নামে এসব প্রতিষ্ঠানে জঙ্গিবাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে কি না, বা কী পড়ানো হচ্ছে তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা উচিত। কিন্তু মাদ্রাসা নিয়ন্ত্রণের জন্য কোনো নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ নেই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কওমি মাদ্রাসাগুলোর নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বেফাকুল মাদারেসুল আরাবিয়া বাংলাদেশ (বেফাক)-এর সভাপতি মাওলানা মাহমুদুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, সব মাদ্রাসা তাঁদের নিয়ন্ত্রণে নেই। যেসব মাদ্রায় অন্য ধরনের পাঠ্যক্রম আছে, ক্যাডেট মাদ্রাসা আছে, সেগুলোর সঙ্গে বেফাকের সম্পর্ক নেই। বেফাকের নিবন্ধনের জন্য নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হয়। কেউ আবেদন করলে তাঁরা যাচাই-বাছাই করেন।
মাদ্রাসাটি মানসম্মত হলে নিবন্ধন দেওয়া হয়। তবে অনুমোদনহীন মাদ্রাসা নিয়ন্ত্রণের অধিকার সরকারের আছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। কওমি মাদ্রাসার পাঠ্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা দেওবন্দের নেছাব অনুসরণ করে। অন্যরা কে কী পড়ায় সে বিষয়ে তাঁরা অবগত নন।
কেরানীগঞ্জের মাদ্রাসাগুলোয় খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীর অধিকাংশই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এসেছে। চর ওয়াশপুরের জামিয়া ইসলামিয়াতে পড়তে এসেছে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর ফয়জুল্লাহ।
বরিশালের উজিরপুর থেকে তাহফিজুল কারিম ইন্টান্যাশনাল মাদ্রাসায় পড়তে এসেছে জাহিদ হোসেন রিপন। শরীয়তপুরের সাকিবুল ইসলাম এসেছে জামিয়া সিরাজিয়া মাদ্রাসায়। তাদের সবাই মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই সচ্ছল পরিবারের।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ বললেন, অনেক পরিবার চায় তাদের সন্তানদের কেউ ধর্মীয় লাইনে পড়ালেখা করুক। সেই সূত্রে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এখানে শিক্ষার্থীরা আসে। তবে সব প্রতিষ্ঠানের মান ও পরিবেশ ভালো নয়। এগুলোর নিয়ন্ত্রণ থাকা প্রয়োজন।
ধর্মীয় বিষয়টি স্পর্শকাতর। তাই এসব প্রতিষ্ঠানের মান যথাযথ না হলেও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শক্ত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয় না। তবে যদি সরকারের একটি নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান থাকত, তাহলে তারা বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নিতে পারত।